সিলেট ১২:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬
News Title :
‎মৌসুমী শব্দ বিলুপ্ত ও রাজস্ব খাতে স্থায়ী করার দাবিতে ভূমিমন্ত্রীকে স্মারকলিপি প্রদান পরিবেশগত বিপর্যয়ের ঝুঁকিতে থাকা দেশের অন্যতম অঞ্চল হচ্ছে সিলেটঃ ভিসি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক গ্রামবাসীর উদ্যোগে ঐতিহাসিক মাকালকান্দি গণহত্যা দিবস পালন, ছিলনা এমপি ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মসূচি ‎গোয়াইনঘাটে মেছোবিড়াল পিটিয়ে হত্যা, ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগ হবিগঞ্জে বিক্ষোভের প্রস্তুতিকালে আটক, ২১ ঘণ্টা পর মুচলেকায় মুক্ত মাহদীসহ তিনজন ‎নবীগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রশিদের মৃত্যু, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন কুলাউড়ায় অগ্রণী উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের দেয়াল পত্রিকা প্রকাশ নবাগত ইউএনও’র সঙ্গে শান্তিগঞ্জ প্রেসক্লাবের মতবিনিময় ‎ছাতকে মোবাইল কোর্ট: চার প্রতিষ্ঠানকে ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা, পচা মাংস জব্দ জুড়ীতে হাকালুকি হাওরের মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ ও টেকসই উৎপাদন বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত‎

‎দোয়ারাবাজারে সমবায় সমিতি নিয়ে বিরোধ: সংবাদ সম্মেলনে চাঁদাবাজি ও জালিয়াতির অভিযোগ




‎সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার ‘বাংলাবাজার পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি’কে ঘিরে স্বাক্ষর জালিয়াতি ও চাঁদাবাজির অভিযোগে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

‎একদিকে সমিতির বৈধ কমিটির পক্ষ থেকে স্থানীয় বিএনপি নেতা মোর্শেদ আলমের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে, অন্যদিকে অভিযুক্ত এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেছেন।

‎রোববার (১৯ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের কিরণপাড়া গ্রামে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সমিতির নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, একটি প্রভাবশালী স্বার্থান্বেষী মহল দীর্ঘদিন ধরে সমিতির বৈধ কমিটির সদস্যদের নাম ব্যবহার করে ভুয়া নথি তৈরি ও স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে সাধারণ সদস্যদের বিভ্রান্ত করছে।

‎একই সঙ্গে কমিটির কার্যক্রম সচল রাখতে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়। লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, ওই মহলটি প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে সমিতির প্যাড ও কর্মকর্তাদের জাল স্বাক্ষর ব্যবহার করে ভুয়া অভিযোগ ও রেজুলেশন দাখিল করেছে। বৈধ কমিটির কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটাতে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে চাপ প্রয়োগ এবং চাঁদা দাবির অভিযোগও তোলা হয়। সমিতির সভাপতি নুরুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় বিএনপি নেতা মোর্শেদ আলমের নেতৃত্বে একটি গোষ্ঠী সমবায়ের নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে সমিতির সম্পদ ও তহবিল দখলের চেষ্টা করছে। তারা আমাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে এবং গত ১৬ এপ্রিল সমিতির কার্যালয়ের তালা ভেঙে দখল করে নেয়। বর্তমানে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি বলে তারা অভিযোগ করেন।

‎সমিতির সদস্য জোছনা বেগম ও আছিয়া বেগম অভিযোগ করে বলেন, প্রজেক্টের কথা বলে তাদের কাছ থেকে ভুয়া দস্তখত নেওয়া হয়েছে এবং পরে চাঁদা দাবি করা হয়েছে। চাঁদা না দেওয়ায় তারা এখন নানা ধরনের হয়রানি ও হুমকির শিকার হচ্ছেন।

