সিলেট ১০:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
News Title :
হরষপুর পুলিশ ফাঁড়িতে ‘হুমকি’ অভিযোগ মিথ্যা-আলফাজ মহলদারের প্রতিবাদ ‎নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সুবিপ্রবি পূর্ব নির্ধারিত স্থানেই হবে : এমপি কয়ছর‎ হবিগঞ্জে ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচির উদ্বোধন ‎চুনারুঘাটে নদীভাঙন প্রতিরোধক জিও ব্যাগ কাজের উদ্বোধন করলেন জেলা প্রশাসক ড. জি. এম. সরফরাজ ‎চুনারুঘাটে খোয়াই নদীতে গোসল করতে গিয়ে এক  বৃদ্ধ নিখোঁজ ‎শান্তিগঞ্জে অনলাইন জুয়া চক্রের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার : সাইবার সুরাক্ষা আইনে মামলা দায়ের জামালপুরে ৪২ কেজি গাঁজাসহ ২ নারী মাদক কারবারী গ্রেপ্তার ‎মৌলভীবাজারে ১৭ জুন তারেক রহমানের জনসভা: ভেন্যু পরিবর্তন,গভ.স্কুল মাঠে প্রস্তুতি শুরু বানিয়াচংয়ে জমকালো আয়োজনে স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট ও ইনোভেশন শোকেসিং প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত‎ ‎ক্লুলেস সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার রহস্য উদঘাটন, দুই আসামি গ্রেফতার

ক্ষতিপূরণ ছাড়া সড়ক ও জনপথের কাজ, শেরপুর নতুন বাজারে উন্নয়নের নামে ব্যবসায়ী নিপীড়ন!





‎সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার শেরপুর নতুন বাজার এলাকায় ক্ষতিপূরণ প্রদান না করেই সড়ক ও জনপথ (সড়ক ও জনপথ) বিভাগের সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন কাজ চালিয়ে যাওয়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
‎ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা একে উন্নয়নের নামে নির্লজ্জ নিপীড়ন আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে ক্ষতিপূরণ প্রদান না করলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
‎স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওসমানীনগরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র শেরপুর নতুন বাজারকে ঘিরে শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব ব্যবসার ওপর নির্ভর করে অসংখ্য পরিবার জীবিকা নির্বাহ করে। সম্প্রতি সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতায় বাজারসংলগ্ন সড়ক প্রশস্তকরণ কাজ শুরু হলেও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা, লিখিত নোটিশ কিংবা ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ ছাড়াই দোকানের সামনের অংশ ভেঙে ফেলা হচ্ছে!

ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে বলেন, দোকানের কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ব্যবসা কার্যক্রম প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। অনেক ব্যবসায়ী দোকান খুললেও ক্রেতা না থাকায় লোকসানের মুখে পড়ছেন। অথচ বারবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করেও কোনো সুরাহা পাওয়া যাচ্ছে না।

‎এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী প্রতিবাদ সভায় অংশ নেন। সভায় বক্তব্য রাখেন শাহ্ ইয়াহইয়া, তোফায়েল আহমদ, সৈয়দ হুমায়ুন বখত, শামীম মুনিম, সৈয়দ হুমায়েল আহমদ, শাহ ইসমাইল আলী (বর্তমান মেম্বার), মৌলানা ইসলামুল হক শেরপুরী, আশরাফ উদ্দিন (অপু), আব্দুর রহমানসহ আরও অনেকে।

‎বক্তারা বলেন, উন্নয়ন যদি জনগণের সর্বনাশ ডেকে আনে, তবে সে উন্নয়ন আমরা মানি না। ক্ষতিপূরণ ছাড়া একটি ইটও ভাঙতে দেওয়া হবে না। তারা অভিযোগ করেন, কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বহীনতার কারণে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ পথে বসার উপক্রম হয়েছে।

‎স্থানীয় জনপ্রতিনিধি শাহ ইসমাইল আলী বলেন, জনগণের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত না করে উন্নয়ন কাজ চালানো সম্পূর্ণ বেআইনি ও অমানবিক। তিনি দ্রুত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
‎মৌলানা ইসলামুল হক শেরপুরী বলেন, “ইসলাম অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে শেখায়। ক্ষতিপূরণ ছাড়া মানুষের রুজি-রোজগার ধ্বংস করা চরম অন্যায়। তিনি প্রয়োজনে বৃহত্তর আন্দোলনের আহ্বান জানান।
‎বক্তারা আরও বলেন, বাজার এলাকায় অপরিকল্পিত কাজের ফলে ভয়াবহ ধুলাবালি, যানজট ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে বলে তারা সতর্ক করেন।

