সিলেট ০১:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
News Title :
বানিয়াচংয়ে জমকালো আয়োজনে স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট ও ইনোভেশন শোকেসিং প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত‎ ‎ক্লুলেস সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার রহস্য উদঘাটন, দুই আসামি গ্রেফতার ‎নবীগঞ্জের একমাত্র আসামি তুহিন সিলেট থেকে গ্রেফতার ‎লাখাইয়ে কর্মকর্তা সাংবাদিক  মুক্তিযোদ্ধা সহ সুশীল সমাজের সাথে মতবিনিময় করেন জেলা প্রশাসক। ‎জামালপুরের দিগপাইতে ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার: হত্যা নাকি আত্মহত্যা এ নিয়ে রহস্য!‎ ‎জামালপুরে গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে  পরিকল্পনা প্রণয়ন বিষয়ক কর্মশালা  ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রামু থেকে নিখোঁজ কলেজছাত্রী টাঙ্গাইলে উদ্ধার চুনারুঘাটে মাদকবিরোধী যৌথ অভিযান: নারীকে ৬ মাসের কারাদণ্ড, জরিমানা ‎সখিপুর পৌরসভায় ৩নং ওয়ার্ডে টানা বিদ্যুৎ বিপর্যয়: চরম ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ জামালপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাঠ পর্যায়ের কৃষি উন্নয়নমূলক ও মানবিক কার্যক্রম পরিদর্শন

‎মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল: সেবার আশায় অসহায় মানুষের দীর্ঘশ্বাস!

হাসপাতালে রোগীদের দীর্ঘ লাইন।





‎হাসপাতালের সামনে লম্বা লাইন। কেউ প্রেসক্রিপশন হাতে, কেউ সন্তানকে কোলে নিয়ে অপেক্ষায়। ভেতরে জায়গা নেই—বাইরে বেঞ্চেও জায়গা নেই। তবুও সবাই দাঁড়িয়ে আছে একটুখানি চিকিৎসা পাওয়ার আশায়।
‎এটি মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে মঙ্গলবার  সকালের দৃশ্য।

‎এত বড় সরকারি হাসপাতাল থাকা সত্ত্বেও আজও সাধারণ মানুষ চিকিৎসার অভাবে কষ্ট পাচ্ছে। হাসপাতালের দেয়ালে ঝুলছে আধুনিক সরঞ্জামের তালিকা, কিন্তু বাস্তবে সেই সরঞ্জামের বেশিরভাগই অচল কিংবা ব্যবহার হয় না। একজন বৃদ্ধা বলেন, “মেশিন আছে, কিন্তু চালায় কে?”

‎হাসপাতালের ভেতরে ঢুকলেই নাকে আসে তীব্র দুর্গন্ধ। করিডোরে ময়লার স্তূপ, বাথরুমে পানি নেই, আর ওয়ার্ডে ছুটে বেড়াচ্ছে বিড়াল-ইঁদুর। এমন পরিবেশে রোগীরা কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। এক রোগীর স্বজন বলেন,“এখানে রোগী সুস্থ হয় না, আরও অসুস্থ হয়ে যায়।”

‎পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সংখ্যা থাকলেও, কাজের তদারকি নেই বললেই চলে।

‎রোগীদের খাবার বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও অনেকে বলেন, খাবার কখনো ঠিকভাবে আসে না। কোনো দিন ডিম থাকে না, কোনো দিন ভাত-পানি খাওয়ার উপযোগী নয়। অনেকে মুচকি হেসে বলেন, “খাবার কাগজে খাওয়া হয়ে গেছে!”

‎রোগীরা অভিযোগ করেন, হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে প্রথমেই পড়তে হয় কাগজপত্র, ফরম, সিরিয়াল ও ফি-এর জটিলতায়। বুক ব্যথা, মাথা ঘোরা কিংবা শিশুর জ্বর—সবকিছুর জন্যই অপেক্ষা। কারও কেউ না থাকলে, তার ভাগ্যে অপেক্ষা নয়তো শোকবার্তা।

‎একজন যুবক বলেন, “সরকারি চিকিৎসা ভালো, কিন্তু তা সবার জন্য নয়—যাদের পরিচয় বা প্রভাব আছে, তারা দ্রুত সেবা পান।”

‎হাসপাতালের একাধিক যন্ত্রপাতি বছরের পর বছর অচল পড়ে আছে। কিন্তু সেগুলো মেরামত বা প্রতিস্থাপনের উদ্যোগ নেই। অনেকে বলেন, “অচল যন্ত্রে তালা, আর তালার চাবি কারও কাছে নেই।”

‎মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন অফিসের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,“হাসপাতালে জনবল ও যন্ত্রপাতি সংকট আছে। কিছু সরঞ্জাম মেরামতের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। আমরা সেবার মান উন্নয়নে কাজ করছি।”

‎তবে রোগী ও স্বজনদের মতে, “প্রক্রিয়া” শব্দটি এখন কষ্টের প্রতীক। কারণ বছরের পর বছর সেই প্রক্রিয়া শেষ হয় না।

