সিলেট ০৪:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
News Title :
বানিয়াচংয়ে জমকালো আয়োজনে স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট ও ইনোভেশন শোকেসিং প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত‎ ‎ক্লুলেস সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার রহস্য উদঘাটন, দুই আসামি গ্রেফতার ‎নবীগঞ্জের একমাত্র আসামি তুহিন সিলেট থেকে গ্রেফতার ‎লাখাইয়ে কর্মকর্তা সাংবাদিক  মুক্তিযোদ্ধা সহ সুশীল সমাজের সাথে মতবিনিময় করেন জেলা প্রশাসক। ‎জামালপুরের দিগপাইতে ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার: হত্যা নাকি আত্মহত্যা এ নিয়ে রহস্য!‎ ‎জামালপুরে গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে  পরিকল্পনা প্রণয়ন বিষয়ক কর্মশালা  ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রামু থেকে নিখোঁজ কলেজছাত্রী টাঙ্গাইলে উদ্ধার চুনারুঘাটে মাদকবিরোধী যৌথ অভিযান: নারীকে ৬ মাসের কারাদণ্ড, জরিমানা ‎সখিপুর পৌরসভায় ৩নং ওয়ার্ডে টানা বিদ্যুৎ বিপর্যয়: চরম ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ জামালপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাঠ পর্যায়ের কৃষি উন্নয়নমূলক ও মানবিক কার্যক্রম পরিদর্শন

‎বাহুবলে ওসির সাথে ‘উদ্ধত’ আচরণ: অডিও ফাঁসের পর উপজেলা বিএনপি সভাপতি তুষার আটক‎

আটককৃত বিএনপি সভাপতি ফেরদৌস চৌধুরী তুষার।


‎হবিগঞ্জের বাহুবল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজের অভিযোগে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফেরদৌস চৌধুরী তুষারকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
‎আজ রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে হবিগঞ্জ শহরের শায়েস্তানগর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। বর্তমানে তিনি ডিবি হেফাজতে রয়েছেন।

‎স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাহুবলের ভাদেশ্বর ইউনিয়নের বাসিন্দা ও ২০১৯ সালের ইউনিয়ন যুবলীগ কমিটির সদস্য মাসুক মিয়াকে সম্প্রতি পুলিশ গ্রেপ্তার করে। এরপর উপজেলা বিএনপির একাংশ দাবি করে মাসুক মিয়া তাদের দলের কর্মী। তাকে ছাড়িয়ে নিতে বিএনপি নেতারা থানায় তদবির শুরু করেন।

‎একপর্যায়ে সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী মখলিছুর রহমান ওসি সাইফুল ইসলামকে ফোন করে মাসুককে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানান। কিন্তু ওসি আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে তাকে ছাড়তে রাজি না হওয়ায় ক্ষুব্ধ হন বিএনপি নেতারা।

‎ঘটনার রেশ ধরে উপজেলা বিএনপি সভাপতি ফেরদৌস চৌধুরী তুষার ওসির ব্যক্তিগত নম্বরে ফোন দেন। কল রিসিভ না হওয়ায় পরবর্তীতে অন্য নম্বর থেকে ফোন করে ওসিকে লক্ষ্য করে চরম আপত্তিকর ও অশালীন ভাষা ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
‎ফাঁস হওয়া অডিওতে তুষারকে বলতে শোনা যায়, বাহুবলে ওসিগিরি করতে হলে তাকে জিজ্ঞেস করে করতে হবে। এই ফোনালাপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

‎বাহুবল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,আমি একটি কল ধরতে না পারায় তিনি অন্য নম্বর থেকে ফোন করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। একজন সরকারি কর্মকর্তার সাথে এমন আচরণ অত্যন্ত দুঃখজনক।
‎জেলা পুলিশের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, ঊর্ধ্বতন মহলের নির্দেশনায় এবং অডিও ক্লিপটির সত্যতা যাচাইয়ের প্রেক্ষিতে আজ দুপুরে তাকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

‎আটক হওয়ার আগে ফেরদৌস চৌধুরী তুষার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাইভে এসে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছিলেন। তবে বিষয়টি নিয়ে সরাসরি তার বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
‎এই ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহল সরকারি কর্মকর্তার সাথে এমন আচরণের নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বানিয়াচংয়ে জমকালো আয়োজনে স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট ও ইনোভেশন শোকেসিং প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত‎

‎বাহুবলে ওসির সাথে ‘উদ্ধত’ আচরণ: অডিও ফাঁসের পর উপজেলা বিএনপি সভাপতি তুষার আটক‎

সময় ০৫:০৩:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
আটককৃত বিএনপি সভাপতি ফেরদৌস চৌধুরী তুষার।


‎হবিগঞ্জের বাহুবল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজের অভিযোগে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফেরদৌস চৌধুরী তুষারকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
‎আজ রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে হবিগঞ্জ শহরের শায়েস্তানগর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। বর্তমানে তিনি ডিবি হেফাজতে রয়েছেন।

‎স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাহুবলের ভাদেশ্বর ইউনিয়নের বাসিন্দা ও ২০১৯ সালের ইউনিয়ন যুবলীগ কমিটির সদস্য মাসুক মিয়াকে সম্প্রতি পুলিশ গ্রেপ্তার করে। এরপর উপজেলা বিএনপির একাংশ দাবি করে মাসুক মিয়া তাদের দলের কর্মী। তাকে ছাড়িয়ে নিতে বিএনপি নেতারা থানায় তদবির শুরু করেন।

‎একপর্যায়ে সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী মখলিছুর রহমান ওসি সাইফুল ইসলামকে ফোন করে মাসুককে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানান। কিন্তু ওসি আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে তাকে ছাড়তে রাজি না হওয়ায় ক্ষুব্ধ হন বিএনপি নেতারা।

‎ঘটনার রেশ ধরে উপজেলা বিএনপি সভাপতি ফেরদৌস চৌধুরী তুষার ওসির ব্যক্তিগত নম্বরে ফোন দেন। কল রিসিভ না হওয়ায় পরবর্তীতে অন্য নম্বর থেকে ফোন করে ওসিকে লক্ষ্য করে চরম আপত্তিকর ও অশালীন ভাষা ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
‎ফাঁস হওয়া অডিওতে তুষারকে বলতে শোনা যায়, বাহুবলে ওসিগিরি করতে হলে তাকে জিজ্ঞেস করে করতে হবে। এই ফোনালাপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

‎বাহুবল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,আমি একটি কল ধরতে না পারায় তিনি অন্য নম্বর থেকে ফোন করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। একজন সরকারি কর্মকর্তার সাথে এমন আচরণ অত্যন্ত দুঃখজনক।
‎জেলা পুলিশের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, ঊর্ধ্বতন মহলের নির্দেশনায় এবং অডিও ক্লিপটির সত্যতা যাচাইয়ের প্রেক্ষিতে আজ দুপুরে তাকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

‎আটক হওয়ার আগে ফেরদৌস চৌধুরী তুষার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাইভে এসে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছিলেন। তবে বিষয়টি নিয়ে সরাসরি তার বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
‎এই ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহল সরকারি কর্মকর্তার সাথে এমন আচরণের নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।