সিলেট ০১:৫২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
News Title :
আরাফাত রহমান কোকোর ৫৭তম জন্মবার্ষিকী পালিত, বানিয়াচংয়ে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা‎ জামালপুর জেলা পুলিশ কার্যালয় বার্ষিক পরিদর্শন করলেন নবাগত ডিআইজি জাহিদুল হাসান ‎প্রেমের বিরোধে সিলেটে ট্রিপল মার্ডার: প্রধান সন্দেহভাজন বাবুল গ্রেফতার, স্বীকারোক্তি ধনবাড়ীতে ব্রি আঞ্চলিক কার্যালয় কর্তৃক বৃক্ষের চারা বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত লাখাইয়ে গাঁজার গাছ সহ এক ব্যক্তি গ্রেফতার‎ ‎মৌলভীবাজার জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত ‎আন্তর্জাতিক যুব দিবসে মৌলভীবাজারে জামায়াতের যুব বিভাগের র‍্যালি ও সমাবেশ ‎বানিয়াচংয়ে হাওরে ঝড়ের কবলে নৌকাডুবি, যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু চুয়েটে একই পুকুরের একই ঘাটে তিন শিক্ষার্থীর মৃত্যু, রহস্যের অভিযোগ‎ গোয়াইনঘাটে ইউপি চেয়ারম্যান আলীম উদ্দিন আর নেই

‎প্রেমের বিরোধে সিলেটে ট্রিপল মার্ডার: প্রধান সন্দেহভাজন বাবুল গ্রেফতার, স্বীকারোক্তি

সন্দেহভাজন বাবুল মিয়া কে পুলিশ গ্রেফতার করে



‎সিলেট নগরীর রায়নগর রাজবাড়ি এলাকার ‘মিতালী ১১১’ নম্বর বাসায় স্বামী, স্ত্রী ও গৃহপরিচারিকাকে কুপিয়ে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় মূল সন্দেহভাজন বাবুল মিয়াকে (৪০) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত বাবুল তিনজনকে কুপিয়ে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।

‎বুধবার ১২ আগস্ট বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে রায়নগর রাজবাড়ি এলাকার আখতার মিয়ার কলোনি থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি)। সোবহানীঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই শিপলু চৌধুরীর নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করেন।


‎নিহতরা হলেন, মো. আব্দুস সাত্তার ( ৮২) তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) ও বাসার গৃহপরিচারিকা তাহমিনা বেগম (১৫)।

‎বুধবার সন্ধ্যায় ঘটনাস্থলে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম জানান,গৃহকর্মী তাহমিনার সঙ্গে গত কয়েক দিন ধরে বাবুল মিয়ার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাবুল ওই বাসায় এলে তাহমিনা দরজা খুলে দেন। পূর্বে কোনো পরিকল্পনা অনুযায়ী তাঁদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্কের অভিপ্রায় ছিল। কিন্তু তা নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে বাবুল তাহমিনাকে ছুরিকাঘাত করেন। তাহমিনার চিৎকারে গৃহকর্ত্রী সুরাইয়া বেগম এগিয়ে এলে তাঁকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। পরবর্তীতে শোরগোল শুনে গৃহকর্তা আব্দুস সাত্তার এগিয়ে এলে তাঁকেও ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করেন বাবুল।

‎ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দেখা যায়, বাসার একটি কক্ষে আব্দুস সাত্তার এবং অন্য একটি কক্ষে সুরাইয়া বেগম ও গৃহপরিচারিকা তাহমিনার রক্তাক্ত মরদেহ পড়েছিল। হত্যাকাণ্ডের পর ঘাতক বাসার দক্ষিণ দিকের পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যায়। সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামার সময় সেখানে রক্তের দাগ লেগেছিল বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।


‎ঘটনাস্থলে থানা পুলিশ পৌঁছে ঘরের প্রধান দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে মরদেহগুলো উদ্ধার করে। পরবর্তীতে লাশগুলো ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়।

‎পুলিশ জানায়, গ্রেফতারের পর বাবুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধারে পার্শ্ববর্তী ঝোপঝাড়ে অভিযান চালানো হচ্ছে।
‎কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি খান মুহাম্মদ মাইনুল জাকির জানিয়েছেন, এই হত্যাকাণ্ডে বাবুলের সাথে অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না এবং এর পেছনে অন্য কোনো গভীর চক্রান্ত রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আরাফাত রহমান কোকোর ৫৭তম জন্মবার্ষিকী পালিত, বানিয়াচংয়ে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা‎

‎প্রেমের বিরোধে সিলেটে ট্রিপল মার্ডার: প্রধান সন্দেহভাজন বাবুল গ্রেফতার, স্বীকারোক্তি

সময় ১১:২৬:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬
সন্দেহভাজন বাবুল মিয়া কে পুলিশ গ্রেফতার করে



‎সিলেট নগরীর রায়নগর রাজবাড়ি এলাকার ‘মিতালী ১১১’ নম্বর বাসায় স্বামী, স্ত্রী ও গৃহপরিচারিকাকে কুপিয়ে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় মূল সন্দেহভাজন বাবুল মিয়াকে (৪০) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত বাবুল তিনজনকে কুপিয়ে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।

‎বুধবার ১২ আগস্ট বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে রায়নগর রাজবাড়ি এলাকার আখতার মিয়ার কলোনি থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি)। সোবহানীঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই শিপলু চৌধুরীর নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করেন।


‎নিহতরা হলেন, মো. আব্দুস সাত্তার ( ৮২) তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) ও বাসার গৃহপরিচারিকা তাহমিনা বেগম (১৫)।

‎বুধবার সন্ধ্যায় ঘটনাস্থলে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম জানান,গৃহকর্মী তাহমিনার সঙ্গে গত কয়েক দিন ধরে বাবুল মিয়ার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাবুল ওই বাসায় এলে তাহমিনা দরজা খুলে দেন। পূর্বে কোনো পরিকল্পনা অনুযায়ী তাঁদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্কের অভিপ্রায় ছিল। কিন্তু তা নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে বাবুল তাহমিনাকে ছুরিকাঘাত করেন। তাহমিনার চিৎকারে গৃহকর্ত্রী সুরাইয়া বেগম এগিয়ে এলে তাঁকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। পরবর্তীতে শোরগোল শুনে গৃহকর্তা আব্দুস সাত্তার এগিয়ে এলে তাঁকেও ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করেন বাবুল।

‎ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দেখা যায়, বাসার একটি কক্ষে আব্দুস সাত্তার এবং অন্য একটি কক্ষে সুরাইয়া বেগম ও গৃহপরিচারিকা তাহমিনার রক্তাক্ত মরদেহ পড়েছিল। হত্যাকাণ্ডের পর ঘাতক বাসার দক্ষিণ দিকের পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যায়। সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামার সময় সেখানে রক্তের দাগ লেগেছিল বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।


‎ঘটনাস্থলে থানা পুলিশ পৌঁছে ঘরের প্রধান দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে মরদেহগুলো উদ্ধার করে। পরবর্তীতে লাশগুলো ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়।

‎পুলিশ জানায়, গ্রেফতারের পর বাবুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধারে পার্শ্ববর্তী ঝোপঝাড়ে অভিযান চালানো হচ্ছে।
‎কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি খান মুহাম্মদ মাইনুল জাকির জানিয়েছেন, এই হত্যাকাণ্ডে বাবুলের সাথে অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না এবং এর পেছনে অন্য কোনো গভীর চক্রান্ত রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।