
হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় ১১ হাজার ২২০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষাবাদ হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোন জমির ফসল কাটা হয়নি।
লাখাইয়ে উন্নত জাতের বীজের অভাব ও পোকার আক্রমণে বোরো উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বন্যার আশঙ্কা করছেন ভাটি এলাকার কৃষকরা। হবিগঞ্জ জেলার পাশ্ববর্তী সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জে আগাম বন্যায় বোরো ফসল নষ্ট হওয়ায় খবর শুনে হবিগঞ্জের ভাটি অঞ্চলের কৃষকদের মধ্যেও ভীতি দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে লাখাই উপজেলার ৬ ১০/১২ হেক্টর জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন ৮/১০ জন কৃষক।
এদিকে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ সূত্রে জানা গেছে মৌসুম শুরু হলেও বিস্তীর্ণ এলাকায় ধান পরিপক্ক না হওয়ায় পুরোদমে ফসল কাটা শুরু হয়নি। লাখাই উপজেলায় ১১ হাজার ২শ ২০ হেক্টর ফসল আবাদ করা হয়েছে।
নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এটি ৭০ হেক্টর বেশি। উল্লেখিত চাষাবাদকৃত জমিতে সংশ্লিষ্ট বিভাগ ৫ লক্ষ ২২ হাজার ১শ ৯ মেট্টিক টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য্য করেছে।
লাখাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, ধলেশ্বরী নদীতে পানি বাড়ছে গত কয়েকদিন ধরে। লাখাই ইউনিয়নে শিবপুর, স্বজনগ্রাম এলাকায় প্রায় ৬ হেক্টর বোরো জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। তবে সব জমি নদীর পাড়ে নিম্ন জায়গায় রোপন করা হয়েছে।
উজানে পানি বাড়তে থাকলে উপজেলার হাওড় এলাকায় বোরো ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা করছেন তিনি। এই উপজেলায় ১১ হাজার ২২০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষাবাদ হয়েছে।
শিবপুর গ্রামের কৃষক আক্কল আলী বলেন,হঠাৎ জমিতে পানি প্রবেশ করায় কাঁচা ও আধা পাকা ধান কেটেছি। একদিকে ধানকাটা শ্রমিকের অভাব, অপরদিকে রোযা রেখে অনেকেই ধান কাটতে চান না। ছেলেমেয়ে নিয়ে এবার কী খাবো জানিনা। স্বজন গ্রামের আনজব আলী বলেন, এবার ১৮ কানি জমি চাষাবাদ করেছিলাম। ৫ কানি জমিই পানিতে ডুবে গেছে। জমি এখনো পাকে নাই।
এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের হবিগঞ্জের উপ-সহকারী প্রকৌশলী/শাখা কর্মকর্তা , শহর-সংরক্ষণ পানি উন্নয়ন শাখা (আজমিরীগঞ্জ, লাখাই) মো: মাসুম চৌধুরী বলেন লাখাইয়ে পানিতে জমি তলিয়ে গেছে আমাদের কেউ জানাই নি। তবে এ পানি জলবদ্ধতার কারনে হতে পাবে।
বিল্লাল আহমেদ লাখাই হবিগঞ্জ প্রতিনিধি 



















