
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিলেটে বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ, বিস্ফোরক ও অস্ত্র উদ্ধার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৯)। অভিযানে দুই যুবককে গ্রেফতারের পাশাপাশি একটি কাভার্ডভ্যান জব্দ করা হয়েছে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকাল ১১ টায় সিলেট ব্যাটালিয়ন সদরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাব-৯ এর অধিনায়ক উইং কমান্ডার তাজমিনুর রহমান চৌধুরী, পিএসসি, জিডি (পি)।
অভিনব কায়দায় কার্তুজ পাচার, গ্রেফতার ২
র্যাব জানায়, রোববার সুনামগঞ্জ সদর থানা এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় একটি কাভার্ডভ্যানে অত্যন্ত সুকৌশলে লুকিয়ে রাখা ২৮০ রাউন্ড শটগানের কার্তুজসহ দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হল, আবু জাহের (২৫) পিতা- মৃত আব্দুর রহিম, গ্রাম- ইসলামপুর, সুনামগঞ্জ সদর।
তোফাজ্জল হোসেন সোহরাব (২৪): পিতা- আব্দুল কাদির, গ্রাম- কালিপুর, রায়পুরা, নরসিংদী।
পৃথক অভিযানে সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার একটি পরিত্যক্ত বাসা থেকে শক্তিশালী ২০টি পাওয়ার জেল বিস্ফোরক, ১০টি ডেটোনেটর এবং দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ১টি পাইপগান উদ্ধার করে র্যাব। নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্যে এগুলো মজুত করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-৯ এর অধিনায়ক উইং কমান্ডার তাজমিনুর রহমান চৌধুরী বলেন,নির্বাচনকালীন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী র্যাব মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। প্রতিটি আসনে টহল কার্যক্রমের পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে আমরা কাজ করছি।
তিনি আরও জানান, উপজেলা ভিত্তিক গোয়েন্দা টিমগুলো মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় রয়েছে। কোনো নিরীহ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার বা গ্রেফতার না হয়, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখা হচ্ছে।
অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারে র্যাবের এই কঠোর অবস্থান জনমনে স্বস্তি ও প্রশংসা কুড়িয়েছে বলে জানান।

র্যাব-৯ এর তথ্যমতে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে এ পর্যন্ত সিলেট অঞ্চলে মোট ৭৮টি পৃথক অভিযান চালানো হয়েছে। এসব অভিযানে এখন পর্যন্ত ১২২টি বিভিন্ন ধরণের অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে এবং গ্রেফতার করা হয়েছে অন্তত ১৫ জনকে।
নিরাপত্তা নিশ্চিতে র্যাবের এই বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
সাদেক আলী খান 



















