সিলেট ১২:৪২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
News Title :
চুনারুঘাটে চন্ডিছড়া চা-বাগানে ৩৭৯ চা শ্রমিক পেলেন সরকারের ফ্যামিলি কার্ড‎ ‎জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই উন্নয়ন সম্ভব: মৌলভীবাজারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জামালপুরে GESMIN প্রকল্পের উদ্যোগে Identify Business Case for DAE & Privet Sector এডাপটেশনের সুযোগ চিহ্নিতকরণ বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত জনগণের অর্থ জনগণের কল্যাণে ব্যয় হবে: শ্রীমঙ্গলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‎বানিয়াচংয়ে জমিয়ত নেতার পিতার মৃত্যু, এমপি ডা.জীবন সহ বিভিন্ন মহলের শোক ‎ওসমানী হাসপাতালে র‍্যাব-জেলা প্রশাসনের যৌথ অভিযান: ৪ দালালকে কারাদণ্ড নবীগঞ্জে ছিনতাইয়ের প্রস্তুতিকালে দেশীয় অস্ত্রসহ আটক আক্তার ‎শ্রীমঙ্গলে তৃতীয় শ্রেনির এক শিক্ষার্থী ধর্ষণের অভিযোগ, ধর্ষক আটক টাঙ্গাইলে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা উপলক্ষে প্রশাসনের প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত নবীগঞ্জে ফারিয়ার আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত, সংগঠন শক্তিশালীকরণে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা‎

জনগণের অর্থ জনগণের কল্যাণে ব্যয় হবে: শ্রীমঙ্গলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান





‎জনগণের অর্থ বিদেশে পাচার বন্ধ করে তা দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে ব্যয় করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, জনগণের অর্থ জনগণের জন্যই ব্যয় করা হবে। দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য। আমরা আর জনগণের অর্থ বিদেশে পাচার হতে দেব না।

‎বুধবার মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তৃতীয় ধাপের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বৃষ্টিস্নাত আবহাওয়ার মধ্যেও হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এ জনসমাবেশে প্রধানমন্ত্রী সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, বাজেট পরিকল্পনা এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরেন।



‎প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি সরকার নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সরকার গঠনের পর তা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় পর্যায়ক্রমে দেশের সব পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। বিশেষ করে নারী-প্রধান পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। আগামী এক বছরের মধ্যে প্রায় ৪০ লাখ পরিবারের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

‎তিনি বলেন, একই সময়ে ৪০ লাখ কৃষকের হাতে কৃষক কার্ডও তুলে দেওয়া হবে। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারে এ কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



‎চা-শ্রমিকদের উন্নয়নে সরকারের বিশেষ উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, চা-বাগানের শ্রমিক পরিবারগুলোর আবাসন, শিক্ষা ও চিকিৎসা সহায়তার জন্য বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। অনুষ্ঠানে ৫০ জন চা-শ্রমিককে ঘর নির্মাণের জন্য দুই লাখ টাকা করে সহায়তা প্রদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, চা-শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন আমাদের অগ্রাধিকার। তাদের সন্তানদের শিক্ষার জন্যও বৃত্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

‎খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক আদর্শের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সংকটকালে অনেককে বিদেশে চলে যেতে দেখা গেছে। কিন্তু আমার মা বেগম খালেদা জিয়া কখনো দেশ ছেড়ে যাননি। তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশই তাঁর প্রথম ও শেষ ঠিকানা। আমরাও সেই আদর্শ ধারণ করি।

‎বাজেট নিয়ে সমালোচনাকারীদের জবাবে তিনি বলেন, সরকার এমন একটি বাজেট দিয়েছে যেখানে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির জন্য ব্যাপক বরাদ্দ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে।

‎তিনি বলেন, যে বাজেটে সাধারণ মানুষের জন্য এত সুযোগ-সুবিধা রাখা হয়েছে, সেই বাজেটকে কেউ যদি গণবিরোধী বলে, তাহলে তারা জনগণের বন্ধু হতে পারে না।



‎দেশীয় শিল্পখাতের সুরক্ষার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে উৎপাদিত পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় বিদেশি পণ্যের চাপ কমাতে কিছু আমদানিকৃত পণ্যের ওপর শুল্ক বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর ফলে দেশীয় শিল্প-কারখানা টিকে থাকবে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

‎তিনি জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়নে যেকোনো ষড়যন্ত্র ও অস্থিতিশীলতা প্রতিহত করতে হবে। জনগণ ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনো অপশক্তি দেশের অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে পারবে না।

‎অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, প্রতিমন্ত্রী মিজ ফারজানা শারমীন, মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী এবং জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ূন বক্তব্য দেন।

