
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার একটি পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জোরপূর্বক হালচাষ করার অভিযোগ উঠেছে বিবাদী পক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধীয় দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ না নেওয়া হলে যেকোনো সময় অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
মামলার বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বাউরভাগ কাটাখাল গ্রামের হাজী সমছুর উদ্দিনের ছেলে ফখরুল ইসলাম পৈতৃক সম্পত্তি রক্ষায় সিলেটের সিভিল জজ আদালতে মামলা নং-৪৮/২৬ দায়ের করেন। মামলার শুনানি শেষে আদালত চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিরোধীয় জমির ভোগদখল, ব্যবহার বা জমির অবস্থার কোনো পরিবর্তন না করার নির্দেশ দিয়ে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
অভিযোগকারী ফখরুল ইসলাম জানান, আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও মামলার প্রধান বিবাদী বাউরভাগ মল্লিফৌদ গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য ইসমাইল আলী ও তাঁর সহযোগীরা জোরপূর্বক জমিতে প্রবেশ করে হালচাষ শুরু করেন। বিষয়টি প্রতিরোধ এবং আইনগত সহায়তা পেতে তিনি জৈন্তাপুর মডেল থানায় আদালতের আদেশের অনুলিপিসহ একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
ফখরুল ইসলাম আরও জানান, অভিযোগের পর জৈন্তাপুর মডেল থানায় উভয় পক্ষকে ডেকে বসানো হয়। সেখানে পুলিশ বিরোধীয় জমিতে কোনো পক্ষকেই না যাওয়ার নির্দেশনা দেয়। তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে সেই সিদ্ধান্ত মেনে নিলেও প্রতিপক্ষ ইসমাইল আলী প্রকাশ্যে তাঁকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আমি জমি চাষ করতে যাব, পারলে তুমি প্রতিরোধ করিও।” এমন বক্তব্যে তিনি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বিবাদী ইসমাইল আলী আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্যের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, “২০১৭ সালে একটি বায়নাপত্রের মাধ্যমে আমি উক্ত জমির দখল বুঝে পাই। বর্তমানে পূর্ণাঙ্গ রেজিস্ট্রি ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জমির চূড়ান্ত মালিকানা ও দখল নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি।”
এ বিষয়ে জৈন্তাপুর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম বলেন, জমি সংক্রান্ত বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। তবে আদালতের নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত কোনো দাপ্তরিক পত্র এখনো থানায় পৌঁছায়নি। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে উভয় পক্ষকে সাময়িকভাবে বিরোধীয় জমিতে না যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে, আদালতের নির্দেশনা ও পুলিশের মৌখিক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও বিরোধীয় জমিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে।
জৈন্তাপুর প্রতিনিধি। 

















