সিলেট ১২:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬
News Title :
‎ছাতকে রনির বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ, দুই গ্রামের সংবাদ সম্মেলন অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় বর্ষসেরা সাদিক হোসেন এপলু ‎গোয়াইনঘাটের বিভিন্ন সড়ক পরিদর্শন করলেন মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী দারিদ্র্যকে জয় করে গোল্ডেন জিপিএ-৫, এবার ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন নাঈমের শান্তিগঞ্জে দুই শিশুকে পানিতে ফেলে হত্যার অভিযোগ, বাবাকে গ্রেপ্তার : হত্যা মামলা দায়ের বিয়ানীবাজারে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৩ জন গ্রেফতার, ইয়াবা উদ্ধার ‎গোলাপগঞ্জে অনলাইন জুয়া চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার, স্মার্টফোন জব্দ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নবীগঞ্জে পূজা উদযাপন পরিষদের উপজেলা সভাপতি রঙ্গলাল-সম্পাদক নন্টী, পৌর শাখায় সভাপতি মিনু-সম্পাদক বিভূ নবীগঞ্জে শ্মশানঘাট থেকে বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার জামালপুরে প্রশাসনের অভিযানে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল জব্দ ও ধ্বংস‎

শান্তিগঞ্জে দুই শিশুকে পানিতে ফেলে হত্যার অভিযোগ, বাবাকে গ্রেপ্তার : হত্যা মামলা দায়ের

শিশু সন্তান হত্যার অভিযুক্ত কামরুল জামান


‎সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে দুই সন্তানকে ঘোরানোর কথা বলে বাড়ি থেকে নিয়ে গিয়ে পানিতে ফেলে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাদের বাবার বিরুদ্ধে। নিহত দুই শিশু হলো—মোহাদ্দিছ (৭) ও তুলনা আক্তার (৪)। এ ঘটনায় শিশু দুটির বাবা অভিযুক্ত কামরুল জামান প্রকাশ মো. কামরুল মিয়ার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

‎গতকাল বুধবার(১২ আগষ্ট) দুপুরে নিহত দুই শিশু দুটির মা দিরাই থানাধীন পেরুয়া মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা ও অভিযুক্ত কামরুল জামান প্রকাশ মো. কামরুল মিয়ার স্ত্রী আফরোজা বেগম বাদী হয়ে তাহার স্বামী অভিযুক্ত কামরুল জামান প্রকাশ মো. কামরুল মিয়ার নামে মামলা দায়ের করেন।

‎স্থানীয় ও পারিবারিক ও মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কামরুল জামান ও আফরোজা বেগম সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী। প্রায় ৯-১০ বছর আগে পারিবারিক ভাবে তাদের বিয়ে হয়। তাদের চার সন্তান রয়েছে। নিহত মোহাদ্দিছ ও তুলনা আক্তার তাদের দ্বিতীয় ও তৃতীয় সন্তান। কামরুল জামান বিভিন্ন এলাকায় ফেরি করে মসলা বিক্রি করে সংসার চালাতেন।

‎পারিবারিক ভাবে জানা যায়, সন্তানদের শাসন-অনুশাসন নিয়ে কামরুল জামানের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কিছুদিন ধরে মনোমালিন্য চলছিল। এরই মধ্যে গত ৭ আগস্ট(শুক্রবার) কামরুল জামান কাউকে না জানিয়ে দুই সন্তানকে ঘোরানোর কথা বলে বাড়ি থেকে নিয়ে যান। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সন্তানরা বাড়িতে ফিরে না আসায় তাহার স্ত্রী আফরোজা বেগম সহ পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়-স্বজন ও আশপাশের এলাকায় তাদের খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। গত ১০ আগস্ট (সোমবার) কামরুল জামান একা বাড়িতে ফিরে এলে সন্তানদের বিষয়ে পরিবারের সদস্যরা জানতে চান। এ সময় তিনি প্রথমে বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং অসংলগ্ন কথাবার্তা বলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজন ও সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে তিনি সন্তান দুটিকে হত্যার কথা জানান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

