সিলেট ০৬:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬
News Title :
‎সিলেটে সিএনজি-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে শিশু নিহত: ঘাতক চালক রুমেল গ্রেপ্তার ‎৩৭ বছরে চুনারুঘাট সাহিত্য-সংস্কৃতি পরিষদ, ‘বৈচিত্র্যের উৎসব ‎সিলেটে শব্দ ও পরিবেশ দূষণের দায়ে ১৪ ট্রাকচালককে জরিমানা ‎লাউয়াছড়ায় পাহাড়িকা এক্সপ্রেসের বগির হুক ছিঁড়ে রেল যোগাযোগ বন্ধ‎ ১৪৯ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বায়োমেট্রিক হাজিরা চালুর উদ্যোগ মাধবপুরে ‎গোয়াইনঘাট প্রেসক্লাবে টানা দ্বিতীয়বার সাধারণ সম্পাদক হচ্ছেন কে এম লিমন জামালপুরে ট্রেনের ধাক্কায় বয়োবৃদ্ধ জেলের মর্মান্তিক মৃত্যু জামালপুরে ৫ম উপজেলা কাব ক্যাম্পুরী উদ্বোধনে আদর্শিক চর্চা বাড়ানোর আহ্বান এমপি মামুনের কুলাউড়ায় ৮ হাজারের বেশি পানগাছ রাতে আঁধারে কেটে ফেলেছে দূর্বৃত্তরা! বড়লেখায় নিসচার উদ্যোগে সড়কে ঝোপঝাড় পরিষ্কার, মাসব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধন

নবীগঞ্জে বৃষ্টি-শিলাবৃষ্টির আশঙ্কায় আগাম ধান কাটা, লোকসানের আশঙ্কায় কৃষক


‎

‎
‎ভারি বৃষ্টিপাত, শিলাবৃষ্টি ও সম্ভাব্য বন্যার আশঙ্কায় হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার হাওরাঞ্চলে আগাম বোরো ধান কাটার চাপ বেড়েছে। আবহাওয়ার অনিশ্চয়তার মধ্যে দ্রুত ফসল ঘরে তুলতে গিয়ে শ্রমিক সংকট, হারভেস্টর মেশিনের নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি আদায় এবং বাজারে ধানের কম দামে বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা।
‎
‎উপজেলার বিভিন্ন হাওর এলাকায় সরেজমিনে ও কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চলতি মৌসুমে ধান পাকলেও সাম্প্রতিক ভারি বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টিতে কিছু এলাকায় আংশিক ক্ষতি হয়েছে।
‎এর মধ্যে পানি বৃদ্ধির আশঙ্কা থাকায় দ্রুত ধান কাটার তাগিদ তৈরি হয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় শ্রমিক না থাকায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কৃষকদের হারভেস্টর মেশিনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
‎
‎নবীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের দত্তগ্রামের কৃষক আব্দুর রকিব হক্কানী বলেন, শিলাবৃষ্টিতে তাঁর প্রায় দুই বিঘা জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অবশিষ্ট ধান দ্রুত কাটতে না পারলে পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি দিয়ে হারভেস্টর ব্যবহার করতে হচ্ছে বলে তিনি জানান।
‎
‎দীঘলবাক ইউনিয়নের কৃষক শফিক মিয়া বলেন, প্রতি বিঘা জমিতে ধান কাটতে দুই হাজার টাকার বেশি ব্যয় হচ্ছে। অন্যদিকে বাজারে ধানের দাম মণপ্রতি ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকার মধ্যে থাকায় উৎপাদন খরচ ওঠানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ঋণ নিয়ে চাষ করায় তিনি অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে আছেন বলে জানান।
‎
‎গজনাইপুর এলাকার কৃষক আব্দুল মান্নান বলেন, শ্রমিক সংকটের কারণে মেশিনে ধান কাটতে হচ্ছে। কিন্তু বৃষ্টি ও কাদামাটির কারণে অনেক ক্ষেত্রে মেশিন স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারছে না, এতে খরচ আরও বাড়ছে।
‎
‎উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ মৌসুমে নবীগঞ্জ উপজেলায় ১৮ হাজার ৯৫৬ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে হাওর এলাকায় ৫ হাজার ৬০৬ হেক্টর এবং নন-হাওর এলাকায় ১৩ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমি রয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮২ হাজার ৪২২ মেট্রিক টন চাল। ধান কাটার কাজে বর্তমানে ১১৬টি হারভেস্টর মেশিন ব্যবহৃত হচ্ছে।


