সিলেট ০৪:২৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬
News Title :
‎জৈন্তাপুরে চিকনাগুলে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়নি, জলাবদ্ধতায় পানিবন্দী ১০০ পরিবার ‎জৈন্তাপুরে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্যের অভিযোগ, বিরোধীয় জমিতে জোরপূর্বক হালচাষ ‎জৈন্তাপুর সারীঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ে মাধ্যমিক স্কুলভিত্তিক বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত ‎জৈন্তাপুরে শুরু হয়েছে পাহাড়-টিলা কর্তনের মহোৎসব, হুমকির মুখে প্রবাসী পরিবারের বসতভিটা ‎মাধবপুরে আদালতের ডিক্রি বাস্তবায়নে শান্তিপূর্ণ উচ্ছেদ অভিযান ‎​‘আওয়ামী লীগ শত্রু নয় মিত্র, একদিন তারা বিএনপিতে যোগ দেবে’: নাছির চৌধুরী এমপি‎ ‎বাংলাদেশ মুক্তি যোদ্ধা সন্তান সংসদ বানিয়াচং উপজেলা শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন জামালপুরে জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি বিষয়ে ৩ দিনের কৃষক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত চুনারুঘাটে নারী-সংক্রান্ত অভিযোগে জামায়াত নেতা নুরুল ইসলাম সাজল বহিষ্কার হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে কারিতাস বাংলাদেশের বন্যা পুনর্বাসন প্রকল্পের পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত

‎জৈন্তাপুরে শুরু হয়েছে পাহাড়-টিলা কর্তনের মহোৎসব, হুমকির মুখে প্রবাসী পরিবারের বসতভিটা


‎সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার ৫নং ফতেপুর ইউনিয়নের শ্যামপুর (দলইপাড়া) গ্রামে প্রবাসী পরিবারের বাড়ির পাহাড় ও টিলা জোরপূর্বক কেটে পরিবেশের ক্ষতি সাধনের অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রবাসী পরিবারের বসতভিটা ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

‎অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গ্রামের মৃত আব্দুস সালামের পুত্র ফারুক আহমদ, কামাল আহমদ ও নাজিম আহমদের বিরুদ্ধে প্রবাসী পরিবারের বাড়ির দক্ষিণ ও পশ্চিম পাশের টিলা কেটে ফেলার অভিযোগ রয়েছে। এতে পরিবেশের ক্ষতির পাশাপাশি বসতভিটার নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়েছে।

‎এ ঘটনায় প্রবাসী পরিবারের পক্ষ থেকে জৈন্তাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

‎প্রবাসী সেলিম আহমদ বলেন,আমরা দুই ভাই প্রবাসে থাকি। বাড়িতে শুধু আমাদের অসুস্থ বৃদ্ধ বাবা রয়েছেন। এই সুযোগে টিলা খেকোরা জোরপূর্বক আমাদের বাড়ির দক্ষিণ ও পশ্চিম পাশের টিলা কেটে বসতভিটাকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে। তারা আমাদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শনও করছে। আমরা প্রবাসী হিসেবে জৈন্তাপুর উপজেলা প্রশাসন ও জৈন্তাপুর মডেল থানা পুলিশের সহযোগিতা কামনা করছি। বিষয়টি নিয়ে আমরা আইনগত প্রক্রিয়ায় রয়েছি।

‎এ বিষয়ে জৈন্তাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মনিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর সোমবার ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করা হয়। তবে অভিযানের সময় সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি। ঘটনাস্থলে টিলা কাটার সত্যতা পাওয়া গেছে এবং টিলা কর্তনের আলামত ও অভিযুক্তদের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে নিয়মিত মামলা দায়েরের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরে আবেদন করা হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে পুনরায় টিলা কাটার চেষ্টা হলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনকে অবহিত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের আহ্বান জানানো হয়েছে।

‎এদিকে সিলেটের পাহাড় ও টিলাগুলো ক্রমাগত ধ্বংসের মুখে পড়ছে। প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা ও পরিবেশ আইনের তোয়াক্কা না করেই বিভিন্ন কৌশলে চলছে টিলা কাটা। কখনো রাতের আঁধারে, আবার কখনো দিনের বেলায় যন্ত্রপাতি আড়াল করে অবৈধভাবে মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। বাড়ি নির্মাণ, জমি সমতলকরণ এবং মাটি বিক্রির উদ্দেশ্যে প্রতিনিয়ত টিলা ধ্বংসের অভিযোগ রয়েছে।