‎এজাহার সূত্রে আরো জানা যায়, অভিযুক্ত কামরুল জামান প্রকাশ মো. কামরুল মিয়া গত ৯ আগস্ট (রবিবার) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে শান্তিগঞ্জ থানাধীন পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামের সুনামগঞ্জ-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে বাস থেকে নেমে চার বছরের শিশু তুলনা আক্তারকে পানিতে ফেলে হত্যা করেন বলে তিনি জানান। পরে অপর একটি বাসে করে সুনামগঞ্জ সদর থানাধীন লক্ষনশ্রী ইউনিয়নের গৌবিন্দপুর এলাকায় গিয়ে সাত বছরের শিশু মোহাদ্দিছকেও ঘুমন্ত অবস্থায় পানিতে ফেলে হত্যা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

‎খবর পেয়ে শান্তিগঞ্জ থানা পুলিশ গত ১১ আগস্ট (সোমবার) দুপুরে নোয়াগাঁও এলাকার ঘটনাস্থল থেকে শিশু তুলনা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। পরদিন ১২ আগস্ট (মঙ্গলবার) সুনামগঞ্জ সদর থানা পুলিশ গৌবিন্দপুর এলাকা থেকে শিশু মোহাদ্দিছের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
‎নিহত শিশু দুটির মা আফরোজা বেগম সাক্ষীদের উপস্থিতিতে পৃথক ঘটনাস্থলে গিয়ে তাহার মৃত ছেলে মেয়ের মরদেহ শনাক্ত করেন। পরে পুলিশ মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়না তদন্তের জন্য পাঠায়। ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হলে সামাজিক ও ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী দুই শিশুর দাফন-কাফন সম্পন্ন করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দুই শিশুকে কী কারণে এবং কীভাবে হত্যা করা হয়েছে, ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ বা সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না—তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।

‎শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ অলিউল্লাহ জানান, “ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও স্পর্শকাতর। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, নিহত দুই শিশু মোহাদ্দিছ (৭) ও তুলনা আক্তার (৪)-কে তাদের বাবা কামরুল জামান প্রকাশ মো. কামরুল মিয়া গত ৭ আগস্ট ২০২৬ খ্রি. তারিখে বাড়ি থেকে ঘোরানোর কথা বলে নিয়ে যান। পরবর্তীতে শিশু দুটির মরদেহ পৃথক দুটি স্থান থেকে উদ্ধার করা হয়।

‎এ ঘটনায় শিশু দুটির বাবা অভিযুক্ত কামরুল জামান প্রকাশ মো. কামরুল মিয়াকে পুলিশ আটক করেছে। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ, হত্যাকাণ্ডের পেছনে কোনো পূর্বপরিকল্পনা ছিল কি না এবং এ ঘটনায় অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না—এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

‎এ ঘটনায় নিহত শিশু দুটির মা আফরোজা বেগম বাদী হয়ে শান্তিগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে এবং ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তদন্তে প্রাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‎ছাতকে রনির বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ, দুই গ্রামের সংবাদ সম্মেলন

শান্তিগঞ্জে দুই শিশুকে পানিতে ফেলে হত্যার অভিযোগ, বাবাকে গ্রেপ্তার : হত্যা মামলা দায়ের

সময় ০৯:১৪:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
শিশু সন্তান হত্যার অভিযুক্ত কামরুল জামান


‎সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে দুই সন্তানকে ঘোরানোর কথা বলে বাড়ি থেকে নিয়ে গিয়ে পানিতে ফেলে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাদের বাবার বিরুদ্ধে। নিহত দুই শিশু হলো—মোহাদ্দিছ (৭) ও তুলনা আক্তার (৪)। এ ঘটনায় শিশু দুটির বাবা অভিযুক্ত কামরুল জামান প্রকাশ মো. কামরুল মিয়ার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

‎গতকাল বুধবার(১২ আগষ্ট) দুপুরে নিহত দুই শিশু দুটির মা দিরাই থানাধীন পেরুয়া মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা ও অভিযুক্ত কামরুল জামান প্রকাশ মো. কামরুল মিয়ার স্ত্রী আফরোজা বেগম বাদী হয়ে তাহার স্বামী অভিযুক্ত কামরুল জামান প্রকাশ মো. কামরুল মিয়ার নামে মামলা দায়ের করেন।

