
জনগণের ভোটাধিকার, বাকস্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার ফলেই দেশে উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বুধবার ১৭ জুন বিকেলে মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ-এ আয়োজিত ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ দেশের মানুষ স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারছে। সরকারকে সমালোচনা করা যাচ্ছে, সংবাদপত্র স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে পারছে। গণতন্ত্র ও ব্যক্তি স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় আমরা জনগণের জন্য কাজ করার সুযোগ পাচ্ছি।
দেশের মালিক জনগণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণ সচেতন ও সজাগ থাকলে দেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা কেউ বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না। দেশের নিরাপত্তা, উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ জনগণের হাতেই ন্যস্ত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে দেশের মানুষ ভোটাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত ছিল। তবে জনগণের আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে সেই অধিকার পুনরুদ্ধার হয়েছে। এখন দেশের মানুষ রাজনৈতিক অস্থিরতা নয়, বরং শান্তি, স্থিতিশীলতা, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার নিশ্চয়তা চায়।

তিনি বলেন, সরকার গঠনের আগে আমরা একটি রাজনৈতিক দল ছিলাম। কিন্তু সরকার গঠনের পর আমরা পুরো দেশের মানুষের সরকার। যারা আমাদের ভোট দিয়েছেন কিংবা দেননি—সবাই রাষ্ট্রের নাগরিক, সবাই আমাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।
বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতেও দেশের অগ্রগতি ও স্থিতিশীলতার সময়ে বিভিন্ন মহল অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করেছে। এখনও কেউ কেউ সরকারকে সময় না দেওয়ার কথা বলছে।
এ ধরনের অবস্থান জনগণের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, বিএনপির রাজনীতির মূল শক্তি জনগণ। জনগণের রায়ের ভিত্তিতেই আমরা দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছি। তাই জনগণের কল্যাণ ও দেশের উন্নয়নই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এজেএমএম জাহিদ হোসেন-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সংসদ সদস্য এম. নাসের রহমান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জল করিম ময়ূন, জেলা পরিষদের প্রশাসক মিজানুর রহমান মিজান এবং জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুর রহিম রিপন।
অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী অসুস্থ সাবেক মহিলা সংসদ সদস্য বেগম খালেদা রব্বানী-এর বাসভবনে গিয়ে তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন।
আব্দুস সামাদ আজাদ,মৌলভীবাজার থেকে। 


















