সিলেট ০৪:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬
News Title :
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে যুবক সোহান নিখোঁজ উদ্বিগ্ন পরিবার ‎হবিগঞ্জ জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসকের সাথে বানিয়াচং ওলামা দলের সৌজন্য সাক্ষাৎ‎ টাঙ্গাইলের সখীপুরে মাকে হত্যার অভিযোগে ছেলে গ্রেফতার! বানিয়াচংয়ে সর্দারি নিয়ে দু’পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: সেনাসদস্যসহ আহত ২৫, এলাকায় চরম উত্তেজনা ঘাটাইলে পানিতে ডুবে ২ মাদ্রাসা ছাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু, আহত ২ ‎​টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে হামের উপসর্গে শিশুর মৃত্যু, চিকিৎসাধীন আরও ১৩‎ ‎মাধবপুর মনতলায় ট্রেন লাইনচ্যুত ১৮ ঘণ্টা পর সচল হচ্ছে সিলেট রেলপথ ‎মির্জাপুরে সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজি: যুবক আটক এলাকায় চাঞ্চল্য ‎বানিয়াচংয়ে প্রশাসনের কঠোর অভিযান: দুই দিনে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা ‎মাধবপুরে বিজিবি তৎপরতায় ট্রেন দুর্ঘটনা প্রায় ১,০০০ লিটার ডিজেল উদ্ধার
১ঘন্টা যানচলাচল বন্ধে যাত্রীদের দূর্ভোগ...

বানিয়াচংয়ে সর্দারি নিয়ে দু’পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: সেনাসদস্যসহ আহত ২৫, এলাকায় চরম উত্তেজনা

সংঘর্ষে দু’পক্ষের হাজার হাজার লোক জড়িয়ে পড়ে

হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে সর্দারির আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের ঘন্টাব্যাপী সংঘর্ষে এক সেনা সদস্য সহ উভয়পক্ষের অন্তত ২৫ জনের মতো আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত একজনকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

এনিয়ে এলাকায় টানটান উত্তেজনা বিরাজ করার খবর পাওয়া যায়। যেকোনো মুহূর্তে পুনঃরায় সংঘর্ষ হওয়ার আশংকায় রয়েছেন আশপাশের এলাকাবাসী। এদিকে উভয়পক্ষের সংঘর্ষ চলাকালে হবিগঞ্জ বানিয়াচং আঞ্চলিক সড়কে যানচলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। প্রায় ১ঘন্টার মতো বন্ধ থাকায় উভয়দিক থেকে আসা শত,শত গাড়ি আটকা পড়ে। এতে হাজারো যাত্রী সাধারণকে পোহাতে হয় চরম দূর্ভোগ।

খবর পেয়ে বানিয়াচং থানা পুলিশ স্হানীয়দের সহযোগীতা নিয়ে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনেন।

ঘটনাটি ঘটেছে,২রা এপ্রিল (শুক্রবার) হবিগঞ্জ জেলার  বানিয়াচং উপজেলা সদরের ৩নং দক্ষিণ পূর্ব ইউনিয়নের জাতুকর্ন পাড়ার ছান্দবাসীর মধ্যে। পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানাযায়,খেলার মাঠ ও ছান্দের সর্দারদের পূর্ব বিরোধের জের ধরে দু’টি পক্ষের বিরোধ চলে আসছিলো।

এরই ধারাবাহিকতায় ছান্দের সর্দার আনোয়ার মিয়ার সমর্থক ও অপর পক্ষ জাতুকর্ণ পাড়া ছান্দের মোজাম্মিল মিয়ার সমর্থকদের মধ্যে বেলা আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে দেশীয় ধারালো অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পরেন উভয় পক্ষের লোকজন।

স্থানীয় জাতুকর্ণ পাড়া ঈদগাহ্ বাজারের মধ্যে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে এবং আস্তে আস্তে সংঘর্ষটি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। এবং উভয়পক্ষের লোকজন অবস্থান নেন হবিগঞ্জ বানিয়াচং সড়কের শরীফ উদ্দিন রোড ও ঈদগাহ্ বাজারের মধ্যে সড়কের উপর। চলতে থাকে তাদের সংঘর্ষ।

