
টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) আসনে বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশী, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল আসাদুল ইসলাম আজাদ বলেছেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যোগ্য ও স্থানীয় প্রার্থীকেই আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন দেবেন।
তিনি উল্লেখ করেন, বিগত প্রায় ৪৪ বছর ধরে এই আসনে বিএনপি জয়লাভ করতে পারেনি, যার মূল কারণ হিসেবে তিনি স্থানীয় প্রার্থী না দেওয়াকেই দায়ী করেন। কর্নেল আজাদ আশা প্রকাশ করেন, আগামীতে স্থানীয় কোনো প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হলে জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়ে বিএনপিকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করবে।
গত বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) রাতে টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার কুড়াগাছা ইউনিয়নের শিমলাপাড়া ও ছালাম বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কর্নেল আজাদ সমর্থক বিএনপি নেতা-কর্মীদের আয়োজনে এক মতবিনিময়সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কর্নেল আজাদ আরও বলেন, দলের হাইকমান্ড প্রার্থীর ইমেজ, ভোটের সংখ্যা, গোয়েন্দা রিপোর্ট এবং বিশেষ করে এই আসনের জনগণের রায় বিবেচনা করে মনোনয়ন চূড়ান্ত করবে। তিনি নেতা-কর্মীদের আশ্বস্ত করে বলেন, তিনি এমপি হন বা না হন, সবসময়ই জনগণের সঙ্গে থাকবেন। যদি আগামী নির্বাচনে তারেক রহমান তাঁকে মনোনয়ন দেন, তবে তিনি সকলের সহযোগিতা নিয়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বেকার সমস্যা সমাধানে এলাকার উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখবেন।
নেতার বক্তব্য ও স্থানীয়দের সমর্থন
মতবিনিময় সভায় বক্তারা তারেক রহমানের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেন, যে নেতার এলাকার মানুষের সঙ্গে জনসম্পৃক্ততা ও গ্রহণযোগ্যতা আছে, যিনি জনগণের উন্নয়নে কাজ করছেন এবং আসনটিতে জয়লাভ করতে পারবেন, কেবল তাঁকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে।
এই মানদণ্ড অনুযায়ী, টাঙ্গাইল-১ আসনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত লে: কর্নেল আসাদুল ইসলাম আজাদই একমাত্র যোগ্য নেতা। বক্তারা দৃঢ়ভাবে আশা প্রকাশ করেন, তারেক রহমান তাঁর হাতেই ধানের শীষের ঝান্ডা তুলে দেবেন এবং টাঙ্গাইল-১ এর জন্য একজন স্থানীয় প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়ার জোর দাবি জানান।
বক্তারা বহিরাগতদের মনোনয়ন দেওয়ার কঠোর বিরোধিতা করে বলেন, “বসন্তের কোকিলের মতো অন্য কেউ এসে মনোনয়ন নিয়ে যাবেন, তা মানব না।” তারা সতর্ক করে বলেন, “উড়ে এসে জুড়ে বসবেন আর টাঙ্গাইলের মধুপুর-ধনবাড়ীর মানুষ ভোট দেবে, তা অত সহজ নয়।” তাঁদের মতে, টাঙ্গাইল-১ এর জনগণ কর্নেল আজাদ সাহেবের কাছে নিরাপদ এবং এই আসনে স্থানীয় লোক কর্নেল আজাদের বিকল্প হতে পারে না।
সভায় মধুপুর উপজেলা বিএনপি’র সাবেক যুগ্ম আহবায়ক আবুল কালাম আজাদ, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম মাসুদ, উপজেলা বিএনপির মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক নূরুল আলম মেম্বার, উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সদস্য ও সাবেক ইউপি সদস্য হাফিজুর রহমান, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি হারুন অর রশিদ, মির্জাবাড়ী ইউনিয়ন বিএনপি’র সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সুরুজ্জামান লুল্লু, মির্জাবাড়ী ইউনিয়ন যুব দলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শোভন চন্দ্র দাস, যুবদল নেতা মিনহাজ হোসেন, ছাত্রদল নেতা মোজাম্মেল হোসেন, মধুপুর পৌর ছাত্র দল কর্মী রুমান হোসেন ও মাসুম রানা-সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।
এই সংবাদ প্রতিবেদনটি টাঙ্গাইল-১ আসনের আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের মনোভাব এবং মনোনয়ন প্রত্যাশী আসাদুল ইসলাম আজাদের অবস্থানের ওপর আলোকপাত করেছে। টাঙ্গাইল-১ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় স্থানীয় বনাম বহিরাগত প্রার্থী বিষয়টি একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি। 


