‎মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল একসময় জেলার মানুষের আস্থার জায়গা ছিল। এখন সেটি পরিণত হয়েছে হতাশার প্রতীকে। তবুও প্রতিদিন শত শত মানুষ আসে—আশায়, হয়তো আজ একটু সেবা মিলবে।

‎সরকারি চিকিৎসা সেবা মানুষের অধিকার। কিন্তু মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে সেই অধিকার এখন একরাশ কাগজ, ফরম আর অভিযোগের ফাইলে বন্দী। “নিরাপদ চিকিৎসা চাই”—এই আহ্বান আজ শুধু স্লোগান নয়, এটি মানুষের বেঁচে থাকার আকুতি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বানিয়াচংয়ে জমকালো আয়োজনে স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট ও ইনোভেশন শোকেসিং প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত‎

‎মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল: সেবার আশায় অসহায় মানুষের দীর্ঘশ্বাস!

সময় ০১:২৪:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর ২০২৫

হাসপাতালে রোগীদের দীর্ঘ লাইন।





‎হাসপাতালের সামনে লম্বা লাইন। কেউ প্রেসক্রিপশন হাতে, কেউ সন্তানকে কোলে নিয়ে অপেক্ষায়। ভেতরে জায়গা নেই—বাইরে বেঞ্চেও জায়গা নেই। তবুও সবাই দাঁড়িয়ে আছে একটুখানি চিকিৎসা পাওয়ার আশায়।
‎এটি মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে মঙ্গলবার  সকালের দৃশ্য।

‎এত বড় সরকারি হাসপাতাল থাকা সত্ত্বেও আজও সাধারণ মানুষ চিকিৎসার অভাবে কষ্ট পাচ্ছে। হাসপাতালের দেয়ালে ঝুলছে আধুনিক সরঞ্জামের তালিকা, কিন্তু বাস্তবে সেই সরঞ্জামের বেশিরভাগই অচল কিংবা ব্যবহার হয় না। একজন বৃদ্ধা বলেন, “মেশিন আছে, কিন্তু চালায় কে?”

‎হাসপাতালের ভেতরে ঢুকলেই নাকে আসে তীব্র দুর্গন্ধ। করিডোরে ময়লার স্তূপ, বাথরুমে পানি নেই, আর ওয়ার্ডে ছুটে বেড়াচ্ছে বিড়াল-ইঁদুর। এমন পরিবেশে রোগীরা কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। এক রোগীর স্বজন বলেন,“এখানে রোগী সুস্থ হয় না, আরও অসুস্থ হয়ে যায়।”

‎পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সংখ্যা থাকলেও, কাজের তদারকি নেই বললেই চলে।

‎রোগীদের খাবার বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও অনেকে বলেন, খাবার কখনো ঠিকভাবে আসে না। কোনো দিন ডিম থাকে না, কোনো দিন ভাত-পানি খাওয়ার উপযোগী নয়। অনেকে মুচকি হেসে বলেন, “খাবার কাগজে খাওয়া হয়ে গেছে!”

‎রোগীরা অভিযোগ করেন, হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে প্রথমেই পড়তে হয় কাগজপত্র, ফরম, সিরিয়াল ও ফি-এর জটিলতায়। বুক ব্যথা, মাথা ঘোরা কিংবা শিশুর জ্বর—সবকিছুর জন্যই অপেক্ষা। কারও কেউ না থাকলে, তার ভাগ্যে অপেক্ষা নয়তো শোকবার্তা।

‎একজন যুবক বলেন, “সরকারি চিকিৎসা ভালো, কিন্তু তা সবার জন্য নয়—যাদের পরিচয় বা প্রভাব আছে, তারা দ্রুত সেবা পান।”

‎হাসপাতালের একাধিক যন্ত্রপাতি বছরের পর বছর অচল পড়ে আছে। কিন্তু সেগুলো মেরামত বা প্রতিস্থাপনের উদ্যোগ নেই। অনেকে বলেন, “অচল যন্ত্রে তালা, আর তালার চাবি কারও কাছে নেই।”

‎মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন অফিসের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,“হাসপাতালে জনবল ও যন্ত্রপাতি সংকট আছে। কিছু সরঞ্জাম মেরামতের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। আমরা সেবার মান উন্নয়নে কাজ করছি।”

‎তবে রোগী ও স্বজনদের মতে, “প্রক্রিয়া” শব্দটি এখন কষ্টের প্রতীক। কারণ বছরের পর বছর সেই প্রক্রিয়া শেষ হয় না।

‎মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল একসময় জেলার মানুষের আস্থার জায়গা ছিল। এখন সেটি পরিণত হয়েছে হতাশার প্রতীকে। তবুও প্রতিদিন শত শত মানুষ আসে—আশায়, হয়তো আজ একটু সেবা মিলবে।

‎সরকারি চিকিৎসা সেবা মানুষের অধিকার। কিন্তু মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে সেই অধিকার এখন একরাশ কাগজ, ফরম আর অভিযোগের ফাইলে বন্দী। “নিরাপদ চিকিৎসা চাই”—এই আহ্বান আজ শুধু স্লোগান নয়, এটি মানুষের বেঁচে থাকার আকুতি।