এ-সময় ছান্দ সর্দার আনোয়ার মিয়ার পক্ষের বেশ কয়েকটি দোকানে ভাংচুরের চেষ্টা করা হলে বেশকিছু সাটারের ক্ষতি হয়। আর এতে আঞ্চলিক সড়কে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় ঘন্টা খানেকের মতো বন্ধ থাকার কারণে সড়কে আটকা পড়ে শতাধিক যানবাহন।

এতে উভয়দিক থেক আসা শতাধিক যানবাহনের হাজারো যাত্রী সাধারণ পড়েন চরম ভোগান্তি ও দুর্ভোগ এর মধ্যে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার পর সড়কটি স্বাভাবিক হয়। এবং আটকা পড়া যানবাহন পুনঃরায় চলাচল শুরু করে।

সংঘর্ষে ছান্দের সর্দার,তার আপন ভাই ও সেনাবাহিনীতে নিয়োজিত এক পুত্র সহ অন্তত উভয়পক্ষের ২৫ জনের মত আহত হন।

আহতদেরকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।  এর মধ্যে সর্দার আনোয়ার মিয়া (৪৮) দেলোয়ার মিয়া (৪০) ও সেনাবাহিনীতে নিয়োজিত তার পুত্র নাঈম মিয়া (২৬) নাজিম মিয়া (২৩) মুস্তাকিম মিয়া (৩০)দারগা মিয়া(৫৫) উসমান গনী সহ অনেক আহতরা ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেন। এছাড়াও অন্যান্য আহতরা বানিয়াচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সহ বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানাযায়।

অপরদিকে গুরুতর আহত জামিল মিয়া (২৩) এর অবস্থার অবনতি হলে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতাল থেকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল হাসপাতালে রেফার করা হয়। তাৎক্ষণিক সর্দার আনোয়ার মিয়ার পুত্র জামিল মিয়াকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল হাসপাতালে নিয়ে যান তার স্বজনরা।

এদিকে সংঘর্ষের পর পর জাতকর্ণ পাড়ায় ছুটে যান বানিয়াচং উপজেলা বিএনপির সভাপতি মুজিবুল হোসাইন মারুফ,উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক ও বড়বাজার ব্যবসায়ী কল্যান সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব লুৎফর রহমান,জনাব আলী ডিগ্রি কলেজের সাবেক ছাত্রদল সভাপতি ও বিএনপি নেতা সুহেল আহমেদ সহ সিনিয়র অনেক নেতৃবৃন্দ। পরে তারা আহত সর্দার আনোয়ার মিয়া সহ অন্যান্য আহতদের বাড়ি ঘরে যান।

এবং পুনঃরায় যেন তারা কেউই সংঘর্ষে না জড়ান এবিষয়ে উভয় পক্ষের লোকজনের সাথে আলাপ আলোচনা করেন। এবং তাদের বিষয়টি শালিসের মাধ্যমে মিমাংসা করার প্রস্তাব রাখেন।

পরে উভয়পক্ষ তাদের প্রস্তাবে রাজি হন। পরে তারা আহতদের চিকিৎসা চালানোর জন্য বলেন।

এবং সময় করে উভয় পক্ষকে নিয়ে একটি তারিখ নির্ধারণ করবেন বলে তাদেরকে আশ্বস্ত করেন নেতৃবৃন্দ।

এই বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাতকর্ণ পাড়া থেকে এসে (শুক্রবার) রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টায় শালিসান আলহাজ্ব লুৎফর রহমান।

উল্লেখ্য, এই ছান্দের সাবেক সর্দার আবু জাফর মিয়া ছান্দবাসীর কাছে ফান্ডের টাকার সঠিক হিসাব দিতে না পারায় তাঁকে বাতিল করা হয়।

প্রায় দেড় বছর ধরে ছান্দের সর্দার শূন্য হয়ে পড়ে।

কিন্তু এই চারটি মহল্লা নিয়ে ঘটিত এই ছান্দটি ১২জন দায়িত্ব নিয়ে পরিচালনা করে আসছিলেন বলে জানান এলাকাবাসী।

