সিলেট ০৬:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
News Title :
‎কুলাউড়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত তারা মিয়ার লাশ হস্তান্তর মুসলিমনগর উচ্চ বিদ্যালয়ে আন্তঃশ্রেণী ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন‎‎ ‎সিলেটে অনলাইন জুয়া চক্রের ৪ সদস্য গ্রেফতার, মোবাইল উদ্ধার‎ জামালপুরে হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্রতিনিধিদের সাথে আয়কর বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবিগঞ্জে ফল বিক্রেতার ফোন নেওয়ার অভিযোগ, এসআই রাসেলকে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত বড়লেখায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উদযাপিত ‎২৩ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস মাত্র ৪, সুপারের অব্যবস্থাপনা নিয়ে অভিভাবকদের ক্ষোভ হবিগঞ্জে ফল প্রকাশের এক দিন আগে মৃত্যু, এসএসসিতে জিপিএ ৪.১১ রেজার নিরাপত্তাহীন বিছানাকান্দি‎! বাস্তবায়ন হয়নি ইকোপার্কের পরিকল্পনা রাতারগুলে ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি!‎ ঝুঁকিপূর্ণ ওয়াচ টাওয়ার, যানজটে নাকাল পর্যটক;‎

‎কুলাউড়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত তারা মিয়ার লাশ হস্তান্তর


‎মৌলভীবাজারের কুলাউড়া সীমান্তে ভারতের অভ্যন্তরে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এর গুলিতে নিহত বাংলাদেশি তরুণ তারা মিয়া (১৯)-এর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

‎সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার চাতলাপুর শুল্ক স্টেশন ও ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট এলাকায় বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর পতাকা বৈঠক শেষে ভারতীয় পুলিশ কুলাউড়া থানা পুলিশের কাছে তারা মিয়ার মরদেহ হস্তান্তর করে। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতের বড় ভাই রাজু মিয়ার কাছে মরদেহ বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

‎মরদেহ হস্তান্তরের সময় দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্য, পুলিশ, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও নিহতের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

‎নিহত তারা মিয়া কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের মুরইছড়া বস্তির বাসিন্দা আব্দুল মালেকের ছেলে।

‎কুলাউড়া থানা পুলিশ ও বিজিবি সূত্রে জানা যায়, শনিবার দিবাগত রাত ৩টার পর কর্মধা ইউনিয়নের মুরইছড়া বস্তির রেনু মিয়া (৩৬), সুমন মিয়া (১৮) ও রইস আলীসহ কয়েকজনের সঙ্গে পৃথিমপাশা ইউনিয়নের আলীনগর শিকরিয়া সীমান্ত দিয়ে ভারতের মাগুরুলী এলাকায় প্রবেশ করেন তারা মিয়া, উদ্দেশ্য ছিল চোরাই পণ্য আনা।

‎ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশের পর বিএসএফের ১৯৯ ব্যাটালিয়নের মাগুরুলী ক্যাম্পের টহল দলের সঙ্গে তাদের মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হয়। একপর্যায়ে বিএসএফ সদস্যরা গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই তারা মিয়া নিহত হন। এ সময় তার সঙ্গে থাকা অন্যরা পালিয়ে বাংলাদেশে ফিরে আত্মগোপনে চলে যান বলে পুলিশ ও বিজিবি সূত্র জানিয়েছে।

‎সোমবার বিকেলে চাতলাপুর সীমান্তে মরদেহ হস্তান্তর উপলক্ষে অনুষ্ঠিত পতাকা বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে কুলাউড়া থানার ওসি শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না, বিজিবির ৪৬ ব্যাটালিয়নের আলীনগর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার কাজী নাসিম এবং কুলাউড়া থানার এসআই ফরহাদ মাতব্বরসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। ভারতের পক্ষে ত্রিপুরার ইরানি থানার ইন্সপেক্টর শ্রীকান্ত চক্রবর্তী ও বিএসএফের মাগুরুলী ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার এসি রোহিতসহ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

‎বিজিবির ৪৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ বলেন, তারা মিয়া নিহত হওয়ার ঘটনায় পতাকা বৈঠকে বিএসএফ কর্মকর্তাদের কাছে বিজিবির পক্ষ থেকে কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। বৈঠক শেষে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়।

‎তিনি বলেন, ‘নিহত তরুণ চোরাকারবারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর স্বজনেরাও বিষয়টি স্বীকার করেছেন।’ সীমান্ত এলাকায় উঠতি বয়সী তরুণ-যুবকদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি নজরে এসেছে বলেও জানান তিনি।

‎বিজিবি অধিনায়ক আরও বলেন, সীমান্ত এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধে স্থানীয়দের নিয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি সীমান্তে বিজিবির টহল আরও জোরদার করা হবে।

‎তবে নিহতের মা আজিরুন্নেছার কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে কখনো চোরাকারবারে জড়িত ছিল না। টাকার লোভ দেখিয়ে স্থানীয় সুমনসহ কয়েকজন আমার ছেলেকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। আমি বাধা দিয়েছিলাম, কিন্তু ছেলে আমার কথা শোনেনি। পরে তারা ভারতে ঢুকে পড়লে বিএসএফ আমার ছেলেকে গুলি করে মেরে ফেলেছে। আমার বুকটা খালি হয়ে গেল।’

