
যাত্রাবিরতি ও রুট নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল-শেরপুর সড়কে স্থানীয় এসএমএস পরিবহন ও হবিগঞ্জ বিরতিহীন এক্সপ্রেসের দ্বন্দ্ব এখন চরম অচলাবস্থায় রূপ নিয়েছে। টানা দুই দিন ধরে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো যাত্রী। প্রশাসনের হস্তক্ষেপের আশ্বাস মিললেও এখনো কার্যকর কোনো সমাধান আসেনি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শ্রীমঙ্গল থেকে শেরপুর হয়ে সিলেটগামী রুটে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় পরিবহনগুলোর আধিপত্য ছিল। সম্প্রতি হবিগঞ্জ বিরতিহীন এক্সপ্রেসের চলাচল ও যাত্রাবিরতি নিয়ে বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করে। স্থানীয় পরিবহন সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করছেন, বিরতিহীন বাসগুলো নির্ধারিত নিয়ম ভঙ্গ করে বিভিন্ন স্থানে যাত্রী ওঠানামা করছে, ফলে স্থানীয় পরিবহনের যাত্রী কমে যাচ্ছে।
অন্যদিকে হবিগঞ্জ বিরতিহীন এক্সপ্রেস সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে স্থানীয় পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা পরিকল্পিতভাবে তাদের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছে।
এই দ্বন্দ্বের জেরে বর্তমানে শ্রীমঙ্গল-মৌলভীবাজার-শেরপুর-সিলেট রুটে এসএমএস পরিবহন, লোকাল বাস ও হবিগঞ্জ বিরতিহীন এক্সপ্রেস—সব ধরনের বাস চলাচল কার্যত বন্ধ রয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, গুরুত্বপূর্ণ এই আঞ্চলিক সড়কে যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। অনেকেই বাধ্য হয়ে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া দিয়ে সিএনজি অটোরিকশা বা মাইক্রোবাসে গন্তব্যে যাচ্ছেন। চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী, রোগী ও নারী যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন।
এক কলেজ পরীক্ষার্থী জানান, পরীক্ষা দিতে যেতে সকালে বের হয়েছি। বাস না থাকায় কয়েকবার যানবাহন বদল করতে হয়েছে। সময়মতো পৌঁছাতে পারব কিনা তা নিয়েও শঙ্কায় আছি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর দ্বন্দ্বে বারবার জিম্মি হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। অথচ এ ধরনের সংকট নিরসনে কার্যকর ও স্থায়ী কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ে না।
মৌলভীবাজার সড়ক পরিবহনের নেতারা জানিয়েছেন, গতকাল থেকে আজ সকাল পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়নি। তবে বিকেলে দুই জেলার পরিবহন নেতাদের মধ্যে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক বলেন, সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি প্রশাসন গুরুত্বসহকারে দেখছে। দ্রুত সমাধানে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
সংশ্লিষ্ট মহলের প্রশ্ন, যাত্রীসেবার নামে পরিচালিত পরিবহন খাতের বিরোধে কেন বারবার জনসাধারণকে দুর্ভোগ পোহাতে হবে? প্রশাসনের নজরদারি ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ না থাকলে ভবিষ্যতেও এমন অচলাবস্থা ফের সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আব্দুস সামাদ আজাদ, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি 

