গত সোমবার রাতে চার মহল্লার লোকজন ছান্দের সর্দার হিসাবে আনোয়ার মিয়াকে নির্বাচিত করেন।

কিন্তু অপর পক্ষ তাকে মানতে নারাজ প্রকাশ করেন।

অপরপক্ষের দাবী মসজিদে মাইকিং করে চার মহল্লার লোকজনকে দাওয়াত করে দিনের বেলায় যার পক্ষে লোক বেশি হবে তাকে ছান্দের সর্দার হিসাবে নির্বাচিত করা হবে। এই ছান্দের সর্দারি নিয়ে ইতিপূর্বে বেশ কয়েকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। 

এমনকি দেড় বছর আগে এক সংঘর্ষের পর ছান্দের ৯ লাখ টাকা বানিয়াচং উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কাশেম চৌধুরীর নিকট জমা রয়েছে বলে জানান ছান্দবাসী। দীর্ঘ দেড় বছর ধরে ছান্দের সর্দার না থাকার কারণে আরও ২৭ লাখ টাকার মতো জমা আছে বলেও জানিয়েছেন।

ছান্দের সর্দার না থাকার কারণে উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কাশেম চৌধুরীর কাছে জমা রাখা ৯ লাখ টাকা এখন পর্যন্ত ছান্দের ফান্ডে জমা হয়নি।

এসব টাকার কারণে ঐ মূলত এই সর্দার নির্ধারনে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে বলে মনে করেন সচেতন মহল। কারণ একক সর্দার নির্বাচিত হলে, সর্দারগন ছান্দবাসীর মধ্যে টাকা বন্টন করার আগ পর্যন্ত বছরের পর বছর এই লাখ,লাখ টাকা নিজের কাজে লাগাতে পারেন বলেও অনেকে মন্তব্য করেন।

যার কারণে প্রায়ই উপজেলার বিভিন্ন ছান্দের মধ্যে সর্দার নির্ধারণ নিয়ে দু’টি পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে আসছে। এবং এসব সংঘর্ষে অনেকের প্রানহানীর ঘটনা সহ অনেকেই পঙ্গুত্ব বরণ করে জীবন কাটাচ্ছেন।

এ ব্যাপারে বানিয়াচং থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) শরীফ আহমেদ সংঘর্ষের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,বর্তমান এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং পুনঃরায় সংঘর্ষ এড়াতে পুলিশী টহল সহ নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে।

কোন পক্ষ হতে অভিযোগ না পেলেও মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে যুবক সোহান নিখোঁজ উদ্বিগ্ন পরিবার

১ঘন্টা যানচলাচল বন্ধে যাত্রীদের দূর্ভোগ...

বানিয়াচংয়ে সর্দারি নিয়ে দু’পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: সেনাসদস্যসহ আহত ২৫, এলাকায় চরম উত্তেজনা

সময় ১১:১৮:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬
সংঘর্ষে দু’পক্ষের হাজার হাজার লোক জড়িয়ে পড়ে

হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে সর্দারির আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের ঘন্টাব্যাপী সংঘর্ষে এক সেনা সদস্য সহ উভয়পক্ষের অন্তত ২৫ জনের মতো আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত একজনকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

এনিয়ে এলাকায় টানটান উত্তেজনা বিরাজ করার খবর পাওয়া যায়। যেকোনো মুহূর্তে পুনঃরায় সংঘর্ষ হওয়ার আশংকায় রয়েছেন আশপাশের এলাকাবাসী। এদিকে উভয়পক্ষের সংঘর্ষ চলাকালে হবিগঞ্জ বানিয়াচং আঞ্চলিক সড়কে যানচলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। প্রায় ১ঘন্টার মতো বন্ধ থাকায় উভয়দিক থেকে আসা শত,শত গাড়ি আটকা পড়ে। এতে হাজারো যাত্রী সাধারণকে পোহাতে হয় চরম দূর্ভোগ।

