সিলেট ০৯:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
News Title :
‎ওসমানীনগরে পর্নোগ্রাফি মামলার প্রধান আসামি সাকিব গ্রেফতার; র‍্যাবের ঝটিকা অভিযান ‎সিলেটের গোয়াইনঘাটে ২৬ বোতল ইসকফসহ ২ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার‎ ‎মাধবপুরের শাহপুরে রাস্তা দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আহত ৪ ‎মাধবপুরে রাতের আঁধারে মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর, এলাকায় উত্তেজনা ‎টাঙ্গাইলে নদী উদ্ধার প্রকল্প নিয়ে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে হুমকি ও অপপ্রচার ‎বানিয়াচংয়ে ফুটবল খেলা নিয়ে বিরোধ: যুবককে কুপিয়ে হত্যা, এলাকায় উত্তেজনা। সিলেটে গোয়াইনঘাটে চাঞ্চল্যকর গণধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি ফরিদ মিয়া র‍্যাবের হাতে গ্রেফতার দক্ষিণ সুরমায় ৫ লক্ষ টাকার ভারতীয় ফুসকাসহ গ্রেফতার ২, কাভার্ডভ্যান জব্দ ‎ধনবাড়ীতে গাঁজার গাছসহ নারী গ্রেফতার,‎ স্বামী পলাতক! ‎​মৌলভীবাজারে ডাকাতির প্রস্তুতি পণ্ড: সর্দার রুবেলসহ গ্রেফতার ৩, অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার
নিয়মিত তদারকি না থাকায় ক্ষোভ স্থানীয়দের

‎শেরপুর ও আশপাশের বাজারে অস্বাস্থ্যকর‎স্ট্রিট ফুড বিক্রি,স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ভোক্তারা‎

রাস্তার পাশে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে এসব খাবার বিক্রি করা হচ্ছে।




‎মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুর ও আশপাশের বাজারে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খোলা অবস্থায় বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের স্ট্রিট ফুড। রাস্তার পাশে ধুলাবালির মাঝে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাখা সিঙ্গারা, সমুচা, পেঁয়াজু, চটপটি, ফুচকা, ঠান্ডা পানীয়সহ নানা খাবার প্রতিদিন কিনছেন শতশত ভোক্তা। বিক্রেতাদের দোকানগুলোতে খাবার ঢেকে রাখার ব্যবস্থা নেই—অনেক জায়গায় নোংরা বাসন, অপরিশোধিত পানি ও নোংরা কাঁচামাল ব্যবহারের দৃশ্যও চোখে পড়ে।

‎স্থানীয়রা জানান, সন্ধ্যা নামলেই বাজারের বিভিন্ন মোড়ে স্ট্রিট ফুডের দোকানগুলো জমে ওঠে। বিশেষ করে স্কুল–কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থী ও শ্রমজীবী মানুষের ভিড়ে বেশ জমজমাট থাকে এসব দোকান। কিন্তু অধিকাংশ বিক্রেতাই পরিবেশ–পরিষ্কার ও নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে উদাসীন। ফলে এসব খাবার খেয়ে অনেকেই আমাশয়, জন্ডিস, পেটব্যথা ও নানা জলবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

‎কথা হয় শেরপুর বাজারের ক্রেতা আব্দুল খালিক সঙ্গে। তিনি বলেন, খাবারের দাম কম বলে অনেকেই কিনে খায়। কিন্তু কয়েকবার খেয়ে অসুস্থ হয়েছিলাম। এরপর থেকে বাচ্চাদেরও সাবধান করি। আরেক অভিভাবক মুজিবুর রহমান জানান, স্কুল ছুটির পর আমার ছেলে নিয়মিত ফুচকা খায়। পরে পেটের সমস্যা দেখা দিয়েছে। কিন্তু বাজারে নিরাপদ খাবার পাওয়াই কঠিন।

‎অপরদিকে এক স্ট্রিট ফুড বিক্রেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমরা চেষ্টা করি পরিষ্কার রাখতে, কিন্তু রাস্তায় তো ধুলাবালি থাকেই। ঢেকে রাখলেও পুরোপুরি রক্ষা করা যায় না। আবার অনেকেই দামের কারণে ভালো উপকরণ ব্যবহার করতে চায় না।

‎এ বিষয়ে শেরপুরের এক স্থানীয় চিকিৎসক ডা. সুমন সূত্রধর বলেন,অস্বাস্থ্যকর খাবার থেকে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস সহজেই শরীরে প্রবেশ করতে পারে। জন্ডিস, আমাশা, ডায়রিয়া ও টাইফয়েডের মতো রোগের ঝুঁকি বেশি। শিশু ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে।