‎অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ১৫৫ জন উপকারভোগীর মধ্যে ১০ জনের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন। এছাড়া বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত পাঁচজনকে ৫০ হাজার টাকা করে চিকিৎসা অনুদান, ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বা ও নৃগোষ্ঠীর পাঁচজনকে আর্থিক সহায়তা, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা অনুদান, অসহায় ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিশেষ অনুদান এবং চা-শ্রমিকদের আবাসন সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়।

‎প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে সকাল থেকেই শ্রীমঙ্গলে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানস্থল জনসমুদ্রে পরিণত হয়। প্রবল বৃষ্টি উপেক্ষা করেও হাজারো মানুষ মাঠে অবস্থান করে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শোনেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চুনারুঘাটে চন্ডিছড়া চা-বাগানে ৩৭৯ চা শ্রমিক পেলেন সরকারের ফ্যামিলি কার্ড‎

জনগণের অর্থ জনগণের কল্যাণে ব্যয় হবে: শ্রীমঙ্গলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

সময় ০৮:০৩:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬





‎জনগণের অর্থ বিদেশে পাচার বন্ধ করে তা দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে ব্যয় করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, জনগণের অর্থ জনগণের জন্যই ব্যয় করা হবে। দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য। আমরা আর জনগণের অর্থ বিদেশে পাচার হতে দেব না।

‎বুধবার মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তৃতীয় ধাপের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বৃষ্টিস্নাত আবহাওয়ার মধ্যেও হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এ জনসমাবেশে প্রধানমন্ত্রী সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, বাজেট পরিকল্পনা এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরেন।



‎প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি সরকার নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সরকার গঠনের পর তা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় পর্যায়ক্রমে দেশের সব পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। বিশেষ করে নারী-প্রধান পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। আগামী এক বছরের মধ্যে প্রায় ৪০ লাখ পরিবারের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

‎তিনি বলেন, একই সময়ে ৪০ লাখ কৃষকের হাতে কৃষক কার্ডও তুলে দেওয়া হবে। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারে এ কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



‎চা-শ্রমিকদের উন্নয়নে সরকারের বিশেষ উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, চা-বাগানের শ্রমিক পরিবারগুলোর আবাসন, শিক্ষা ও চিকিৎসা সহায়তার জন্য বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। অনুষ্ঠানে ৫০ জন চা-শ্রমিককে ঘর নির্মাণের জন্য দুই লাখ টাকা করে সহায়তা প্রদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, চা-শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন আমাদের অগ্রাধিকার। তাদের সন্তানদের শিক্ষার জন্যও বৃত্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

‎খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক আদর্শের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সংকটকালে অনেককে বিদেশে চলে যেতে দেখা গেছে। কিন্তু আমার মা বেগম খালেদা জিয়া কখনো দেশ ছেড়ে যাননি। তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশই তাঁর প্রথম ও শেষ ঠিকানা। আমরাও সেই আদর্শ ধারণ করি।

‎বাজেট নিয়ে সমালোচনাকারীদের জবাবে তিনি বলেন, সরকার এমন একটি বাজেট দিয়েছে যেখানে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির জন্য ব্যাপক বরাদ্দ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে।

‎তিনি বলেন, যে বাজেটে সাধারণ মানুষের জন্য এত সুযোগ-সুবিধা রাখা হয়েছে, সেই বাজেটকে কেউ যদি গণবিরোধী বলে, তাহলে তারা জনগণের বন্ধু হতে পারে না।



‎দেশীয় শিল্পখাতের সুরক্ষার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে উৎপাদিত পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় বিদেশি পণ্যের চাপ কমাতে কিছু আমদানিকৃত পণ্যের ওপর শুল্ক বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর ফলে দেশীয় শিল্প-কারখানা টিকে থাকবে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

‎তিনি জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়নে যেকোনো ষড়যন্ত্র ও অস্থিতিশীলতা প্রতিহত করতে হবে। জনগণ ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনো অপশক্তি দেশের অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে পারবে না।

‎অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, প্রতিমন্ত্রী মিজ ফারজানা শারমীন, মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী এবং জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ূন বক্তব্য দেন।

‎অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ১৫৫ জন উপকারভোগীর মধ্যে ১০ জনের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন। এছাড়া বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত পাঁচজনকে ৫০ হাজার টাকা করে চিকিৎসা অনুদান, ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বা ও নৃগোষ্ঠীর পাঁচজনকে আর্থিক সহায়তা, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা অনুদান, অসহায় ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিশেষ অনুদান এবং চা-শ্রমিকদের আবাসন সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়।

‎প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে সকাল থেকেই শ্রীমঙ্গলে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানস্থল জনসমুদ্রে পরিণত হয়। প্রবল বৃষ্টি উপেক্ষা করেও হাজারো মানুষ মাঠে অবস্থান করে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শোনেন।