‎প্রতিবাদকারীরা স্পষ্ট ভাষায় জানান, অবিলম্বে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ প্রদান, কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং জনদুর্ভোগ কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে তারা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির পাশাপাশি প্রয়োজনে কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন।

‎এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের স্থানীয় কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।



ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হরষপুর পুলিশ ফাঁড়িতে ‘হুমকি’ অভিযোগ মিথ্যা-আলফাজ মহলদারের প্রতিবাদ

ক্ষতিপূরণ ছাড়া সড়ক ও জনপথের কাজ, শেরপুর নতুন বাজারে উন্নয়নের নামে ব্যবসায়ী নিপীড়ন!

সময় ০৫:০১:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫





‎সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার শেরপুর নতুন বাজার এলাকায় ক্ষতিপূরণ প্রদান না করেই সড়ক ও জনপথ (সড়ক ও জনপথ) বিভাগের সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন কাজ চালিয়ে যাওয়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
‎ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা একে উন্নয়নের নামে নির্লজ্জ নিপীড়ন আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে ক্ষতিপূরণ প্রদান না করলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
‎স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওসমানীনগরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র শেরপুর নতুন বাজারকে ঘিরে শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব ব্যবসার ওপর নির্ভর করে অসংখ্য পরিবার জীবিকা নির্বাহ করে। সম্প্রতি সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতায় বাজারসংলগ্ন সড়ক প্রশস্তকরণ কাজ শুরু হলেও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা, লিখিত নোটিশ কিংবা ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ ছাড়াই দোকানের সামনের অংশ ভেঙে ফেলা হচ্ছে!

ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে বলেন, দোকানের কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ব্যবসা কার্যক্রম প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। অনেক ব্যবসায়ী দোকান খুললেও ক্রেতা না থাকায় লোকসানের মুখে পড়ছেন। অথচ বারবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করেও কোনো সুরাহা পাওয়া যাচ্ছে না।

‎এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী প্রতিবাদ সভায় অংশ নেন। সভায় বক্তব্য রাখেন শাহ্ ইয়াহইয়া, তোফায়েল আহমদ, সৈয়দ হুমায়ুন বখত, শামীম মুনিম, সৈয়দ হুমায়েল আহমদ, শাহ ইসমাইল আলী (বর্তমান মেম্বার), মৌলানা ইসলামুল হক শেরপুরী, আশরাফ উদ্দিন (অপু), আব্দুর রহমানসহ আরও অনেকে।

‎বক্তারা বলেন, উন্নয়ন যদি জনগণের সর্বনাশ ডেকে আনে, তবে সে উন্নয়ন আমরা মানি না। ক্ষতিপূরণ ছাড়া একটি ইটও ভাঙতে দেওয়া হবে না। তারা অভিযোগ করেন, কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বহীনতার কারণে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ পথে বসার উপক্রম হয়েছে।

‎স্থানীয় জনপ্রতিনিধি শাহ ইসমাইল আলী বলেন, জনগণের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত না করে উন্নয়ন কাজ চালানো সম্পূর্ণ বেআইনি ও অমানবিক। তিনি দ্রুত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
‎মৌলানা ইসলামুল হক শেরপুরী বলেন, “ইসলাম অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে শেখায়। ক্ষতিপূরণ ছাড়া মানুষের রুজি-রোজগার ধ্বংস করা চরম অন্যায়। তিনি প্রয়োজনে বৃহত্তর আন্দোলনের আহ্বান জানান।
‎বক্তারা আরও বলেন, বাজার এলাকায় অপরিকল্পিত কাজের ফলে ভয়াবহ ধুলাবালি, যানজট ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে বলে তারা সতর্ক করেন।

‎প্রতিবাদকারীরা স্পষ্ট ভাষায় জানান, অবিলম্বে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ প্রদান, কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং জনদুর্ভোগ কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে তারা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির পাশাপাশি প্রয়োজনে কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন।

‎এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের স্থানীয় কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।