‎সিলেটে গত কয়েকদশক থেকেই চলছে টিলা কাটার মহোৎসব। এর ফলে গত কয়েক দশকে সিলেট জেলার প্রায় ৬০ শতাংশ টিলা বিলীন হয়ে গেছে। টিলাধসে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৪০ জন।

‎পরিবেশবাদীদের দাবি, পরিবেশ অধিদপ্তর ও হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও কার্যকর বাস্তবায়নের অভাবে টিলা ধ্বংস বন্ধ করা যাচ্ছে না। তাদের মতে, কঠোর নজরদারি, প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি ছাড়া এই ধ্বংসযজ্ঞ রোধ করা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে টিলা রক্ষায় বিদ্যমান আইন কঠোরভাবে প্রয়োগেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‎জৈন্তাপুরে চিকনাগুলে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়নি, জলাবদ্ধতায় পানিবন্দী ১০০ পরিবার

‎জৈন্তাপুরে শুরু হয়েছে পাহাড়-টিলা কর্তনের মহোৎসব, হুমকির মুখে প্রবাসী পরিবারের বসতভিটা

সময় ১১:১০:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬


‎সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার ৫নং ফতেপুর ইউনিয়নের শ্যামপুর (দলইপাড়া) গ্রামে প্রবাসী পরিবারের বাড়ির পাহাড় ও টিলা জোরপূর্বক কেটে পরিবেশের ক্ষতি সাধনের অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রবাসী পরিবারের বসতভিটা ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

‎অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গ্রামের মৃত আব্দুস সালামের পুত্র ফারুক আহমদ, কামাল আহমদ ও নাজিম আহমদের বিরুদ্ধে প্রবাসী পরিবারের বাড়ির দক্ষিণ ও পশ্চিম পাশের টিলা কেটে ফেলার অভিযোগ রয়েছে। এতে পরিবেশের ক্ষতির পাশাপাশি বসতভিটার নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়েছে।

‎এ ঘটনায় প্রবাসী পরিবারের পক্ষ থেকে জৈন্তাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

‎প্রবাসী সেলিম আহমদ বলেন,আমরা দুই ভাই প্রবাসে থাকি। বাড়িতে শুধু আমাদের অসুস্থ বৃদ্ধ বাবা রয়েছেন। এই সুযোগে টিলা খেকোরা জোরপূর্বক আমাদের বাড়ির দক্ষিণ ও পশ্চিম পাশের টিলা কেটে বসতভিটাকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে। তারা আমাদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শনও করছে। আমরা প্রবাসী হিসেবে জৈন্তাপুর উপজেলা প্রশাসন ও জৈন্তাপুর মডেল থানা পুলিশের সহযোগিতা কামনা করছি। বিষয়টি নিয়ে আমরা আইনগত প্রক্রিয়ায় রয়েছি।

‎এ বিষয়ে জৈন্তাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মনিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর সোমবার ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করা হয়। তবে অভিযানের সময় সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি। ঘটনাস্থলে টিলা কাটার সত্যতা পাওয়া গেছে এবং টিলা কর্তনের আলামত ও অভিযুক্তদের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে নিয়মিত মামলা দায়েরের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরে আবেদন করা হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে পুনরায় টিলা কাটার চেষ্টা হলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনকে অবহিত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের আহ্বান জানানো হয়েছে।

‎এদিকে সিলেটের পাহাড় ও টিলাগুলো ক্রমাগত ধ্বংসের মুখে পড়ছে। প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা ও পরিবেশ আইনের তোয়াক্কা না করেই বিভিন্ন কৌশলে চলছে টিলা কাটা। কখনো রাতের আঁধারে, আবার কখনো দিনের বেলায় যন্ত্রপাতি আড়াল করে অবৈধভাবে মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। বাড়ি নির্মাণ, জমি সমতলকরণ এবং মাটি বিক্রির উদ্দেশ্যে প্রতিনিয়ত টিলা ধ্বংসের অভিযোগ রয়েছে।

‎সিলেটে গত কয়েকদশক থেকেই চলছে টিলা কাটার মহোৎসব। এর ফলে গত কয়েক দশকে সিলেট জেলার প্রায় ৬০ শতাংশ টিলা বিলীন হয়ে গেছে। টিলাধসে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৪০ জন।

‎পরিবেশবাদীদের দাবি, পরিবেশ অধিদপ্তর ও হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও কার্যকর বাস্তবায়নের অভাবে টিলা ধ্বংস বন্ধ করা যাচ্ছে না। তাদের মতে, কঠোর নজরদারি, প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি ছাড়া এই ধ্বংসযজ্ঞ রোধ করা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে টিলা রক্ষায় বিদ্যমান আইন কঠোরভাবে প্রয়োগেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।