
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আগামী দিন ভাগ্য গড়ার দিন, আগামী দিন দেশ গড়ার দিন। আগামী দিনের রাজনীতি হবে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের রাজনীতি এবং দেশের উন্নয়নের রাজনীতি। এই দেশ কোনো নির্দিষ্ট দলের নয়,কোনো ব্যক্তির নয়—এই দেশ এ দেশের কোটি জনগণের।
শনিবার ৩১ জানুয়ারি সন্ধ্যায় টাঙ্গাইলের দরুন-চরজানা বাইপাস এলাকার খোলা মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। যমুনা সেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়ক সংলগ্ন এই জনসভায় ঢল নামে হাজার হাজার মানুষের।
তারেক রহমান বলেন,বহু কষ্টে এবং অনেক রক্ত দিয়ে আমরা পুনরায় স্বাধীনতার স্বাদ পেয়েছি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট অনুষ্ঠিত হবে। তবে এই নির্বাচনকে শুধু একটি সাধারণ নির্বাচন হিসেবে দেখলে চলবে না,এটি হতে হবে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের দিন।

তিনি গত ৫ আগস্টের আন্দোলনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ৫ আগস্ট যেভাবে মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিল, ঠিক সেভাবেই ১২ তারিখে ভোট দিতে হবে। এই ভোটে যদি আমরা গণতন্ত্রকে শক্ত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠা করতে না পারি, তবে গণতন্ত্র আবারও বাধাগ্রস্ত হবে। তাই ভোটের আগের দিন থেকেই সকলকে প্রস্তুতি নিতে হবে।
ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় সতর্ক থাকার আহ্বান
দেশনায়ক তারেক রহমান ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন,আমাদের সতর্ক থাকতে হবে যেন কেউ ষড়যন্ত্র করে মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিতে না পারে। এই মুহূর্তে বিএনপিই একমাত্র রাজনৈতিক দল যাদের অভিজ্ঞতা আছে যে কীভাবে দেশকে সুন্দরভাবে সামনের দিকে পরিচালিত করতে হয়।

তিনি আরও যোগ করেন,বাংলাদেশের মালিক এ দেশের জনগণ। ১২ তারিখে জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে দেশ কীভাবে চলবে। ইনশাআল্লাহ, ভোটের পর ১৩ তারিখ থেকেই আমরা দেশ গড়ার কাজ শুরু করবো।
টাঙ্গাইলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা নিয়ে তারেক রহমান তার বক্তব্যে বিশেষ গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন,টাঙ্গাইলের শাড়ি ও টুপি বিশ্ববিখ্যাত। পরিকল্পিতভাবে চেষ্টা করলে আমরা এর আন্তর্জাতিক বাজার আরও বড় করতে পারি।
এ এলাকায় প্রচুর আনারস চাষ হয়, যা প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে লাভবান হওয়া সম্ভব। টাঙ্গাইলে পাটশিল্পের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এটি পরিকল্পিতভাবে বিদেশের বাজারে রপ্তানি করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
২০ কোটি মানুষকে নিয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন,দেশ গড়তে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। ঐক্যই আমাদের মূল শক্তি।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, টাঙ্গাইলে প্রায় ৪ লাখ ৬৫ হাজার ভোটার। যমুনা নদীর তীরবর্তী চরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ, মাহমুদনগর ও কাশিনগর এলাকায় দুটি সেতু নির্মাণ, করটিয়া সরকারি সাদত কলেজকে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর, ঢাকার নিকটবর্তী টাঙ্গাইলে শক্তিশালী ইকোনমিক জোন প্রতিষ্ঠা এবং স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার দাবি করছি।তিনি বলেন, টাঙ্গাইল পৌরসভার ১৮টি ওয়ার্ডের আয়তন ও জনসংখ্যা বিবেচনায় এটিকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করা সময়ের দাবি। একই সঙ্গে টাঙ্গাইলবাসীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে একটি আধুনিক হাসপাতাল স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ইনশাআল্লাহ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণের ভোটে বিএনপি সরকার গঠন করলে এবং তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হলে টাঙ্গাইলবাসীর এসব ন্যায্য দাবি বাস্তবায়ন করা হবে।
পরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান টাঙ্গাইলবাসীর উত্থাপিত সব দাবি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন।
টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিলের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই জনসভায় টাঙ্গাইলের ৮টি সংসদীয় আসনের ধানের শীষের প্রার্থীরা বক্তব্য রাখেন। সভাটি পরিচালনা করেন বিএনপির প্রচার সম্পাদক ও টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। বক্তব্য শেষে তারেক রহমান ৮টি আসনের প্রার্থীদের জনগণের সামনে পরিচয় করিয়ে দেন এবং ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে কয়েক দিনের ব্যস্ত সফর শেষ করে ঢাকা ফেরার পথে শনিবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ এবং বিকেলে টাঙ্গাইলে এই নির্বাচনি জনসভায় ভাষণ দেন তিনি। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।
হ্যাপি আক্তার & শরীফ খান মান্না টাঙ্গাইল থেকে 



















