সিলেট ০৫:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
News Title :
‎বানিয়াচং মডেল প্রেসক্লাবের কমিটি গঠন‎সভাপতি, শিব্বির আহমদ, সেক্রেটারি, আব্দাল মিয়া ‎শান্তিগঞ্জ প্রেসক্লাবকে অভিনন্দন, সাংবাদিকদের প্রশংসা করলেন ফারুক আহমদ‎ ‎সিলেটে অনলাইন জুয়া চক্রের ২ সদস্য গ্রেফতার: উদ্ধার ৪ খাতা ও মোবাইল শান্তিগঞ্জ প্রেসক্লাবের নবগঠিত কমিটিকে “শান্তিগঞ্জ সমিতি সিলেট”এর অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা মধুপুরে ছাগল উদ্ধার করতে গিয়ে সেপটিক ট্যাংকে শিশু সহ একই পরিবারের ৪ জনের মৃত্যু টাঙ্গাইলে ‘দ্যা রওশন সিনেমা টকিজ’ এর শুভ উদ্বোধন‎ ‎সিলেটে স্কুলছাত্রী অপহরণ: ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে আসামি গ্রেফতার, ভিকটিম উদ্ধার‎ ‎দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, বিস্ফোরক ও থানা থেকে লুট হওয়া টিয়ারশেল উদ্ধার ‎হবিগঞ্জে বেপরোয়া বাইকের ধাক্কায় প্রবীণ নাগরিক জহর আলীর মৃত্যু, ঘাতককে গ্রেপ্তারের দাবি ‎সিলেটে অনলাইন জুয়া চক্রের ৯ সদস্য গ্রেফতার: ১০ টাকায় ৮০০ টাকার প্রলোভনে চলত প্রতারণা!

মধুপুরে ছাগল উদ্ধার করতে গিয়ে সেপটিক ট্যাংকে শিশু সহ একই পরিবারের ৪ জনের মৃত্যু

শিশু সহ ৪ জনের নিথর দেহ



‎টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলায় একটি পরিত্যক্ত সেপটিক ট্যাংকে (পায়খানার গর্ত) পড়ে যাওয়া ছাগল উদ্ধার করতে গিয়ে বিষাক্ত গ্যাসে একই পরিবারের চারজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। উপজেলার অরণখোলা ইউনিয়নের জলই গ্রামে এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা সবাই গারো আদিবাসী সম্প্রদায়ের এবং একই পরিবারের সদস্য বলে জানা গেছে।

‎নিহতরা হলেন—গ্রাবিয়েল নকরেক (৪৫),রতন নকরেক (২৫), বাবলু হাজং (৩৫), নেইমার ম্রং (১০)
‎তারা সবাই জলই গ্রামের বাসিন্দা।

‎পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন একটি ছাগল বাড়ির পাশে থাকা একটি পরিত্যক্ত টয়লেটের গভীর গর্তে পড়ে যায়। ছাগলটিকে উদ্ধার করতে প্রথমে ১০ বছর বয়সী শিশু নেইমার ম্রং গর্তে নামে। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ ধরে সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসের কারণে সে অচেতন হয়ে পড়ে এবং তার কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে তাকে বাঁচাতে পর্যায়ক্রমে পরিবারের বাকি সদস্যরাও ওই গর্তে নামেন। ভেতরে থাকা বিষাক্ত গ্যাসের তীব্রতায় চারজনই গর্তের ভেতরে জ্ঞান হারিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

‎স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে মধুপুর ফায়ার সার্ভিস ও থানা পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় গর্ত থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে।

‎মধুপুর থানা পুলিশ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা পরিত্যক্ত গর্তটিতে তৈরি হওয়া বিষাক্ত গ্যাসের (মিথেন বা কার্বন মনোক্সাইড) কারণেই দম আটকে তাদের মৃত্যু হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

‎এই মর্মান্তিক ও আকস্মিক দুর্ঘটনায় পুরো জলই গ্রামসহ আদিবাসী পল্লীতে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। স্বজনদের হারিয়ে পরিবারগুলোতে চলছে মাতম। এলাকার মানুষ নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসনও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‎বানিয়াচং মডেল প্রেসক্লাবের কমিটি গঠন‎সভাপতি, শিব্বির আহমদ, সেক্রেটারি, আব্দাল মিয়া

মধুপুরে ছাগল উদ্ধার করতে গিয়ে সেপটিক ট্যাংকে শিশু সহ একই পরিবারের ৪ জনের মৃত্যু

সময় ১২:৩৩:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
শিশু সহ ৪ জনের নিথর দেহ



‎টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলায় একটি পরিত্যক্ত সেপটিক ট্যাংকে (পায়খানার গর্ত) পড়ে যাওয়া ছাগল উদ্ধার করতে গিয়ে বিষাক্ত গ্যাসে একই পরিবারের চারজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। উপজেলার অরণখোলা ইউনিয়নের জলই গ্রামে এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা সবাই গারো আদিবাসী সম্প্রদায়ের এবং একই পরিবারের সদস্য বলে জানা গেছে।

‎নিহতরা হলেন—গ্রাবিয়েল নকরেক (৪৫),রতন নকরেক (২৫), বাবলু হাজং (৩৫), নেইমার ম্রং (১০)
‎তারা সবাই জলই গ্রামের বাসিন্দা।

‎পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন একটি ছাগল বাড়ির পাশে থাকা একটি পরিত্যক্ত টয়লেটের গভীর গর্তে পড়ে যায়। ছাগলটিকে উদ্ধার করতে প্রথমে ১০ বছর বয়সী শিশু নেইমার ম্রং গর্তে নামে। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ ধরে সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসের কারণে সে অচেতন হয়ে পড়ে এবং তার কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে তাকে বাঁচাতে পর্যায়ক্রমে পরিবারের বাকি সদস্যরাও ওই গর্তে নামেন। ভেতরে থাকা বিষাক্ত গ্যাসের তীব্রতায় চারজনই গর্তের ভেতরে জ্ঞান হারিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

‎স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে মধুপুর ফায়ার সার্ভিস ও থানা পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় গর্ত থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে।

‎মধুপুর থানা পুলিশ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা পরিত্যক্ত গর্তটিতে তৈরি হওয়া বিষাক্ত গ্যাসের (মিথেন বা কার্বন মনোক্সাইড) কারণেই দম আটকে তাদের মৃত্যু হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

‎এই মর্মান্তিক ও আকস্মিক দুর্ঘটনায় পুরো জলই গ্রামসহ আদিবাসী পল্লীতে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। স্বজনদের হারিয়ে পরিবারগুলোতে চলছে মাতম। এলাকার মানুষ নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসনও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে।