
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে সৃষ্ট গর্তে ডুবে এক মাদ্রাসা ছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার কোটারকোনা ব্রিজ সংলগ্ন মনু নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত নাইম হোসেন (১৫) কমলগঞ্জ উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের কানাইদেশি গ্রামের হুসেন মিয়ার ছেলে। সে মাধবপুর মাদ্রাসার ছাত্র এবং কুলাউড়া উপজেলার কোটারকোনা মাদ্রাসায় পরীক্ষায় অংশ নিতে এসেছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরকারিভাবে নির্ধারিত লিজকৃত এলাকা বাদ দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নদীর বিভিন্ন অংশে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে নদীতে গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এসব গর্তের কারণে প্রতিবছরই একাধিক দুর্ঘটনা ঘটে আসছে।
আজ সকালে নাইমসহ তার চার বন্ধু মনু নদীতে গোসল করতে নামলে হঠাৎ গভীর গর্তে তলিয়ে যায় নাইম। সঙ্গে থাকা বন্ধুরা উদ্ধার চেষ্টা করলেও তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পরে প্রায় দুই ঘণ্টা অনুসন্ধানের পর নাইমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
কুলাউড়া উপজেলার হাজিপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো. মুস্তাফিজুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়টি এলাকাবাসী একাধিকবার প্রশাসনকে জানালেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বালু উত্তোলনের কারণে নদীর পাড়সংলগ্ন সড়কটির অবস্থা অত্যন্ত নাজুক হয়ে পড়েছে।
এই এলাকায় একটি স্কুল ও কলেজ থাকায় প্রতিদিন অসংখ্য শিক্ষার্থী যাতায়াত করে। ভারী যানবাহনের মাধ্যমে যেভাবে বালু পরিবহন করা হচ্ছে, তাতে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
তিনি আরও জানান, এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে কোটারকোনা এলাকার বালুর ইজারা ঘাট স্থায়ীভাবে বন্ধ করার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানানো হয়েছে।
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি 


















