সিলেট ০৫:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
News Title :
‎জামালপুরে টেকসই কৃষি,পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বায়ােপেস্টিসাইডের ব্যবহার বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত।‎ মাধআপুরে ৩০ বছরের জরাজীর্ণ ভবন, ছাদ ধসে আহত দপ্তরি, বন্ধ পাঠদান ১০ দফা দাবিতে শান্তিগঞ্জে কৃষক-মজুর-মৎস্যজীবীদের বৈঠক‎,আন্দোলন জোরদারের ঘোষণা ‎সিলেটে র‍্যাব-বিজিবির যৌথ অভিযান: ১৩ লাখ টাকার ভারতীয় চোরাচালান পণ্যসহ ট্রাক জব্দ ‎ছাতকে মাদকবিরোধী ও আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক সচেতনতামূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত ‎আদালতে অভিযোগ- বিশ্বনাথে সংবাদ সম্মেলন,‎ বিদেশে যেতে দালালের খপ্পরে সর্বস্বান্ত ২১ পরিবার‎ ‎বানিয়াচং মডেল প্রেসক্লাবের কমিটি গঠন‎সভাপতি, শিব্বির আহমদ, সেক্রেটারি, আব্দাল মিয়া ‎শান্তিগঞ্জ প্রেসক্লাবকে অভিনন্দন, সাংবাদিকদের প্রশংসা করলেন ফারুক আহমদ‎ ‎সিলেটে অনলাইন জুয়া চক্রের ২ সদস্য গ্রেফতার: উদ্ধার ৪ খাতা ও মোবাইল শান্তিগঞ্জ প্রেসক্লাবের নবগঠিত কমিটিকে “শান্তিগঞ্জ সমিতি সিলেট”এর অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন...

‎টাঙ্গাইলে ভোটের লড়াই: প্রার্থীদের মূল টার্গেট এখন ‘আওয়ামী’ ভোটব্যাংক

টাঙ্গাইলের ৮টি আসনের প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীদের সংগৃহিত ছবি


‎আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে টাঙ্গাইলের ৮টি সংসদীয় আসনে রাজনৈতিক উত্তাপ এখন তুঙ্গে। তবে এবারের নির্বাচনের সমীকরণ সম্পূর্ণ ভিন্ন। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক অনুপস্থিতিতে দলটির তৃণমূলের বিশাল সমর্থক গোষ্ঠী ও ‘নীরব’ ভোটাররাই এখন সব প্রার্থীর প্রধান টার্গেটে পরিণত হয়েছেন। জেলার রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিশাল ভোটব্যাংক যে প্রার্থীর দিকে ঝুঁঁকবে, তার বিজয় অনেকটাই নিশ্চিত।

