
জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার গুনারীতলা ইউনিয়নের চর গোলাবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চরম অব্যবস্থাপনা ও অচলবস্থা বিরাজ করছে। বিদ্যালয়টিতে পাঁচজন শিক্ষক নিয়োজিত থাকলেও বর্তমানে শিক্ষার্থী উপস্থিতি নেমে এসেছে ১০ শতাংশের নিচে। অথচ পাশেই একটি কিন্ডারগার্টেন বিদ্যালয়ে শতভাগ উপস্থিতি ও চমৎকার শিক্ষার পরিবেশ থাকায় অভিভাবকরা সরকারি এই প্রতিষ্ঠান থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।
১৭ আগস্ট সোমবার দুপুর আড়াইটায় সরেজমিনে বিদ্যালয়টিতে গিয়ে দেখা যায়, শ্রেণিকক্ষের পরিবর্তে হাতে গোনা ৮-১০ জন শিক্ষার্থী বাইরে খেলাধুলায় ব্যস্ত। অফিস কক্ষে দু’জন এবং দোতলার বারান্দায় দু’জন শিক্ষিকাকে অলস সময় কাটাতে দেখা যায়। গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে শিক্ষিকারা তড়িঘড়ি করে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে যাওয়ার নির্দেশ দেন।
বিদ্যালয়টিতে প্রবেশ করে দেখা যায়, তৃতীয় শ্রেণীতে মোট উপস্থিত শিক্ষার্থী ৭ জন, চতুর্থ শ্রেণীতে মাত্র ৫ জন এবং পঞ্চম শ্রেণীতে সর্বমোট উপস্থিত রয়েছেন মাত্র ১ জন শিক্ষার্থী।
বিদ্যালয়টিতে মোট ৭৪ জন শিক্ষার্থী ভর্তি থাকার কথা থাকলেও এমন শোচনীয় উপস্থিতির বিষয়ে শিক্ষকদের প্রশ্ন করা হলে তারা জানান, এটি চরাঞ্চল এলাকা হওয়ায় অভিভাবকরা শিশুদের কৃষি কাজে ব্যবহার করেন। বর্তমান আমন ধান রোপণের মৌসুম চলায় শিশুরা পরিবারের সাথে মাঠে কাজ করছে। অভিভাবকদের অনীহার কারণেই শত চেষ্টার পরও শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করা যাচ্ছে না বলে দাবি করেন তারা।
পঞ্চম শ্রেণীতে মাত্র ১ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকার কারণ জানতে চাইলে শিক্ষকরা জানান, প্রথমে ৩ জন উপস্থিত থাকলেও টিফিন পিরিয়ডের পর ২ জন বাড়ি চলে গেছেন। এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষকের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি উপজেলায় মাসিক মিটিংয়ে ব্যস্ত আছেন বলে জানান।
সরকারি স্কুলগুলোতে বিনামূল্যে পাঠ্যবই, উপবৃত্তি, স্কুল ফিডিং এবং খেলাধুলার নানা সরঞ্জাম সরবরাহ করা হলেও অভিভাবকরা কেন কিন্ডারগার্টেনমুখী হচ্ছেন—তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের প্রশ্ন, পাঁচজন শিক্ষকের বিপরীতে মাত্র ৮-১০ জন শিক্ষার্থীর উপস্থিতি নিয়ে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কীভাবে চলতে পারে?
বিদ্যালয়টির অচলাবস্থা কাটাতে স্থানীয় সচেতন মহল ও অভিভাবকরা অবিলম্বে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, নিয়মিত তদারকি, পাঠদানের মান উন্নয়ন, চরাঞ্চলের অভিভাবকদের নিয়ে সচেতনতামূলক উঠান বৈঠক এবং শিশুশ্রম রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করলেই কেবল বিদ্যালয়টি তার হারানো গৌরব ফিরে পাবে।
ফারুক আহমেদ ভূঁইয়া, জামালপুর। 


