‎কুলাউড়া থানার ওসি শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, দুই দেশের আইনি প্রক্রিয়া শেষে সোমবার বিকেলে চাতলাপুর স্থলবন্দর সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় পুলিশ তারা মিয়ার মরদেহ কুলাউড়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

‎সীমান্তে তরুণদের চোরাচালানসহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়া এবং এমন পরিস্থিতিতে প্রাণহানির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় সীমান্তে প্রাণহানি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপের দাবিও উঠেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‎কুলাউড়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত তারা মিয়ার লাশ হস্তান্তর

‎কুলাউড়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত তারা মিয়ার লাশ হস্তান্তর

সময় ০২:৩৭:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬


‎মৌলভীবাজারের কুলাউড়া সীমান্তে ভারতের অভ্যন্তরে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এর গুলিতে নিহত বাংলাদেশি তরুণ তারা মিয়া (১৯)-এর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

‎সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার চাতলাপুর শুল্ক স্টেশন ও ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট এলাকায় বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর পতাকা বৈঠক শেষে ভারতীয় পুলিশ কুলাউড়া থানা পুলিশের কাছে তারা মিয়ার মরদেহ হস্তান্তর করে। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতের বড় ভাই রাজু মিয়ার কাছে মরদেহ বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

‎মরদেহ হস্তান্তরের সময় দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্য, পুলিশ, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও নিহতের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

‎নিহত তারা মিয়া কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের মুরইছড়া বস্তির বাসিন্দা আব্দুল মালেকের ছেলে।

‎কুলাউড়া থানা পুলিশ ও বিজিবি সূত্রে জানা যায়, শনিবার দিবাগত রাত ৩টার পর কর্মধা ইউনিয়নের মুরইছড়া বস্তির রেনু মিয়া (৩৬), সুমন মিয়া (১৮) ও রইস আলীসহ কয়েকজনের সঙ্গে পৃথিমপাশা ইউনিয়নের আলীনগর শিকরিয়া সীমান্ত দিয়ে ভারতের মাগুরুলী এলাকায় প্রবেশ করেন তারা মিয়া, উদ্দেশ্য ছিল চোরাই পণ্য আনা।

‎ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশের পর বিএসএফের ১৯৯ ব্যাটালিয়নের মাগুরুলী ক্যাম্পের টহল দলের সঙ্গে তাদের মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হয়। একপর্যায়ে বিএসএফ সদস্যরা গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই তারা মিয়া নিহত হন। এ সময় তার সঙ্গে থাকা অন্যরা পালিয়ে বাংলাদেশে ফিরে আত্মগোপনে চলে যান বলে পুলিশ ও বিজিবি সূত্র জানিয়েছে।

‎সোমবার বিকেলে চাতলাপুর সীমান্তে মরদেহ হস্তান্তর উপলক্ষে অনুষ্ঠিত পতাকা বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে কুলাউড়া থানার ওসি শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না, বিজিবির ৪৬ ব্যাটালিয়নের আলীনগর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার কাজী নাসিম এবং কুলাউড়া থানার এসআই ফরহাদ মাতব্বরসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। ভারতের পক্ষে ত্রিপুরার ইরানি থানার ইন্সপেক্টর শ্রীকান্ত চক্রবর্তী ও বিএসএফের মাগুরুলী ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার এসি রোহিতসহ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

‎বিজিবির ৪৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ বলেন, তারা মিয়া নিহত হওয়ার ঘটনায় পতাকা বৈঠকে বিএসএফ কর্মকর্তাদের কাছে বিজিবির পক্ষ থেকে কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। বৈঠক শেষে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়।

‎তিনি বলেন, ‘নিহত তরুণ চোরাকারবারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর স্বজনেরাও বিষয়টি স্বীকার করেছেন।’ সীমান্ত এলাকায় উঠতি বয়সী তরুণ-যুবকদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি নজরে এসেছে বলেও জানান তিনি।

‎বিজিবি অধিনায়ক আরও বলেন, সীমান্ত এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধে স্থানীয়দের নিয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি সীমান্তে বিজিবির টহল আরও জোরদার করা হবে।

‎তবে নিহতের মা আজিরুন্নেছার কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে কখনো চোরাকারবারে জড়িত ছিল না। টাকার লোভ দেখিয়ে স্থানীয় সুমনসহ কয়েকজন আমার ছেলেকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। আমি বাধা দিয়েছিলাম, কিন্তু ছেলে আমার কথা শোনেনি। পরে তারা ভারতে ঢুকে পড়লে বিএসএফ আমার ছেলেকে গুলি করে মেরে ফেলেছে। আমার বুকটা খালি হয়ে গেল।’

‎কুলাউড়া থানার ওসি শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, দুই দেশের আইনি প্রক্রিয়া শেষে সোমবার বিকেলে চাতলাপুর স্থলবন্দর সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় পুলিশ তারা মিয়ার মরদেহ কুলাউড়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

‎সীমান্তে তরুণদের চোরাচালানসহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়া এবং এমন পরিস্থিতিতে প্রাণহানির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় সীমান্তে প্রাণহানি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপের দাবিও উঠেছে।