খবর পেয়ে বানিয়াচং থানা পুলিশ স্হানীয়দের সহযোগীতা নিয়ে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনেন।

ঘটনাটি ঘটেছে,২রা এপ্রিল (শুক্রবার) হবিগঞ্জ জেলার  বানিয়াচং উপজেলা সদরের ৩নং দক্ষিণ পূর্ব ইউনিয়নের জাতুকর্ন পাড়ার ছান্দবাসীর মধ্যে। পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানাযায়,খেলার মাঠ ও ছান্দের সর্দারদের পূর্ব বিরোধের জের ধরে দু’টি পক্ষের বিরোধ চলে আসছিলো।

এরই ধারাবাহিকতায় ছান্দের সর্দার আনোয়ার মিয়ার সমর্থক ও অপর পক্ষ জাতুকর্ণ পাড়া ছান্দের মোজাম্মিল মিয়ার সমর্থকদের মধ্যে বেলা আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে দেশীয় ধারালো অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পরেন উভয় পক্ষের লোকজন।

স্থানীয় জাতুকর্ণ পাড়া ঈদগাহ্ বাজারের মধ্যে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে এবং আস্তে আস্তে সংঘর্ষটি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। এবং উভয়পক্ষের লোকজন অবস্থান নেন হবিগঞ্জ বানিয়াচং সড়কের শরীফ উদ্দিন রোড ও ঈদগাহ্ বাজারের মধ্যে সড়কের উপর। চলতে থাকে তাদের সংঘর্ষ।

এ-সময় ছান্দ সর্দার আনোয়ার মিয়ার পক্ষের বেশ কয়েকটি দোকানে ভাংচুরের চেষ্টা করা হলে বেশকিছু সাটারের ক্ষতি হয়। আর এতে আঞ্চলিক সড়কে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় ঘন্টা খানেকের মতো বন্ধ থাকার কারণে সড়কে আটকা পড়ে শতাধিক যানবাহন।

এতে উভয়দিক থেক আসা শতাধিক যানবাহনের হাজারো যাত্রী সাধারণ পড়েন চরম ভোগান্তি ও দুর্ভোগ এর মধ্যে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার পর সড়কটি স্বাভাবিক হয়। এবং আটকা পড়া যানবাহন পুনঃরায় চলাচল শুরু করে।

সংঘর্ষে ছান্দের সর্দার,তার আপন ভাই ও সেনাবাহিনীতে নিয়োজিত এক পুত্র সহ অন্তত উভয়পক্ষের ২৫ জনের মত আহত হন।

আহতদেরকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।  এর মধ্যে সর্দার আনোয়ার মিয়া (৪৮) দেলোয়ার মিয়া (৪০) ও সেনাবাহিনীতে নিয়োজিত তার পুত্র নাঈম মিয়া (২৬) নাজিম মিয়া (২৩) মুস্তাকিম মিয়া (৩০)দারগা মিয়া(৫৫) উসমান গনী সহ অনেক আহতরা ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেন। এছাড়াও অন্যান্য আহতরা বানিয়াচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সহ বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানাযায়।

অপরদিকে গুরুতর আহত জামিল মিয়া (২৩) এর অবস্থার অবনতি হলে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতাল থেকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল হাসপাতালে রেফার করা হয়। তাৎক্ষণিক সর্দার আনোয়ার মিয়ার পুত্র জামিল মিয়াকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল হাসপাতালে নিয়ে যান তার স্বজনরা।

এদিকে সংঘর্ষের পর পর জাতকর্ণ পাড়ায় ছুটে যান বানিয়াচং উপজেলা বিএনপির সভাপতি মুজিবুল হোসাইন মারুফ,উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক ও বড়বাজার ব্যবসায়ী কল্যান সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব লুৎফর রহমান,জনাব আলী ডিগ্রি কলেজের সাবেক ছাত্রদল সভাপতি ও বিএনপি নেতা সুহেল আহমেদ সহ সিনিয়র অনেক নেতৃবৃন্দ। পরে তারা আহত সর্দার আনোয়ার মিয়া সহ অন্যান্য আহতদের বাড়ি ঘরে যান।