‎
‎সরকারি হিসেবে প্রতি বিঘা জমিতে হারভেস্টরের ভাড়া ১ হাজার ৯০০ টাকা নির্ধারিত থাকলেও মাঠপর্যায়ে বেশি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এ বিষয়ে হারভেস্টর মালিকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি, তেলের সংকট এবং প্রতিকূল পরিবেশে কাদামাটিতে কাজ করার কারণে ব্যয় বেড়েছে।
‎
‎উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শেখ ফজলুল হক মনি বলেন, নির্ধারিত ভাড়ার বেশি নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে দ্রুত ধান কাটতে কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
‎
‎কৃষকদের পক্ষ থেকে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতি মোকাবিলায় প্রণোদনা ও আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধির দাবি জানানো হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে মৌসুম শেষে অনেক কৃষক লোকসানের মুখে পড়তে পারেন।
‎

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‎সিলেটে সিএনজি-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে শিশু নিহত: ঘাতক চালক রুমেল গ্রেপ্তার

নবীগঞ্জে বৃষ্টি-শিলাবৃষ্টির আশঙ্কায় আগাম ধান কাটা, লোকসানের আশঙ্কায় কৃষক

সময় ০৬:০৩:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬


‎

‎
‎ভারি বৃষ্টিপাত, শিলাবৃষ্টি ও সম্ভাব্য বন্যার আশঙ্কায় হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার হাওরাঞ্চলে আগাম বোরো ধান কাটার চাপ বেড়েছে। আবহাওয়ার অনিশ্চয়তার মধ্যে দ্রুত ফসল ঘরে তুলতে গিয়ে শ্রমিক সংকট, হারভেস্টর মেশিনের নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি আদায় এবং বাজারে ধানের কম দামে বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা।
‎
‎উপজেলার বিভিন্ন হাওর এলাকায় সরেজমিনে ও কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চলতি মৌসুমে ধান পাকলেও সাম্প্রতিক ভারি বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টিতে কিছু এলাকায় আংশিক ক্ষতি হয়েছে।
‎এর মধ্যে পানি বৃদ্ধির আশঙ্কা থাকায় দ্রুত ধান কাটার তাগিদ তৈরি হয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় শ্রমিক না থাকায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কৃষকদের হারভেস্টর মেশিনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
‎
‎নবীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের দত্তগ্রামের কৃষক আব্দুর রকিব হক্কানী বলেন, শিলাবৃষ্টিতে তাঁর প্রায় দুই বিঘা জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অবশিষ্ট ধান দ্রুত কাটতে না পারলে পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি দিয়ে হারভেস্টর ব্যবহার করতে হচ্ছে বলে তিনি জানান।
‎
‎দীঘলবাক ইউনিয়নের কৃষক শফিক মিয়া বলেন, প্রতি বিঘা জমিতে ধান কাটতে দুই হাজার টাকার বেশি ব্যয় হচ্ছে। অন্যদিকে বাজারে ধানের দাম মণপ্রতি ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকার মধ্যে থাকায় উৎপাদন খরচ ওঠানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ঋণ নিয়ে চাষ করায় তিনি অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে আছেন বলে জানান।
‎
‎গজনাইপুর এলাকার কৃষক আব্দুল মান্নান বলেন, শ্রমিক সংকটের কারণে মেশিনে ধান কাটতে হচ্ছে। কিন্তু বৃষ্টি ও কাদামাটির কারণে অনেক ক্ষেত্রে মেশিন স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারছে না, এতে খরচ আরও বাড়ছে।
‎
‎উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ মৌসুমে নবীগঞ্জ উপজেলায় ১৮ হাজার ৯৫৬ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে হাওর এলাকায় ৫ হাজার ৬০৬ হেক্টর এবং নন-হাওর এলাকায় ১৩ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমি রয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮২ হাজার ৪২২ মেট্রিক টন চাল। ধান কাটার কাজে বর্তমানে ১১৬টি হারভেস্টর মেশিন ব্যবহৃত হচ্ছে।


‎
‎সরকারি হিসেবে প্রতি বিঘা জমিতে হারভেস্টরের ভাড়া ১ হাজার ৯০০ টাকা নির্ধারিত থাকলেও মাঠপর্যায়ে বেশি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এ বিষয়ে হারভেস্টর মালিকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি, তেলের সংকট এবং প্রতিকূল পরিবেশে কাদামাটিতে কাজ করার কারণে ব্যয় বেড়েছে।
‎
‎উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শেখ ফজলুল হক মনি বলেন, নির্ধারিত ভাড়ার বেশি নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে দ্রুত ধান কাটতে কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
‎
‎কৃষকদের পক্ষ থেকে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতি মোকাবিলায় প্রণোদনা ও আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধির দাবি জানানো হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে মৌসুম শেষে অনেক কৃষক লোকসানের মুখে পড়তে পারেন।
‎