‎স্থানীয় ও পারিবারিক ও মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কামরুল জামান ও আফরোজা বেগম সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী। প্রায় ৯-১০ বছর আগে পারিবারিক ভাবে তাদের বিয়ে হয়। তাদের চার সন্তান রয়েছে। নিহত মোহাদ্দিছ ও তুলনা আক্তার তাদের দ্বিতীয় ও তৃতীয় সন্তান। কামরুল জামান বিভিন্ন এলাকায় ফেরি করে মসলা বিক্রি করে সংসার চালাতেন।

‎পারিবারিক ভাবে জানা যায়, সন্তানদের শাসন-অনুশাসন নিয়ে কামরুল জামানের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কিছুদিন ধরে মনোমালিন্য চলছিল। এরই মধ্যে গত ৭ আগস্ট(শুক্রবার) কামরুল জামান কাউকে না জানিয়ে দুই সন্তানকে ঘোরানোর কথা বলে বাড়ি থেকে নিয়ে যান। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সন্তানরা বাড়িতে ফিরে না আসায় তাহার স্ত্রী আফরোজা বেগম সহ পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়-স্বজন ও আশপাশের এলাকায় তাদের খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। গত ১০ আগস্ট (সোমবার) কামরুল জামান একা বাড়িতে ফিরে এলে সন্তানদের বিষয়ে পরিবারের সদস্যরা জানতে চান। এ সময় তিনি প্রথমে বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং অসংলগ্ন কথাবার্তা বলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজন ও সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে তিনি সন্তান দুটিকে হত্যার কথা জানান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

‎এজাহার সূত্রে আরো জানা যায়, অভিযুক্ত কামরুল জামান প্রকাশ মো. কামরুল মিয়া গত ৯ আগস্ট (রবিবার) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে শান্তিগঞ্জ থানাধীন পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামের সুনামগঞ্জ-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে বাস থেকে নেমে চার বছরের শিশু তুলনা আক্তারকে পানিতে ফেলে হত্যা করেন বলে তিনি জানান। পরে অপর একটি বাসে করে সুনামগঞ্জ সদর থানাধীন লক্ষনশ্রী ইউনিয়নের গৌবিন্দপুর এলাকায় গিয়ে সাত বছরের শিশু মোহাদ্দিছকেও ঘুমন্ত অবস্থায় পানিতে ফেলে হত্যা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

‎খবর পেয়ে শান্তিগঞ্জ থানা পুলিশ গত ১১ আগস্ট (সোমবার) দুপুরে নোয়াগাঁও এলাকার ঘটনাস্থল থেকে শিশু তুলনা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। পরদিন ১২ আগস্ট (মঙ্গলবার) সুনামগঞ্জ সদর থানা পুলিশ গৌবিন্দপুর এলাকা থেকে শিশু মোহাদ্দিছের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
‎নিহত শিশু দুটির মা আফরোজা বেগম সাক্ষীদের উপস্থিতিতে পৃথক ঘটনাস্থলে গিয়ে তাহার মৃত ছেলে মেয়ের মরদেহ শনাক্ত করেন। পরে পুলিশ মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়না তদন্তের জন্য পাঠায়। ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হলে সামাজিক ও ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী দুই শিশুর দাফন-কাফন সম্পন্ন করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দুই শিশুকে কী কারণে এবং কীভাবে হত্যা করা হয়েছে, ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ বা সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না—তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।

‎শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ অলিউল্লাহ জানান, “ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও স্পর্শকাতর। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, নিহত দুই শিশু মোহাদ্দিছ (৭) ও তুলনা আক্তার (৪)-কে তাদের বাবা কামরুল জামান প্রকাশ মো. কামরুল মিয়া গত ৭ আগস্ট ২০২৬ খ্রি. তারিখে বাড়ি থেকে ঘোরানোর কথা বলে নিয়ে যান। পরবর্তীতে শিশু দুটির মরদেহ পৃথক দুটি স্থান থেকে উদ্ধার করা হয়।

‎এ ঘটনায় শিশু দুটির বাবা অভিযুক্ত কামরুল জামান প্রকাশ মো. কামরুল মিয়াকে পুলিশ আটক করেছে। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ, হত্যাকাণ্ডের পেছনে কোনো পূর্বপরিকল্পনা ছিল কি না এবং এ ঘটনায় অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না—এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

‎এ ঘটনায় নিহত শিশু দুটির মা আফরোজা বেগম বাদী হয়ে শান্তিগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে এবং ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তদন্তে প্রাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।