
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে একজন সাংবাদিকসহ পাঁচজনকে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকির অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মেসেঞ্জারে নামের তালিকা পাঠিয়ে এই ভয়ংকর হুমকি দেওয়া হয়। ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও তীব্র উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
এ ঘটনায় রবিবার (২১ ডিসেম্বর) রাতে শ্রীমঙ্গল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। জিডি নম্বর—১১৬৩।
হুমকির শিকার ব্যক্তিরা হলেন, শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ ও দৈনিক খোলা কাগজ পত্রিকার মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক মো. এহসানুল হক (এহসান বিন মুজাহির), বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শ্রীমঙ্গলের প্রথম সারির যোদ্ধা ও ইসলামী ছাত্র ঐক্য পরিষদ শ্রীমঙ্গলের আহ্বায়ক মো. মুজাহিদুল ইসলাম, মৌলভীবাজার জেলা এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক নিলয় রশিদ, ইসলামী ছাত্র ঐক্য পরিষদ শ্রীমঙ্গলের আহ্বায়ক নাঈম হাসান এবং জেলা এনসিপির সদস্য হায়দার আলী।
জিডির বর্ণনা অনুযায়ী, রবিবার দুপুর ১টা ২৯ মিনিটে ‘নো ক্যাপশন’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে মো. মুজাহিদুল ইসলামের মেসেঞ্জারে হত্যার হুমকি পাঠানো হয়। বার্তায় একাধিক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে হত্যার পর লাশ গুম করার কথাও বলা হয়।
হুমকির বিষয়ে মো. মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমাদের বিরুদ্ধে ফেসবুক আইডি, মেসেঞ্জার ও কমেন্টের মাধ্যমে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এই হুমকি যে কোনো সময় বাস্তবে রূপ নিতে পারে এমন আশঙ্কা করছি।
সাংবাদিক এহসান বিন মুজাহির বলেন,
আমি অনিয়ম, দুর্নীতি ও মাদকের বিরুদ্ধে পেশাদারিত্বের সঙ্গে সংবাদ প্রকাশ করে আসছি। এসব সংবাদের জেরে একাধিকবার হুমকি ও হামলার চেষ্টা হয়েছে। নতুন করে হত্যার হুমকিতে আমি ও আমার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি।
ঘটনার নিন্দা জানিয়ে শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুল হাই ডন ও সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন আরাফাত রবিন বলেন, “এটি শুধু একজন সাংবাদিক নয়, স্বাধীন গণমাধ্যম ও আইনশৃঙ্খলার ওপর সরাসরি হুমকি। অবিলম্বে হুমকিদাতাদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, সাধারণ ডায়েরি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য ও স্ক্রিনশট যাচাই করে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি 


















