
”মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য, একটু সহানুভূতি কি মানুষ পেতে পারে না?”—ভূপেন হাজারিকার কালজয়ী এই গানের কথাগুলো যেন বাস্তবে প্রতিফলিত হচ্ছে টাঙ্গাইলের মধুপুরের আউশনারা ইউনিয়নের তরুণ যুবক হাবিব নিশোর জীবনে।
কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ ছাড়াই সাধারণ মানুষের সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে এলাকায় এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি।
স্থানীয়দের তথ্যমতে, হাবিব নিশো শুধু আউশনারা ইউনিয়নের নিজ ওয়ার্ডেই সীমাবদ্ধ নন, পুরো ইউনিয়নের মানুষের যেকোনো প্রয়োজনে সবার আগে এগিয়ে যান। তাকে সবসময় কাছে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। তার কাজের পরিধিও বেশ বিচিত্র এবং প্রশংসনীয়।
নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানোর মতো তিনি প্রতিনিয়ত রাস্তাঘাট পরিষ্কার করা, রাস্তার দুই পাশের ঝোপঝাড় ও জঙ্গল কেটে পথচারীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করার কাজ করে যাচ্ছেন। এমনকি গাছে চড়ে ডালপালা ছাঁটাই করা এবং রাস্তার ধারের অপরিচ্ছন্ন সাইনবোর্ডগুলো পরিষ্কার করতেও তাকে দেখা যায়।
এলাকার মানুষের অভিমত, হাবিব নিশো যেকোনো সমস্যায় নিজের সাধ্যমতো উপকার করার চেষ্টা করেন। তার কাজে কোনো রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত এজেন্ডা নেই। মানুষের প্রতি এই অকৃত্রিম ভালোবাসাই তাকে সবার কাছে জনপ্রিয় করে তুলেছে।
স্থানীয়রা বলছেন,আজকালকার তরুণরা যখন বিভিন্ন নেশা বা আড্ডায় মগ্ন থাকে, তখন নিশো ব্যস্ত থাকেন জনকল্যাণমূলক কাজে। তার মতো যুবক প্রতিটি গ্রামেই থাকা প্রয়োজন।
নিজের এই মানবিক কর্মকাণ্ড নিয়ে হাবিব নিশো বলেন, আমি আমার সামর্থ্য অনুযায়ী সব সময় মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করি। অতীতে যেভাবে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছি, শরীরে এক বিন্দু রক্ত থাকতে আমার বাকি জীবনটুকুও সেভাবেই মানুষের সেবায় কাটিয়ে দিতে চাই। মহান আল্লাহ পাক যেন আমাকে সব সময় মানুষের কল্যাণে কাজ করার তৌফিক দান করেন। আমি সবার কাছে দোয়া চাই।
নিশোর এই কার্যক্রম শুধু আউশনারা ইউনিয়নেই নয়, বরং আশেপাশের এলাকার যুবকদের জন্যও এক বড় অনুপ্রেরণা। কোনো উচ্চভিলাষী পদ বা ক্ষমতার মোহ ছাড়াই যে সমাজ পরিবর্তন করা সম্ভব, নিশো তার জীবন্ত প্রমাণ।
মো. রিপন, মধুপুর টাঙ্গাইল। 



















