
হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার বুল্লা ইউনিয়নে পাওনা টাকা চাওয়ায় মোছাঃ মমতাজ বেগম নামে এক গৃহবধূকে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা ও বসতবাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ইউপি সদস্য এবং তার ছেলের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মমতাজ বেগম গত ২৯ ডিসেম্বর লাখাই থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্তরা হলেন, লাখাই উপজেলার হেলারকান্দি গ্রামের মৃত মনছুর আলীর ছেলে ও ৬নং বুল্লা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের মেম্বার আবুল কাশেম (৫৫) এবং তার ছেলে তারেক মিয়া (২২)।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে মমতাজ বেগমের বোন স্বপ্না বেগমের কাছ থেকে ১ লক্ষ টাকার বিনিময়ে একটি জমি বন্ধক নেন মমতাজ বেগম। পরবর্তীতে টাকার প্রয়োজনে স্বপ্না বেগম ওই জমিটি ইউপি সদস্য আবুল কাশেমের কাছে ২ লক্ষ টাকায় বন্ধক রাখেন। চুক্তি অনুযায়ী, কাশেম মেম্বার নগদ ১ লক্ষ টাকা স্বপ্না বেগমকে প্রদান করেন এবং বাকি ১ লক্ষ টাকা মমতাজ বেগমকে (পূর্বের বন্ধক বাবদ পাওনা) পরিশোধ করার কথা ছিল।
ভুক্তভোগী মমতাজ বেগম জানান, ওই পাওনা টাকা আদায়ের জন্য তিনি দীর্ঘদিন ধরে আবুল কাশেমের কাছে ধরণা দিলেও তিনি আজ-কাল বলে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। গত ২১ ডিসেম্বর (রবিবার) দুপুরে মমতাজ বেগম পাওনা টাকা চাইতে আবুল কাশেমের কাছে গেলে তিনি প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত হন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে আবুল কাশেমের নির্দেশে তার ছেলে তারেক মিয়া দেশীয় অস্ত্র (দা) নিয়ে মমতাজ বেগমকে হত্যার উদ্দেশ্যে আক্রমণ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন। এসময় মমতাজ বেগমের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে তিনি প্রাণে রক্ষা পান। এরপর বিবাদীরা মমতাজ বেগমের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে লোহার রড ও রামদা দিয়ে বাড়িঘরে ভাঙচুর চালায় বলেও তিনি জানান!
মমতাজ বেগমের দাবি, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে বেড়াচ্ছেন যে, এ বিষয়ে মামলা বা সালিশ করলে তাকে ও তার সন্তানদের খুন করে লাশ গুম করে ফেলা হবে এবং বাড়িঘরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হবে! অভিযুক্ত তারেক মিয়ার বিরুদ্ধে এলাকায় মাদক ব্যবসার মাধ্যমে যুব সমাজ নষ্ট করারও অভিযোগও আনেন ভুক্তভোগী।
ভুক্তভোগীর আর্তনাদ তার স্বামী প্রবাসে থাকায় এবং সন্তানদের নিরাপত্তার কথা ভেবে বর্তমানে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন মমতাজ বেগম। তিনি বলেন, মেম্বার ও তার ছেলে প্রভাবশালী হওয়ায় তারা আইন-কানুন তোয়াক্কা করছে না। আমি এখন সন্তানদের নিয়ে ঘরে থাকার সাহস পাচ্ছি না। আমি প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
এ বিষয়ে লাখাই থানার অফিসার-ইনচার্জের (ওসি) নিকট আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন তিনি। এ ব্যাপারে তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই আখতার হোসেন জানান অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
লাখাই প্রতিনিধি। 


















