
‘সব তীর্থ বারবার, পণতীর্থ একবার’—এই বিশ্বাসকে পাথেয় করে চৈত্র মাসের মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশী তিথিতে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী পণতীর্থে অনুষ্ঠিত হলো মহা বারুণী স্নান উৎসব। শনিবার ভোররাত থেকেই ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের লাউড়ের গড় সংলগ্ন যাদুকাটা নদীর তীরে দেশ-বিদেশের লক্ষাধিক সনাতন ধর্মাবলম্বী পুণ্যার্থীর ঢল নামে।
শাস্ত্রীয় নিয়ম মেনে নির্ধারিত লগ্ন শুরু হতেই ভক্তরা যাদুকাটা নদীর পবিত্র জলে ডুব দিয়ে পাপমুক্তির বাসনায় পুণ্যস্নান সারেন। ভোরের আলো ফোটার আগেই নদীর দুই তীর আবালবৃদ্ধবনিতার ভিড়ে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। স্নানের পর ভক্তরা নদীর তীরে তর্পণ করেন এবং পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তি কামনা করেন। অনেকে নদীর পাড়ে স্থাপিত অদ্বৈত আচার্য প্রভুর মন্দিরে পুজো দেন ও সংকীর্তনে অংশ নেন।

স্থানীয় জনশ্রুতি ও ধর্মীয় ইতিহাস অনুযায়ী, ১৫১৬ খ্রিস্টাব্দে শ্রীমান অদ্বৈত আচার্য প্রভু তাঁর মাতা নাভা দেবীর গঙ্গাস্নানের বাসনা পূর্ণ করতে এই স্থানে সপ্ত গঙ্গার জল এনেছিলেন। সেই থেকে বিশ্বাস করা হয় যে, এই বিশেষ তিথিতে যাদুকাটা নদীতে স্নান করলে পৃথিবীর সমস্ত তীর্থে স্নানের সমান পুণ্য লাভ হয়। এই কারণেই পণতীর্থকে সনাতন ধর্মে অত্যন্ত মহিমান্বিত তীর্থস্থান হিসেবে গণ্য করা হয়।
স্নান উৎসবকে কেন্দ্র করে যাদুকাটা নদীর তীরে বিশাল বারুণী মেলার আয়োজন করা হয়। মেলায় স্থানীয় হস্তশিল্প, মাটির আসবাবপত্র, খেলনা ও হরেক রকমের খাবারের দোকান বসে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা ভক্তদের কলরবে সমগ্র এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। সারা রাত ধরে মন্দিরগুলোতে কীর্তন ও ধর্মীয় আলোচনা চলে।
বিপুল সংখ্যক পুণ্যার্থীর সমাগম উপলক্ষে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশ, আনসার ও স্বেচ্ছাসেবক দল মোতায়েন ছিল। এছাড়া নদীর তীরে চিকিৎসাকেন্দ্র এবং স্যানিটেশনের ব্যবস্থাও করা হয়েছিল। স্নান ঘাটগুলো যাতে সুন্দর ও নিরাপদ থাকে, তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করে মন্দির কমিটি।
শান্ত কুমার ঘোষ। 

