‎ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত উঠোন বৈঠক, পথসভা এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন প্রার্থীরা। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সমর্থক হিসেবে পরিচিত পরিবারগুলোতে গিয়ে প্রার্থীরা অভয় দিচ্ছেন এবং উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি তুলে ধরছেন।
‎এছাড়া হিন্দু ভোটারদের টানতে বিএনপি ও জামায়াত অত্যন্ত কৌশলী ভূমিকা পালন করছে। সাধারণ ভোটাররা মূলত উন্নয়নের পাশাপাশি সামাজিক শান্তি ও চাঁদাবাজিমুক্ত পরিবেশের প্রত্যাশা করছেন। সব প্রার্থী এখন ভোটারদের মন জয় করতে মরিয়া হয়ে আছেন। রাতদিন দিচ্ছেন নানান প্রতিশ্রুতি।
‎জেলার ৮ টি আসনের সমীকরণে দেখা যায় এখানে প্রতিটি আসনে বিএনপি ও জামাতের ইসলামের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভাবনা খুবই বেশি। তবে বেশ কয়টি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সাথে বা ত্রিমুখী লড়াইয়ে আবাস পাওয়া যায়।
‎টাঙ্গাইলের ৮ টি আসনের ভোটারদের আসন ভিত্তিক পর্যালোচনায় দেখা যায়,
‎টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ি) মোট ভোটার ৪,৩৩,৬৯৩ জন। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ফকির মাহবুব আনাম (বিএনপি), মুহাম্মদ আব্দুল্লাহেল কাফী (জামায়াত), মুহাম্মদ ইলিয়াছ হোসেন (জাতীয় পার্টি), মোহাম্মদ আলী (স্বতন্ত্র-বিদ্রোহী), মো. আসাদুল ইসলাম (স্বতন্ত্র) এবং মো. হারুন অর রশিদ (ইসলামী আন্দোলন)।
‎টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর): মোট ভোটার ৪,১৩,৫৬১ জন। এখানে লড়ছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সালাম পিন্টু, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. হুমায়ুন কবীর, জাতীয় পার্টির হুমায়ুন কবীর তালুকদার এবং ইসলামী আন্দোলনের মনোয়ার হোসেন সাগর।
‎টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল): মোট ভোটার ৩,৭৭,৩৬৫ জন। প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী এসএম ওবায়দুল নাসির (বিএনপি), সাইফুল্লা হায়দার (এনসিপি), মো. রেজাউল করিম (ইসলামী আন্দোলন), লুৎফুর রহমান খান আজাদ (স্বতন্ত্র-বিদ্রোহী) ও আইনুন নাহার (স্বতন্ত্র)।
‎টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী): মোট ভোটার ৩,৭০,০৩৯ জন। হেভিওয়েট প্রার্থী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী (স্বতন্ত্র) ছাড়াও লড়ছেন লুৎফর রহমান মতিন (বিএনপি), আব্দুল হালিম মিঞা (স্বতন্ত্র-বিদ্রোহী), খন্দকার আব্দুর রাজ্জাক (জামায়াত) ও মো. লিয়াকত আলী (জাতীয় পার্টি)।
‎টাঙ্গাইল-৫ (সদর): এখানে চলছে ‘হাড্ডাহাড্ডি’ লড়াই। ভোটার ৪,৫৭,১৭৩ জন। লড়াই মূলত সুলতান সালাউদ্দিন টুকু (বিএনপি) ও ফরহাদ ইকবালের (স্বতন্ত্র-বিদ্রোহী) মধ্যে। এছাড়া জামায়াতের আহসান হাবিব মাসুদ ও জাতীয় পার্টির মোজাম্মেল হকও মাঠে সক্রিয়।
‎টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার): মোট ভোটার ৪,৬২,৩৪১ জন। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মো. রবিউল আওয়াল (বিএনপি), মো. জুয়েল সরকার (স্বতন্ত্র-বিদ্রোহী), একেএম আব্দুল হামিদ (জামায়াত) ও মামুনুর রহিম (জাতীয় পার্টি)।
‎টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর): মোট ভোটার ৩,৭০,৮২৭ জন। আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী (বিএনপি) ও জামায়াতের মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ এবনে আবুল হোসেনের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
‎টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর): মোট ভোটার ৪,০৯,৩০৮ জন। এখানে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী আহমেদ আযম খান, জামায়াতের মো. শফিকুল ইসলাম খান এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী শিল্পপতি সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেলের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে।

‎ বিএনপি ‘রাষ্ট্র মেরামতের ২৩ দফা’ ও ফ্যামিলি কার্ড চালুর প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। যমুনার ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ, বিসিক শিল্পনগরীর আধুনিকায়ন, কৃষিঋণ মওকুফ এবং টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী তাঁত ও আনারস প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প স্থাপনের আশ্বাস দিচ্ছেন তারা
‎জামায়াতে ইসলামী: ‘ইনসাফ ও সামাজিক নিরাপত্তা’কে প্রাধান্য দিচ্ছে। দুর্নীতিমুক্ত সমাজ, চাঁদাবাজি বন্ধ এবং প্রতিটি নাগরিকের (বিশেষ করে সংখ্যালঘু) জানমালের নিরাপত্তার গ্যারান্টি দিচ্ছে দলটি।
‎অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র: জাতীয় পার্টি, এনসিপি ও ইসলামী আন্দোলন মূলত ‘রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সংহতি’র কথা বলছে। সংঘাতমুক্ত পরিবেশ গড়ার মাধ্যমে আওয়ামী সমর্থকদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করছেন তারা।