‎অভিযুক্ত বিএনপি নেতা মোর্শেদ আলম এসব অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে বলেন, আমি সকলকে নিয়ে আলোচনা করে এবং সকল নিয়ম মেনে সমিতির কার্যক্রম পরিচালনা করেছি। আমার বিরুদ্ধে আনা চাঁদাবাজি বা অনিয়মের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত। কেউ যদি এসব অভিযোগের পক্ষে সামান্যতম প্রমাণ দিতে পারে, তাহলে আমি তাকে পুরস্কৃত করব এবং যেকোনো শাস্তি মাথা পেতে নেব। তিনি আরও দাবি করেন, একটি পক্ষ ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের জন্য তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে এবং প্রকৃত সত্য ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে।

‎সংবাদ সম্মেলনে সমিতির সাধারণ সদস্য ও স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বক্তারা অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‎মৌসুমী শব্দ বিলুপ্ত ও রাজস্ব খাতে স্থায়ী করার দাবিতে ভূমিমন্ত্রীকে স্মারকলিপি প্রদান

‎দোয়ারাবাজারে সমবায় সমিতি নিয়ে বিরোধ: সংবাদ সম্মেলনে চাঁদাবাজি ও জালিয়াতির অভিযোগ

সময় ০৫:০০:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬




‎সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার ‘বাংলাবাজার পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি’কে ঘিরে স্বাক্ষর জালিয়াতি ও চাঁদাবাজির অভিযোগে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

‎একদিকে সমিতির বৈধ কমিটির পক্ষ থেকে স্থানীয় বিএনপি নেতা মোর্শেদ আলমের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে, অন্যদিকে অভিযুক্ত এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেছেন।

‎রোববার (১৯ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের কিরণপাড়া গ্রামে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সমিতির নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, একটি প্রভাবশালী স্বার্থান্বেষী মহল দীর্ঘদিন ধরে সমিতির বৈধ কমিটির সদস্যদের নাম ব্যবহার করে ভুয়া নথি তৈরি ও স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে সাধারণ সদস্যদের বিভ্রান্ত করছে।

‎একই সঙ্গে কমিটির কার্যক্রম সচল রাখতে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়। লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, ওই মহলটি প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে সমিতির প্যাড ও কর্মকর্তাদের জাল স্বাক্ষর ব্যবহার করে ভুয়া অভিযোগ ও রেজুলেশন দাখিল করেছে। বৈধ কমিটির কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটাতে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে চাপ প্রয়োগ এবং চাঁদা দাবির অভিযোগও তোলা হয়। সমিতির সভাপতি নুরুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় বিএনপি নেতা মোর্শেদ আলমের নেতৃত্বে একটি গোষ্ঠী সমবায়ের নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে সমিতির সম্পদ ও তহবিল দখলের চেষ্টা করছে। তারা আমাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে এবং গত ১৬ এপ্রিল সমিতির কার্যালয়ের তালা ভেঙে দখল করে নেয়। বর্তমানে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি বলে তারা অভিযোগ করেন।

‎সমিতির সদস্য জোছনা বেগম ও আছিয়া বেগম অভিযোগ করে বলেন, প্রজেক্টের কথা বলে তাদের কাছ থেকে ভুয়া দস্তখত নেওয়া হয়েছে এবং পরে চাঁদা দাবি করা হয়েছে। চাঁদা না দেওয়ায় তারা এখন নানা ধরনের হয়রানি ও হুমকির শিকার হচ্ছেন।

‎অভিযুক্ত বিএনপি নেতা মোর্শেদ আলম এসব অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে বলেন, আমি সকলকে নিয়ে আলোচনা করে এবং সকল নিয়ম মেনে সমিতির কার্যক্রম পরিচালনা করেছি। আমার বিরুদ্ধে আনা চাঁদাবাজি বা অনিয়মের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত। কেউ যদি এসব অভিযোগের পক্ষে সামান্যতম প্রমাণ দিতে পারে, তাহলে আমি তাকে পুরস্কৃত করব এবং যেকোনো শাস্তি মাথা পেতে নেব। তিনি আরও দাবি করেন, একটি পক্ষ ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের জন্য তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে এবং প্রকৃত সত্য ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে।

‎সংবাদ সম্মেলনে সমিতির সাধারণ সদস্য ও স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বক্তারা অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।