
সুনামগঞ্জের ছাতকে পিতা ও কন্যাকে জড়িয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ফটোকার্ডের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
ভুক্তভোগী মাছুরা বেগম সামিয়া ও তাঁর মা মোছা. মিরজাহান বেগমের অভিযোগ, যৌতুক হিসেবে ১০ লাখ টাকা অথবা একটি স্টিলের নৌকা দাবি করেন সামিয়ার স্বামী সানার হোসেন ও তাঁর দেবর আনোয়ার হোসেন। দাবিকৃত যৌতুক দিতে অস্বীকৃতি জানালে সামিয়া ও তাঁর বাবা রাজা মিয়াকে জড়িয়ে মানহানির উদ্দেশ্যে গত দুই দিন ধরে বিভিন্ন ফেসবুক আইডি থেকে এআই দিয়ে তৈরি ফটোকার্ড ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এসব ফটোকার্ডে ধর্ষণসংক্রান্ত কুরুচিপূর্ণ ও আপত্তিকর প্রচারণা চালানো হচ্ছে বলেও তাঁদের অভিযোগ।
রাজা মিয়া ছাতক উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের কোচবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা। এদিকে, পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণসংক্রান্ত কোনো অভিযোগের সত্যতা কিংবা এ ধরনের ঘটনার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সামিয়ার মা মোছা. মিরজাহান বেগম বাদী হয়ে সামিয়ার স্বামী সানার হোসেন ও আনোয়ার হোসেনকে অভিযুক্ত করে ছাতক থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ২৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা রাজা মিয়ার বাড়িতে গিয়ে টাকা দাবি করেন। এ সময় তাঁরা সামিয়াকে মারধর করেন এবং পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ওই ঘটনার পর থেকেই তাঁদের জড়িয়ে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভুয়া ফটোকার্ড তৈরি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ন্যক্কারজনক অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এতে তাঁরা সামাজিকভাবে চরম বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন এবং নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
সচেতন মহলের মতে, পিতা-কন্যাকে জড়িয়ে ধর্ষণের মতো গুরুতর বিষয় নিয়ে ভিত্তিহীন ও কুরুচিপূর্ণ প্রচারণা সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভুয়া তথ্য ও ছবি ছড়িয়ে কাউকে সামাজিক ভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা উদ্বেগজনক। এ ধরনের অপপ্রচারের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এদিকে, এমন গুরুতর অপপ্রচারের অভিযোগে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন রাজা মিয়া। তিনি বলেন, ‘এ ঘটনার বিচার না পেলে পৃথিবীতে বেঁচে থাকাও আমার জন্য কষ্টকর হয়ে পড়েছে।’ তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত সানার হোসেন ও আনোয়ার হোসেনের বক্তব্য জানতে তাঁদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।
ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি 



















