
হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে ভাইদের সাথে সংঘর্ষের ঘটনায় আহত এক প্রবাসী ভাই’র সিলেট চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ছোট এক ভাই ও তার স্ত্রী গ্রেফতার করেছে।
এদিকে ভাইয়ের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে গ্রেফতার আতংকে বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন নিহতের আরও ৩ ভাই। অন্যদিকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল হাসপাতাল থেকে নিহতের ময়নাতদন্ত শেষে সন্ধ্যার পূর্ব মুহূর্তে মরদেহটি বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। এবং এশারের নামাজের পর জানাজা নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে নিহতের দাফন কাজ সম্পন্ন করার খবর পাওয়া গেছে।
অপরদিকে এই মৃত্যুকে ঘিরে এলাকাবাসীর মধ্যে চলছে নানান গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে,বানিয়াচং উপজেলা সদরের ৩নং দক্ষিণ পূর্ব ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের পাড়াগাঁও লস্কর হাঁটির মধ্যে। নিহত ব্যক্তি হলেন মৃত মাফিল লস্করের প্রবাসী পুত্র আজমান লস্কর (৬০)।
এলাকাবাসী ও থানা পুলিশ সূত্রে জানাযায়,নিহত আজমান লস্করের সাথে পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বছর খানেক পূর্ব থেকে তার আপন বড় দুই ভাই ফারুক লস্কর,জানু লস্কর ও ছোট্ট দুই ভাই তজুমুল লস্কর, রুফন লস্করের সাথে বিরোধ চলে আসছিলো।
এই বিরোধকে কেন্দ্র গত ১০ এপ্রিল ভাইদের সাথে সংঘর্ষের ঘটনায় আজমান লস্কর আহত হন বলে পরিবারের অভিযোগ। আহত অবস্থায় ১২এপ্রিল আজমান লস্করকে বানিয়াচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে রেফার করা হলে তাকে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তী করা হয়।
সেখানেও তার চিকিৎসার অবনতি ঘটলে তাকে এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
সেখানে ২দিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকার পর আজ ১৫এপ্রিল (বুধবার) তিনি মৃত্যু বরণ করেন।
পরে তার ময়নাতদন্ত শেষে আসরের আজানের সময় মরদেহটি বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।
এদিকে মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে বানিয়াচং থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শরীফ আহমেদ সহ একদল পুলিশ নিহতের বাড়িতে আসেন। এবং এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যেন পুনঃরায় আইনশৃঙ্খলার কোন অবনতি না ঘটে সেই লক্ষ্য এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করেন।

এছাড়াও নিহতের পরিবারের অভিযোগ সহ এলাকাবাসীর কাছ থেকে এই ঘটনার বিষয়ে আলাপ আলোচনা রেকর্ড আকারে লিপিবদ্ধ করেন বলে ইউপি সদস্য বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পরে থানা পুলিশ নিহত আজমান লস্করের ছোট্ট ভাই তজুমুল লস্কর (৫০) ও তার স্ত্রী রিতা বেগম (৪৫) কে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যান।
অপর ৩ ভাই ও তাদের পরিবারের লোকজন মৃত্যুর সংবাদ পাওয়ার পর পরই গ্রেফতার আতংকে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া যায়।
নিহতের পরিবারের লোকজন রাতে এশারের নামাজের পর লস্কর বাড়ি জামে মসজিদ মাঠে আজমান লস্করের জানাজা নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার মরদেহের দাফন কাজ সম্পন্ন করেন।
এদিকে নিহত আজমান লস্কর সম্পর্কে এলাকাবাসীর কাছ থেকে জানা যায়, তিনি প্রায় দুই বছর পূর্বে সৌদিআরবে (প্রবাসে) স্টোক করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এবং সেখানে তিনি ৩ মাস হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে আসেন।
এবং বাড়িতে এসেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ অবস্থায় ছিলেন বলে পরিবারের লোকজন জানান। তার ভাইদের সাথে সংঘর্ষ হওয়ার বিষয়টিও কেউ শুনেননি বলে জানিয়েছেন।
এছাড়াও তারা আলাদা বাড়িতে থাকার কারণে এলাকাবাসী এতোটা অবগত নন বলেও কেউ কেউ জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে ইউপি সদস্য রুমন মিয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান,প্রায় দেড় বছরের মতো হবে নিহতের ভাইদের সাথে পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে যে বিরোধ ছিল এটা নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
বানিয়াচং উপজেলা বিএনপির সভাপতি মুজিবুল হোসাইন মারুফ,বিএনপির সাবেক আহবায়ক আলহাজ্ব লুৎফুর রহমান,বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওয়ারিশ উদ্দিন খান সহ তিনি নিজে উপস্থিত থেকে এক শালিস বৈঠকের মাধ্যমে সার্ভেয়ার (আমিন) এনে মাপজোক করে সবার জায়গা জমি বুঝিয়ে দিয়ে তাদের বিষয়টি মিমাংসা করা হয়েছিলো। কিন্তু ইদানীং তাদের সংঘর্ষের বিষয়টি তার জানা নেই।
আজকে তার মৃত্যুর খবর পেয়ে এবং লাশ বাড়িতে আসার পর পরিবারের লোকজনের কাছ থেকে এমনটা শুনেছেন।
এ ব্যাপারে বানিয়াচং থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শরীফ আহমেদ এর সাথে রিপোর্ট লেখা কালীন সময়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি এর সত্যতা নিশ্চিত করে জানান,দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং এই ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এ আর রুমন, বানিয়াচং। 

















