
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থী ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকাল ৭টার দিকে উপজেলার কালাপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ লামুয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সুত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, সকালে শিশুটি লামুয়া মসজিদের মক্তবে যাওয়ার পথে অভিযুক্ত আনোয়ার মিয়া তাকে ইমামের জন্য টিফিন নেওয়ার কথা বলে নিজের ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে আটকে রেখে ধর্ষণ করা হয়।
ভুক্তভোগী শিশুর ভাষ্য অনুযায়ী, সকাল ৭টা থেকে প্রায় ৯টা পর্যন্ত তাকে ঘরের ভেতরে আটকে রেখে ধর্ষণ করা হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্ত শিশুটিকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে বালিশ আনতে গেলে সুযোগ পেয়ে শিশুটি দৌড়ে ঘর থেকে বেরিয়ে আসে। পরে এলাকার একটি কবরস্থানের পাশে অসুস্থ অবস্থায় পড়ে গেলে স্থানীয় লোকজন তার কাছে ঘটনার বিষয়ে জানতে চান। তখন শিশুটি পুরো বিষয়টি তাদের জানায়।
এদিকে মেয়ের দীর্ঘ সময় বাড়ি না ফেরায় তার মা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে কবরস্থানের পাশে মেয়েকে দেখতে পেয়ে তার শারীরিক অবস্থা দেখে বিষয়টি আঁচ করতে পারেন।
শিশুটির দেওয়া বর্ণনার ভিত্তিতে স্থানীয় লোকজন ধর্ষণে অভিযুক্ত আনোয়ার মিয়া (৪২) কে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। পুলিশ অভিযুক্তকে থানায় নিয়ে আসে। অভিযুক্ত আনোয়ার মিয়া একই এলাকার মৃত মুসলিম মাস্টারের ছেলে। সে অত্র এলাকায় সুদের ব্যবসা করে এবং নেশাখোর ছিল বলে স্থানীয়রা জানায়।
এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরকার আব্দুল আল মামুন মঙ্গলবার সকাল ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে বলেন, ধর্ষণের অভিযোগে স্থানীয়রা অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করে রাখে। পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ধর্ষণকারীকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন।
মেডিকেল পরীক্ষার জন্য ভূক্তভোগীর পরিবারকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ভিকটিমের পরিবার লিখিত অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আব্দুস সামাদ আজাদ মৌলভীবাজার প্রতিনিধি 


