‎মাঠ পর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট হলে টাঙ্গাইল-১, ২, ৬ ও ৭ আসনে বিএনপির পাল্লা ভারী। অন্যদিকে টাঙ্গাইল-৩, ৪ ও ৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। অপরদিকে
‎টাঙ্গাইল-৫ আসনে বিএনপি ও এর বিদ্রোহী প্রার্থীর লড়াই চরম তুঙ্গে।
‎এখানে বিএনপি ও বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে মুল লড়ায়ের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী কিন্তু অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী। তাদের ও নিজস্ব ভোট ব্যাংক রয়েছে।
‎জেলায় আওয়ামী লীগের প্রায় ৩০-৪০ শতাংশ ভোটব্যাংক রয়েছে। এই ভোটাররা এখনো ‘নীরব’ এবং পর্যবেক্ষকের ভূমিকা পালন করছেন। যারা সামাজিক শান্তি ও নিরাপত্তার শতভাগ নিশ্চয়তা দিতে পারবেন, এই বিশাল ভোটব্যাংক তাদের ঝুড়িতেই যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
‎জেলায় মোট সংসদীয় আসন: ০৮টি মোট ভোটার সংখ্যা ৩৩,৩৪,৪২৭ জন মোট প্রার্থী: ৪৭ জন মোট ভোটকেন্দ্র: ১,০৬৩টি।
‎তবে শেষ পর্যন্ত এই রাজনৈতিক আধিপত্যের লড়াইয়ে জয় কার হয়, তা দেখার জন্য সবাইকে নির্বাচনের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‎জামালপুরে টেকসই কৃষি,পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বায়ােপেস্টিসাইডের ব্যবহার বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত।‎

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন...

‎টাঙ্গাইলে ভোটের লড়াই: প্রার্থীদের মূল টার্গেট এখন ‘আওয়ামী’ ভোটব্যাংক

সময় ০২:০৬:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

টাঙ্গাইলের ৮টি আসনের প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীদের সংগৃহিত ছবি


‎আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে টাঙ্গাইলের ৮টি সংসদীয় আসনে রাজনৈতিক উত্তাপ এখন তুঙ্গে। তবে এবারের নির্বাচনের সমীকরণ সম্পূর্ণ ভিন্ন। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক অনুপস্থিতিতে দলটির তৃণমূলের বিশাল সমর্থক গোষ্ঠী ও ‘নীরব’ ভোটাররাই এখন সব প্রার্থীর প্রধান টার্গেটে পরিণত হয়েছেন। জেলার রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিশাল ভোটব্যাংক যে প্রার্থীর দিকে ঝুঁঁকবে, তার বিজয় অনেকটাই নিশ্চিত।

‎ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত উঠোন বৈঠক, পথসভা এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন প্রার্থীরা। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সমর্থক হিসেবে পরিচিত পরিবারগুলোতে গিয়ে প্রার্থীরা অভয় দিচ্ছেন এবং উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি তুলে ধরছেন।
‎এছাড়া হিন্দু ভোটারদের টানতে বিএনপি ও জামায়াত অত্যন্ত কৌশলী ভূমিকা পালন করছে। সাধারণ ভোটাররা মূলত উন্নয়নের পাশাপাশি সামাজিক শান্তি ও চাঁদাবাজিমুক্ত পরিবেশের প্রত্যাশা করছেন। সব প্রার্থী এখন ভোটারদের মন জয় করতে মরিয়া হয়ে আছেন। রাতদিন দিচ্ছেন নানান প্রতিশ্রুতি।
‎জেলার ৮ টি আসনের সমীকরণে দেখা যায় এখানে প্রতিটি আসনে বিএনপি ও জামাতের ইসলামের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভাবনা খুবই বেশি। তবে বেশ কয়টি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সাথে বা ত্রিমুখী লড়াইয়ে আবাস পাওয়া যায়।
‎টাঙ্গাইলের ৮ টি আসনের ভোটারদের আসন ভিত্তিক পর্যালোচনায় দেখা যায়,
‎টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ি) মোট ভোটার ৪,৩৩,৬৯৩ জন। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ফকির মাহবুব আনাম (বিএনপি), মুহাম্মদ আব্দুল্লাহেল কাফী (জামায়াত), মুহাম্মদ ইলিয়াছ হোসেন (জাতীয় পার্টি), মোহাম্মদ আলী (স্বতন্ত্র-বিদ্রোহী), মো. আসাদুল ইসলাম (স্বতন্ত্র) এবং মো. হারুন অর রশিদ (ইসলামী আন্দোলন)।
‎টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর): মোট ভোটার ৪,১৩,৫৬১ জন। এখানে লড়ছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সালাম পিন্টু, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. হুমায়ুন কবীর, জাতীয় পার্টির হুমায়ুন কবীর তালুকদার এবং ইসলামী আন্দোলনের মনোয়ার হোসেন সাগর।
‎টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল): মোট ভোটার ৩,৭৭,৩৬৫ জন। প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী এসএম ওবায়দুল নাসির (বিএনপি), সাইফুল্লা হায়দার (এনসিপি), মো. রেজাউল করিম (ইসলামী আন্দোলন), লুৎফুর রহমান খান আজাদ (স্বতন্ত্র-বিদ্রোহী) ও আইনুন নাহার (স্বতন্ত্র)।
‎টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী): মোট ভোটার ৩,৭০,০৩৯ জন। হেভিওয়েট প্রার্থী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী (স্বতন্ত্র) ছাড়াও লড়ছেন লুৎফর রহমান মতিন (বিএনপি), আব্দুল হালিম মিঞা (স্বতন্ত্র-বিদ্রোহী), খন্দকার আব্দুর রাজ্জাক (জামায়াত) ও মো. লিয়াকত আলী (জাতীয় পার্টি)।
‎টাঙ্গাইল-৫ (সদর): এখানে চলছে ‘হাড্ডাহাড্ডি’ লড়াই। ভোটার ৪,৫৭,১৭৩ জন। লড়াই মূলত সুলতান সালাউদ্দিন টুকু (বিএনপি) ও ফরহাদ ইকবালের (স্বতন্ত্র-বিদ্রোহী) মধ্যে। এছাড়া জামায়াতের আহসান হাবিব মাসুদ ও জাতীয় পার্টির মোজাম্মেল হকও মাঠে সক্রিয়।
‎টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার): মোট ভোটার ৪,৬২,৩৪১ জন। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মো. রবিউল আওয়াল (বিএনপি), মো. জুয়েল সরকার (স্বতন্ত্র-বিদ্রোহী), একেএম আব্দুল হামিদ (জামায়াত) ও মামুনুর রহিম (জাতীয় পার্টি)।
‎টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর): মোট ভোটার ৩,৭০,৮২৭ জন। আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী (বিএনপি) ও জামায়াতের মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ এবনে আবুল হোসেনের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
‎টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর): মোট ভোটার ৪,০৯,৩০৮ জন। এখানে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী আহমেদ আযম খান, জামায়াতের মো. শফিকুল ইসলাম খান এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী শিল্পপতি সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেলের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে।