এবং পুনঃরায় যেন তারা কেউই সংঘর্ষে না জড়ান এবিষয়ে উভয় পক্ষের লোকজনের সাথে আলাপ আলোচনা করেন। এবং তাদের বিষয়টি শালিসের মাধ্যমে মিমাংসা করার প্রস্তাব রাখেন।

পরে উভয়পক্ষ তাদের প্রস্তাবে রাজি হন। পরে তারা আহতদের চিকিৎসা চালানোর জন্য বলেন।

এবং সময় করে উভয় পক্ষকে নিয়ে একটি তারিখ নির্ধারণ করবেন বলে তাদেরকে আশ্বস্ত করেন নেতৃবৃন্দ।

এই বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাতকর্ণ পাড়া থেকে এসে (শুক্রবার) রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টায় শালিসান আলহাজ্ব লুৎফর রহমান।

উল্লেখ্য, এই ছান্দের সাবেক সর্দার আবু জাফর মিয়া ছান্দবাসীর কাছে ফান্ডের টাকার সঠিক হিসাব দিতে না পারায় তাঁকে বাতিল করা হয়।

প্রায় দেড় বছর ধরে ছান্দের সর্দার শূন্য হয়ে পড়ে।

কিন্তু এই চারটি মহল্লা নিয়ে ঘটিত এই ছান্দটি ১২জন দায়িত্ব নিয়ে পরিচালনা করে আসছিলেন বলে জানান এলাকাবাসী।

গত সোমবার রাতে চার মহল্লার লোকজন ছান্দের সর্দার হিসাবে আনোয়ার মিয়াকে নির্বাচিত করেন।

কিন্তু অপর পক্ষ তাকে মানতে নারাজ প্রকাশ করেন।

অপরপক্ষের দাবী মসজিদে মাইকিং করে চার মহল্লার লোকজনকে দাওয়াত করে দিনের বেলায় যার পক্ষে লোক বেশি হবে তাকে ছান্দের সর্দার হিসাবে নির্বাচিত করা হবে। এই ছান্দের সর্দারি নিয়ে ইতিপূর্বে বেশ কয়েকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। 

এমনকি দেড় বছর আগে এক সংঘর্ষের পর ছান্দের ৯ লাখ টাকা বানিয়াচং উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কাশেম চৌধুরীর নিকট জমা রয়েছে বলে জানান ছান্দবাসী। দীর্ঘ দেড় বছর ধরে ছান্দের সর্দার না থাকার কারণে আরও ২৭ লাখ টাকার মতো জমা আছে বলেও জানিয়েছেন।

ছান্দের সর্দার না থাকার কারণে উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কাশেম চৌধুরীর কাছে জমা রাখা ৯ লাখ টাকা এখন পর্যন্ত ছান্দের ফান্ডে জমা হয়নি।

এসব টাকার কারণে ঐ মূলত এই সর্দার নির্ধারনে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে বলে মনে করেন সচেতন মহল। কারণ একক সর্দার নির্বাচিত হলে, সর্দারগন ছান্দবাসীর মধ্যে টাকা বন্টন করার আগ পর্যন্ত বছরের পর বছর এই লাখ,লাখ টাকা নিজের কাজে লাগাতে পারেন বলেও অনেকে মন্তব্য করেন।

যার কারণে প্রায়ই উপজেলার বিভিন্ন ছান্দের মধ্যে সর্দার নির্ধারণ নিয়ে দু’টি পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে আসছে। এবং এসব সংঘর্ষে অনেকের প্রানহানীর ঘটনা সহ অনেকেই পঙ্গুত্ব বরণ করে জীবন কাটাচ্ছেন।

এ ব্যাপারে বানিয়াচং থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) শরীফ আহমেদ সংঘর্ষের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,বর্তমান এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং পুনঃরায় সংঘর্ষ এড়াতে পুলিশী টহল সহ নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে।

কোন পক্ষ হতে অভিযোগ না পেলেও মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।