
হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি থাকায় প্রায় পাঁচ ঘণ্টা সড়কে অবস্থানের পর জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতারা বাহুবলের কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে গিয়ে হামলার ঘটনায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। বুধবার (২৯ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে অনলাইনের মাধ্যমে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় অভিযোগটি দাখিল করা হয়।
অভিযোগের বাদী হয়েছেন হবিগঞ্জ জেলা যুবশক্তির আহ্বায়ক তন্ময় তাহের। অভিযোগে হবিগঞ্জ বৃন্দাবন সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান রিয়াদসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
অভিযোগ দাখিলের সময় এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, হাসনাত আব্দুল্লাহ, সারজিস আলম, নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী, মিতুসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

অভিযোগ জমা দেওয়ার পর নাহিদ ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হলে আইনের শাসনের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়বে। অন্যথায় সরকারের ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হবে।
এর আগে বুধবার বিকেলে হবিগঞ্জে যাওয়ার পথে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন এনসিপির নেতারা। পরে হবিগঞ্জের মিরপুর এলাকায়ও তাদের অগ্রযাত্রা থামিয়ে দেওয়া হলে তারা সড়কে অবস্থান নেন। পরে পুলিশের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলকে অভিযোগ দাখিলের অনুমতি দেওয়া হয়। পুলিশি নিরাপত্তায় তাদের কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে নেওয়া হয় এবং সেখান থেকে অনলাইনে সদর থানায় অভিযোগ পাঠানো হয়।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ শহরের টাউন হল এলাকায় পদযাত্রা শেষে ফেরার পথে এনসিপির নেতা নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী ও সারজিস আলমের গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় কয়েকজন সাংবাদিক ও এনসিপির নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে দলটির দাবি। এর প্রতিবাদে বুধবার সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে এনসিপি।
এদিকে বিএনপি ও এনসিপির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় বুধবার হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করে জেলা প্রশাসন।
পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির জমায়েত, মিছিল, সমাবেশ ও শোভাযাত্রা নিষিদ্ধ থাকবে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে
স্বপন রবি দাশ, হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি।। 

















