
বানিয়াচঙ্গের বৃক্ষপ্রেমিক সাবেক চেয়ারম্যান হাজী আব্দুছ ছত্তারের ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ বৃহস্পতিবার। একাত্তর সনের দক্ষিণ বানিয়াচঙ্গ সংগ্রাম কমিটির সভাপতি ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক এবং মহাগ্রাম বানিয়াচং সদরের বিলুপ্ত ২নং যাত্রাপাশা (বর্তমান ৩নং ও ৪নং) ইউ.পি’র সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আব্দুছ ছত্তার (হাজী সাহেব) এর ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ বৃহস্পতিবার।
এ উপলক্ষে মরহুমের হবিগঞ্জ শহরস্থ বাসায় ও গ্রামের বাড়ী বানিয়াচঙ্গে কবর জিয়ারত ও দোয়া মাহফিল এবং বনমথুরা মাদ্রাসায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, হাফেজদেরকে পোশাক বিতরণ করা হয়। স্পষ্টভাষী হাজী আব্দুছ ছত্তার বৃটিশ বিরোধী আন্দোলন ও রেফারেন্ডামে ছিলেন অত্যন্ত সক্রিয়। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন তিনি সুনামগঞ্জের ব্যালাট ও টাকেরঘাট সাব-সেক্টরে সংগঠকের প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেছিলেন।
পঞ্চাশের দশকে তিনি নিজ বাড়ীতে যাত্রাপাশা প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। স্বাধীনতার পর বানিয়াচং গার্লস হাই স্কুল ও পরবর্তীতে ডাঃ ইলিয়াস এডাডেমি প্রতিষ্ঠায় মূখ্য ভূমিকা রাখেন।
জনাব আলী কলেজ প্রতিষ্ঠায় তার অবদান কিংবদন্তিতুল্য। তিনি দীর্ঘদিন বানিয়াচং এল আর হাই স্কুলের গভর্নিং বডির সদস্য ছিলেন।
তিনি বানিয়াচঙ্গ অঞ্চলে বৃক্ষরোপনে বিপ্লব ঘটিয়ে অনুকরণীয় ও অনুসরনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন। যাহা এখনও বিভিন্ন সড়ক ও প্রতিষ্ঠানে দৃশ্যমান রয়েছে। তিনি জনগণকে ছেলে বা মেয়ে হলে দু’টি কড়ইগাছ রোপনে উদ্বুদ্ধ করতেন। এমনকি নিজে মানুষের বাড়ী বাড়ী গিয়ে বৃক্ষরোপন করে দিতেন। জনপ্রতিনিধি থাকাকালীন ট্যাক্স প্রদানে উৎসাহিত করার জন্য নিজেই মানুষের বাড়ীতে কলাগাছ রোপন করে দেওয়া ছিল তাহার নেশা।
উল্লেখ্য, সাবেক ব্যাংকার আব্দুল মালেক এজাজ ও ফ্রিল্যান্স-সাংবাদিক, সাবেক চেয়ারম্যান, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী মমিন এর পিতা মরহুম হাজী আব্দুছ ছত্তার ১৯৯৫ ইং সনে হবিগঞ্জ শহরের বাণিজ্যিক এলাকাস্থ “উত্তরা কমপ্লেক্স” নিজ বাসভবনে সকাল ৭ টায় মৃত্যুবরণ করেন
বানিয়াচং প্রতিনিধি। 


