‎ বিএনপি ‘রাষ্ট্র মেরামতের ২৩ দফা’ ও ফ্যামিলি কার্ড চালুর প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। যমুনার ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ, বিসিক শিল্পনগরীর আধুনিকায়ন, কৃষিঋণ মওকুফ এবং টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী তাঁত ও আনারস প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প স্থাপনের আশ্বাস দিচ্ছেন তারা
‎জামায়াতে ইসলামী: ‘ইনসাফ ও সামাজিক নিরাপত্তা’কে প্রাধান্য দিচ্ছে। দুর্নীতিমুক্ত সমাজ, চাঁদাবাজি বন্ধ এবং প্রতিটি নাগরিকের (বিশেষ করে সংখ্যালঘু) জানমালের নিরাপত্তার গ্যারান্টি দিচ্ছে দলটি।
‎অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র: জাতীয় পার্টি, এনসিপি ও ইসলামী আন্দোলন মূলত ‘রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সংহতি’র কথা বলছে। সংঘাতমুক্ত পরিবেশ গড়ার মাধ্যমে আওয়ামী সমর্থকদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করছেন তারা।

‎মাঠ পর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট হলে টাঙ্গাইল-১, ২, ৬ ও ৭ আসনে বিএনপির পাল্লা ভারী। অন্যদিকে টাঙ্গাইল-৩, ৪ ও ৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। অপরদিকে
‎টাঙ্গাইল-৫ আসনে বিএনপি ও এর বিদ্রোহী প্রার্থীর লড়াই চরম তুঙ্গে।
‎এখানে বিএনপি ও বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে মুল লড়ায়ের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী কিন্তু অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী। তাদের ও নিজস্ব ভোট ব্যাংক রয়েছে।
‎জেলায় আওয়ামী লীগের প্রায় ৩০-৪০ শতাংশ ভোটব্যাংক রয়েছে। এই ভোটাররা এখনো ‘নীরব’ এবং পর্যবেক্ষকের ভূমিকা পালন করছেন। যারা সামাজিক শান্তি ও নিরাপত্তার শতভাগ নিশ্চয়তা দিতে পারবেন, এই বিশাল ভোটব্যাংক তাদের ঝুড়িতেই যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
‎জেলায় মোট সংসদীয় আসন: ০৮টি মোট ভোটার সংখ্যা ৩৩,৩৪,৪২৭ জন মোট প্রার্থী: ৪৭ জন মোট ভোটকেন্দ্র: ১,০৬৩টি।
‎তবে শেষ পর্যন্ত এই রাজনৈতিক আধিপত্যের লড়াইয়ে জয় কার হয়, তা দেখার জন্য সবাইকে নির্বাচনের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।