
হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে আজিজুর রহমান নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে মসজিদে প্রবেশ ও নামাজ পড়তে নিষেধাজ্ঞা জারি করে এলাকায় প্রকাশ্যে মাইকিং করার ঘটনা ঘটেছে। একইসঙ্গে ওই যুবকের বিচারের দিন ধার্য করে বাজারে আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে। নজিরবিহীন এই ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে এবং সর্বত্র সমালোচনার ঝড় বইছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বেলা আড়াইটার দিকে বানিয়াচং উপজেলা সদরের বড়বাজার শহীদ মিনার এলাকাসহ বিভিন্ন পয়েন্টে মাইকিং করতে দেখা যায়। ৪নং দক্ষিণ পশ্চিম ইউনিয়নের যাত্রাপাশা মহল্লার আজিজুর রহমানের বিরুদ্ধে এই প্রচার চালানো হয়। মাইকিংয়ে জানানো হয়, আগামী ৯ জানুয়ারি (শুক্রবার) যাত্রাপাশা মোকাম হাঁটি মসজিদে ওই যুবকের বিচারের দিন ধার্য করা হয়েছে এবং তাকে মসজিদে নামাজ পড়তে নিষেধ করা হয়েছে।
মাইকিংকারী মোঃ মুনাফ মিয়া জানান, তাকে যেভাবে বলতে বলা হয়েছে তিনি সেভাবেই প্রচার করছেন। তবে আজিজুর রহমানের অপরাধ কী, তা তিনি স্পষ্ট করেননি। তিনি জানান, শুক্রবার বিচারের দিন উপস্থিত থাকলে সবাই তার অপরাধ সম্পর্কে জানতে পারবেন।
একজন মুসলিমকে মসজিদে প্রবেশে বাধা দেওয়ার সংবাদে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। স্বপন মিয়া নামের এক ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,সে যত বড় অপরাধই করুক না কেন, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল। এভাবে প্রকাশ্যে মাইকিং করা মানবাধিকার লঙ্ঘন ও আইনবিরোধী।
স্থানীয় এক আলেম জানান, ইসলামে কোনো মুসলমানকে মসজিদে নামাজ পড়তে বাধা দেওয়ার বিধান নেই। যারা এটি করছেন তারা ঠিক কাজ করছেন না।
বিষয়টিকে সরাসরি মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে দেখছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। হবিগঞ্জ জেলার সিনিয়র আইনজীবী এডভোকেট হাফিজুল ইসলাম ও এডভোকেট কুতুব উদ্দিন জুয়েল জানান, দেশের প্রচলিত আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন। কেউ অপরাধ করলে রাষ্ট্রীয় আইনের মাধ্যমে বিচার হবে। কিন্তু এভাবে মাইকিং করে মসজিদে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া এবং বিচার ডাকা আইনবহির্ভূত ও মানবাধিকারের পরিপন্থী। তারা এই ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ করে আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেন।
বর্তমানে এই ঘটনাটি নিয়ে বানিয়াচংয়ের হাট-বাজার ও চায়ের দোকানে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। সচেতন মহল মনে করছেন, দ্রুত এই বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
এ বিষয়ে জানতে বানিয়াচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা বেগম সাথীর সরকারি মুঠোফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এ আর রুমন, বানিয়াচং। 



















