সিলেট ০৩:২২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
News Title :
‎ছাতকে দোকানে হামলা-ভাঙচুর ও নগদ টাকা লুটের অভিযোগ, থানায় লিখিত আবেদন ধনবাড়ীতে ইয়াবাসহ এক মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার ‎সংবাদকর্মীকে নিয়ে ফেসবুকে কুরুচিপূর্ণ প্রচারের অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি ‎বালাগঞ্জে ২ কোটি টাকা ব্যয়ের ড্রেন নির্মাণে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ! ‎কবিতা মানুষকে সহমর্মিতা মানবিকতা ও সৌন্দর্যবোধ শেখায়ঃ ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক‎ শায়েস্তাগঞ্জে র‍্যাবের যৌথ অভিযান: ট্রাকসহ ৯৬ বোতল ইসকফ সিরাপ জব্দ, গ্রেফতার ২ ‎ঢাকায় অনুষ্ঠিত হলো অনলাইন লিটারেচার গ্রুপ’স ইউনিটি এর ৭ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও লিটারেচার সম্মাননা-২০২৬‎‎ ‎আফগানিস্তানে জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি হলেন মাধবপুরের রাবাব ফাতিমা ‎হবিগঞ্জে বন্যাদুর্গত চার শতাধিক মানুষের পাশে জেলা পুলিশ মেডিকেল ক্যাম্পে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা‎ রুস্তম হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল, ১২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

‎মৌলভীবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: পুড়ে ছাই ৭–৮টি দোকান

আগুনের লেলিহান শিখা।





‎মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুর বাজারের বাইপাস সড়কে শনিবার গভীর রাতে সংঘটিত ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ভাই ভাই  মার্কেটেট বিপরীত পাশে অবস্থিত বিভিন্ন ওয়ার্কশপ পার্টসের অন্তত ৭ থেকে ৮টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেছে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা স্বপ্ন ও জীবিকার অবলম্বন।

‎প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোররাতে ভাই ভাই মার্কেটের একটি মোটরপার্টসের দোকানে আগুন দেখতে পান স্থানীয় মুসল্লি ও আশপাশের লোকজন। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন পাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় বাজারে অবস্থানরত কয়েকজন ব্যবসায়ী নিজ উদ্যোগে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন।
‎খবর পেয়ে মৌলভীবাজার ও সিলেটের ওসমানীনগর ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ফায়ার সার্ভিসের তথ্যমতে, দুটি মার্কেটের অন্তত ৭টি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫০ লাখ টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকার মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

‎ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা  দাবি করেন, পুড়ে যাওয়া দোকানগুলোর ঘর ও মালামাল মিলিয়ে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ২ থেকে ৩ কোটি টাকার কম নয়।
‎স্থানীয় আল সৈয়দ শপিং কমপ্লেক্সের ব্যবসায়ী সোহেল আহমদ জানান, দোকানগুলোতে বিপুল পরিমাণ দাহ্য সামগ্রী থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

‎ওসমানীনগর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার অপু মিয়া জানান, প্রাথমিক তদন্তে দুটি মার্কেটের ৭টি দোকান সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

‎এদিকে প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযোগ করেন, আগুন লাগার পর দীর্ঘ সময় পর্যন্ত কার্যকর কোনো তৎপরতা চোখে পড়েনি। বিদ্যুৎ সংযোগ সময়মতো বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল কি না, দোকানগুলোতে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল কি না—তা নিয়েও রয়েছে ব্যাপক অনিশ্চয়তা।
‎এলাকাবাসীর অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকির অভাবে বাজার এলাকার দোকানগুলোতে ঝুঁকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক সংযোগ ও দাহ্য সামগ্রী সংরক্ষণ করা হলেও কার্যকর নজরদারি নেই। বিশেষ করে বাইপাস সড়কের এই অংশে রাতের বেলা নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল থাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ার আগেই তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি।

‎এ ঘটনায় এলাকাবাসীর প্রশ্ন উঠেছে—এটি কি নিছক দুর্ঘটনা, নাকি অবহেলা ও তদারকির ঘাটতির ফল? আগুন লাগার প্রকৃত কারণ, দোকানগুলোর লাইসেন্স, বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা ও অগ্নিনিরাপত্তা মানদণ্ড যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না—তা খতিয়ে দেখা এখন সময়ের দাবি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‎ছাতকে দোকানে হামলা-ভাঙচুর ও নগদ টাকা লুটের অভিযোগ, থানায় লিখিত আবেদন

‎মৌলভীবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: পুড়ে ছাই ৭–৮টি দোকান

সময় ০৩:৪৪:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

আগুনের লেলিহান শিখা।





‎মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুর বাজারের বাইপাস সড়কে শনিবার গভীর রাতে সংঘটিত ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ভাই ভাই  মার্কেটেট বিপরীত পাশে অবস্থিত বিভিন্ন ওয়ার্কশপ পার্টসের অন্তত ৭ থেকে ৮টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেছে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা স্বপ্ন ও জীবিকার অবলম্বন।

‎প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোররাতে ভাই ভাই মার্কেটের একটি মোটরপার্টসের দোকানে আগুন দেখতে পান স্থানীয় মুসল্লি ও আশপাশের লোকজন। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন পাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় বাজারে অবস্থানরত কয়েকজন ব্যবসায়ী নিজ উদ্যোগে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন।
‎খবর পেয়ে মৌলভীবাজার ও সিলেটের ওসমানীনগর ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ফায়ার সার্ভিসের তথ্যমতে, দুটি মার্কেটের অন্তত ৭টি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫০ লাখ টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকার মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

‎ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা  দাবি করেন, পুড়ে যাওয়া দোকানগুলোর ঘর ও মালামাল মিলিয়ে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ২ থেকে ৩ কোটি টাকার কম নয়।
‎স্থানীয় আল সৈয়দ শপিং কমপ্লেক্সের ব্যবসায়ী সোহেল আহমদ জানান, দোকানগুলোতে বিপুল পরিমাণ দাহ্য সামগ্রী থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

‎ওসমানীনগর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার অপু মিয়া জানান, প্রাথমিক তদন্তে দুটি মার্কেটের ৭টি দোকান সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

‎এদিকে প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযোগ করেন, আগুন লাগার পর দীর্ঘ সময় পর্যন্ত কার্যকর কোনো তৎপরতা চোখে পড়েনি। বিদ্যুৎ সংযোগ সময়মতো বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল কি না, দোকানগুলোতে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল কি না—তা নিয়েও রয়েছে ব্যাপক অনিশ্চয়তা।
‎এলাকাবাসীর অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকির অভাবে বাজার এলাকার দোকানগুলোতে ঝুঁকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক সংযোগ ও দাহ্য সামগ্রী সংরক্ষণ করা হলেও কার্যকর নজরদারি নেই। বিশেষ করে বাইপাস সড়কের এই অংশে রাতের বেলা নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল থাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ার আগেই তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি।

‎এ ঘটনায় এলাকাবাসীর প্রশ্ন উঠেছে—এটি কি নিছক দুর্ঘটনা, নাকি অবহেলা ও তদারকির ঘাটতির ফল? আগুন লাগার প্রকৃত কারণ, দোকানগুলোর লাইসেন্স, বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা ও অগ্নিনিরাপত্তা মানদণ্ড যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না—তা খতিয়ে দেখা এখন সময়ের দাবি।