‎স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এমন অবস্থা চললেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত নজরদারি নেই। মাঝে মাঝে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হলেও তা ধারাবাহিক নয়। ফলে বিক্রেতারা স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে তেমন আগ্রহী নন।
‎নিরাপদ খাদ্য আইন বাস্তবায়ন ও ভোক্তার স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা। তারা বলেন, নিয়মিত মনিটরিং,খাবার ঢেকে বিক্রির বাধ্যবাধকতা, বিক্রেতাদের প্রশিক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন চালানো জরুরি।

‎এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস ব্যক্ত করা হয়েছে। তবে কবে নাগাদ কার্যকর উদ্যোগ আসবে সেটি জানতে অপেক্ষায় শেরপুরবাসী।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‎ওসমানীনগরে পর্নোগ্রাফি মামলার প্রধান আসামি সাকিব গ্রেফতার; র‍্যাবের ঝটিকা অভিযান

নিয়মিত তদারকি না থাকায় ক্ষোভ স্থানীয়দের

‎শেরপুর ও আশপাশের বাজারে অস্বাস্থ্যকর‎স্ট্রিট ফুড বিক্রি,স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ভোক্তারা‎

সময় ০৭:১৮:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫

রাস্তার পাশে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে এসব খাবার বিক্রি করা হচ্ছে।




‎মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুর ও আশপাশের বাজারে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খোলা অবস্থায় বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের স্ট্রিট ফুড। রাস্তার পাশে ধুলাবালির মাঝে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাখা সিঙ্গারা, সমুচা, পেঁয়াজু, চটপটি, ফুচকা, ঠান্ডা পানীয়সহ নানা খাবার প্রতিদিন কিনছেন শতশত ভোক্তা। বিক্রেতাদের দোকানগুলোতে খাবার ঢেকে রাখার ব্যবস্থা নেই—অনেক জায়গায় নোংরা বাসন, অপরিশোধিত পানি ও নোংরা কাঁচামাল ব্যবহারের দৃশ্যও চোখে পড়ে।

‎স্থানীয়রা জানান, সন্ধ্যা নামলেই বাজারের বিভিন্ন মোড়ে স্ট্রিট ফুডের দোকানগুলো জমে ওঠে। বিশেষ করে স্কুল–কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থী ও শ্রমজীবী মানুষের ভিড়ে বেশ জমজমাট থাকে এসব দোকান। কিন্তু অধিকাংশ বিক্রেতাই পরিবেশ–পরিষ্কার ও নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে উদাসীন। ফলে এসব খাবার খেয়ে অনেকেই আমাশয়, জন্ডিস, পেটব্যথা ও নানা জলবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

‎কথা হয় শেরপুর বাজারের ক্রেতা আব্দুল খালিক সঙ্গে। তিনি বলেন, খাবারের দাম কম বলে অনেকেই কিনে খায়। কিন্তু কয়েকবার খেয়ে অসুস্থ হয়েছিলাম। এরপর থেকে বাচ্চাদেরও সাবধান করি। আরেক অভিভাবক মুজিবুর রহমান জানান, স্কুল ছুটির পর আমার ছেলে নিয়মিত ফুচকা খায়। পরে পেটের সমস্যা দেখা দিয়েছে। কিন্তু বাজারে নিরাপদ খাবার পাওয়াই কঠিন।

‎অপরদিকে এক স্ট্রিট ফুড বিক্রেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমরা চেষ্টা করি পরিষ্কার রাখতে, কিন্তু রাস্তায় তো ধুলাবালি থাকেই। ঢেকে রাখলেও পুরোপুরি রক্ষা করা যায় না। আবার অনেকেই দামের কারণে ভালো উপকরণ ব্যবহার করতে চায় না।

‎এ বিষয়ে শেরপুরের এক স্থানীয় চিকিৎসক ডা. সুমন সূত্রধর বলেন,অস্বাস্থ্যকর খাবার থেকে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস সহজেই শরীরে প্রবেশ করতে পারে। জন্ডিস, আমাশা, ডায়রিয়া ও টাইফয়েডের মতো রোগের ঝুঁকি বেশি। শিশু ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে।

‎স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এমন অবস্থা চললেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত নজরদারি নেই। মাঝে মাঝে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হলেও তা ধারাবাহিক নয়। ফলে বিক্রেতারা স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে তেমন আগ্রহী নন।
‎নিরাপদ খাদ্য আইন বাস্তবায়ন ও ভোক্তার স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা। তারা বলেন, নিয়মিত মনিটরিং,খাবার ঢেকে বিক্রির বাধ্যবাধকতা, বিক্রেতাদের প্রশিক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন চালানো জরুরি।

‎এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস ব্যক্ত করা হয়েছে। তবে কবে নাগাদ কার্যকর উদ্যোগ আসবে সেটি জানতে অপেক্ষায় শেরপুরবাসী।