
সিলেটের গোলাপগঞ্জে টেইলারিংয়ের কাজ শেখানোর কথা বলে এক তরুণীকে বাসায় এনে জোরপূর্বক ধর্ষণের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার একমাত্র পলাতক আসামি নিহার সরকার (৩৬)-কে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৯।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) আনুমানিক রাত ১১:১৫ মিনিটে মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের কুনিমুরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত নিহার সরকার মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া থানার হিঙ্গাজিয়া এলাকার নিতাই সরকারের ছেলে। তিনি সিলেটে এনআরবিসি কমার্শিয়াল ব্যাংকে সিকিউরিটি গার্ড পদে কর্মরত ছিলেন।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম মৌলভীবাজারের রাজনগর থানার পঞ্চনন্দপুর এলাকার বাসিন্দা। অন্যদিকে অভিযুক্ত নিহার সরকার তার পরিবার নিয়ে সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ থানার ঢাকা দক্ষিণ পূর্ব বাজারে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। সম্পর্কে তিনি ভিকটিমের খালু। নিহার সরকারের স্ত্রী ঢাকা দক্ষিণ বাজারে টেইলার্সের কাজ করেন এবং তিনি ভিকটিমকে কাজ শেখানোর কথা বলে তাদের ভাড়া বাসায় নিয়ে আসেন।
গত বছরের ১৫ অক্টোবর (১৫/১০/২০২৫ খ্রি.) সকাল আনুমানিক ১০:৩০ মিনিটে নিহার সরকারের স্ত্রী কাজের উদ্দেশ্যে বাইরে যান। এই সুযোগে নিহার সরকার ভিকটিমকে ঘরে ডেকে নিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন এবং তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন।
এই নৃশংস ঘটনার পর ভিকটিম বাদী হয়ে সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-২৪, তারিখ: ২৪/০৪/২০২৬ খ্রি.)। মামলার পর থেকেই আসামি নিহার সরকার আত্মগোপনে চলে যান।
মামলা দায়েরের পর থেকেই র্যাব-৯ এই ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল ২৫ জুন রাতে র্যাব-৯, সদর কোম্পানী (সিলেট) এবং সিপিসি-২ (শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার)-এর একটি যৌথ আভিযানিক দল কুলাউড়ার কুনিমুরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
র্যাব-৯ এর মিডিয়া অফিসার অতিঃ পুলিশ সুপার কে, এম, শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে গ্রেফতারকৃত আসামিকে সংশ্লিষ্ট গোলাপগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র্যাবের এই ধরনের অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।
স্টাফ রিপোর্টার 

















