রুহুল আমিন

এইচ.এস.সি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে।
সত্যি বলতে—কোনো বোর্ডের ফলাফলই খুব একটা সন্তোষজনক নয়।
অনেকে বলছেন, “এটাই নাকি সত্যিকারের ফলাফল।”আমি সেই বিশ্লেষণে যাচ্ছি না।
কিন্তু প্রশ্ন একটাই—এতগুলো ছেলে-মেয়ে ফেল করল কেন? দায়টা কার?
আমার দৃষ্টিতে, এর প্রথম দায় বর্তায়—
সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানের উপর,ব্যবস্থাপনা কমিটির উপর,শিক্ষক সমাজের উপর, এবং অভিভাবকদের উপর। এই দায় কেউ এড়িয়ে যেতে পারেন না।
আমাদের সন্তানরা ব্যর্থ হচ্ছে কারণ—
১।মোবাইলের অতিরিক্ত ব্যবহার,
২।কলেজে অনিয়মিত উপস্থিতি,
৩। অদক্ষ বা অপ্রশিক্ষিত শিক্ষকের কাছে কোচিং করা,
৪। কিশোর গ্যাং-এ জড়িয়ে পড়া,
৫। অল্প বয়সে ছাত্ররাজনীতিতে নামা—
এসব বাস্তব কারণগুলোর জন্যও তারা পিছিয়ে যাচ্ছে।
তবু আমি তাদের সম্পূর্ণ দোষ দিতে পারি না।
কারণ, তারা এখনো কিশোর—প্রভাবিত হয়, অনুসরণ করে। বন্ধুদের যা করতে দেখে, সেও তাই করে। তাদের দরকার ছিল—গাইডেন্স আর কাউন্সেলিং। যা এখনকার সময়ে একেবারে অপরিহার্য। একজন প্রতিষ্ঠানপ্রধান যেন এক নৌকার মাঝি,তিনি যেদিকে নৌকা চালাবেন, সেটাই হবে গন্তব্য।
কিন্তু দুঃখের বিষয়—
আজ অনেক শিক্ষক শুধু পাঠ্যবিষয় শেষ করলেই নিজের দায়িত্ব শেষ মনে করেন। শিক্ষার্থীর ভেতর নীতিবোধ, সময়নিষ্ঠা, সততা, ধর্মীয় মূল্যবোধ, আদর্শ ও মানবিকতা গড়ে তোলার দায়িত্ব যেন কেউ নিচ্ছেন না।
অভিভাবকদের অবস্থাও ভেবে দেখার মতো—
সন্তানকে একদিন স্কুলে ভর্তি করিয়ে অনেকেই দায়িত্ব শেষ মনে করেন।
সন্তানের খবর রাখেন না, শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন না। আবার কেউ কেউ ‘ইগো’-তে ভোগেন—“আমি কেন শিক্ষককে ফোন করব?” কিছু পরিবারে বাবা-মা নিজেদের দ্বন্দ্বে এমনই ব্যস্ত যে, তার ধাক্কা সোজা গিয়ে লাগে সন্তানের মনে।
পরিশেষে বলতে চাই—
এই বিশাল সংখ্যক অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের নিয়ে এখনই ভাবতে হবে। প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, প্রতিটি অভিভাবক, নিজ নিজ জায়গা থেকে উদ্যোগ নিতে হবে।
এই ছেলেমেয়েগুলো যেন ঝরে না পড়ে, ভবিষ্যতে যেন কর্মহীন বা হতাশ না হয়,এখনই সময় বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেওয়ার।
কারণ,একটি ব্যর্থ শিক্ষার্থী মানে একটি হারিয়ে যাওয়া স্বপ্ন। আর একটি ব্যর্থ প্রজন্ম মানে—একটি ব্যর্থ জাতি।
লেখক- শিক্ষক ও সমাজকর্মী।
মন্তব্য প্রতিবেদন। 


















