সিলেট ০৬:০৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
News Title :
আমরা দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাই, একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চাই: ডেপুটি স্পিকার মৌলভীবাজারে যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত, বিএনপিকে ঐক্যের বার্তা মুন্নার শ্রীমঙ্গলে শাবানা হত্যা মামলায় ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড, ২ জনের কারাদণ্ড দেশ সেরা বিদ্যাপীঠে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস উদযাপন  লাখাইর বুল্লা ইউনিয়ন নির্বাচনে বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশী চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল কাদির। ‎সিলেটে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের দুই কর্মী  গ্রেফতার, ব্যানার জব্দ বিএনপি নেতা ও তরুণ ব্যবসায়ী রাহুল ইসলামের জন্মদিনে শুভেচ্ছা‎ শান্তিগঞ্জে স্বাস্থ্য ও পুষ্টি পরিস্থিতির উন্নয়নে অংশীজনদের কর্মশালা ‎মৌলভীবাজারে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উদযাপন, আহতদের মাঝে অনুদান বিতরণ বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস উপলক্ষে দেওয়ানগঞ্জে র‍্যালি, আলোচনা সভা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা
‎শেরপুরের ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা...

‎বাঘাড় মাছের প্রকাশ্য বেচাকেনা,প্রশ্নবিদ্ধ মৎস সংরক্ষণ আইন!


মাছের মেলায়, বাঘাড় মাছ প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে। ছবি- অনলাইন সিলেট।

‎

‎মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুরে কুশিয়ারা নদীর তীরে অনুষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলায় এবার নতুন এক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে নিষিদ্ধ বাঘাড় (বাঘ) মাছের প্রকাশ্য বেচাকেনা। আয়তন ও দামে ৫০ বছরের রেকর্ড ছাড়ানো এই মাছ যেমন দর্শনার্থীদের কৌতূহল বাড়িয়েছে, তেমনি পরিবেশবিদ ও সচেতন মহলে সৃষ্টি করেছে তীব্র উদ্বেগ।


‎সরেজমিনে দেখা যায়, মেলায় খুচরা মাছ বিক্রেতা ও আড়ৎদাররা অন্যান্য দেশি ও ফিসারির মাছের পাশাপাশি বিশাল আকৃতির বাঘাড় মাছ প্রদর্শন করে বিক্রি করছেন। ক্রেতাদের সামনে প্রকাশ্যেই দরদাম হচ্ছে,কোনো ধরনের গোপনীয়তা বা ভয়ভীতি ছাড়াই।

‎

‎শেরপুর মাছের মেলায় আড়ৎদার জিতু আহমদের আড়তে একটি ৮০ কেজি ওজনের বাঘাড় মাছের দাম হাঁকা হয় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। অন্যদিকে খুচরা মাছ ব্যবসায়ী আসবার আলী প্রায় ১০০ কেজি ওজনের একটি বাঘাড় মাছের দাম হাঁকেন ৩ লাখ টাকা—যা স্থানীয়দের ভাষায় ‘মেলার ইতিহাসে নজিরবিহীন’।

‎

‎মৎস্য সংরক্ষণ ও মৎস্য আইন অনুযায়ী বাঘাড় মাছ একটি সংরক্ষিত প্রজাতি। প্রজননক্ষম বড় বাঘাড় ধরা ও বিক্রি নিষিদ্ধ, কারণ এই মাছের সংখ্যা দিন দিন আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় আকারের একটি বাঘাড় ধরা মানেই ভবিষ্যতের হাজারো বাঘাড় মাছের সম্ভাবনা শেষ হয়ে যাওয়া।

‎

‎সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—এত বড় বাঘাড় মাছ এলো কোথা থেকে? স্থানীয় জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কুশিয়ারা নদীসহ আশপাশের নদীতে আগের মতো বড় বাঘাড় মাছ আর দেখা যায় না। ধারণা করা হচ্ছে, গভীর নদী অঞ্চল অথবা সীমান্তবর্তী জলাশয় থেকে অবৈধভাবে এই মাছ ধরা হয়েছে।

এক জেলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,

‎এই সাইজের বাঘ মাছ ধরতে হলে জাল,মৌসুম—সবই আইন ভেঙে করতে হয়। কিন্তু বড় টাকা থাকলে সব সম্ভব!

‎সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো,নিষিদ্ধ মাছ প্রকাশ্যে বিক্রি হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান অভিযান বা পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। মৎস্য বিভাগ, উপজেলা প্রশাসন কিংবা ভ্রাম্যমাণ আদালতের কোনো উপস্থিতি মেলায় দেখা যায়নি। দর্শনার্থীদের প্রশ্ন, যেখানে ছোট জেলেদের জালে মাছ ধরা পড়লে জরিমানা করা হয়, সেখানে এত বড় অপরাধ কীভাবে উপেক্ষিত থাকে?

‎পরিবেশবিদদের মতে, বাঘাড় মাছ নদীর বাস্তুতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ ধরনের শিকার অব্যাহত থাকলে শুধু একটি প্রজাতিই নয়, পুরো নদী ব্যবস্থাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

‎এক পরিবেশ সংগঠনের প্রতিনিধি বলেন, মেলার ঐতিহ্যের নামে যদি আমরা নিষিদ্ধ মাছ বিক্রিকে বৈধ করে দিই, তাহলে কয়েক বছরের মধ্যেই দেশি বড় মাছ শুধু গল্পে থাকবে।

‎শেরপুরের মাছের মেলা শুধু একটি উৎসব নয়, এটি একটি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। কিন্তু সেই ঐতিহ্যের আড়ালে যদি আইন লঙ্ঘন ও পরিবেশ ধ্বংস হয়, তাহলে দায় এড়াতে পারে না প্রশাসন, ব্যবসায়ী কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ—কেউই।

‎এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আমরা দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাই, একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চাই: ডেপুটি স্পিকার

‎শেরপুরের ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা...

‎বাঘাড় মাছের প্রকাশ্য বেচাকেনা,প্রশ্নবিদ্ধ মৎস সংরক্ষণ আইন!

সময় ০৬:০৯:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬


মাছের মেলায়, বাঘাড় মাছ প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে। ছবি- অনলাইন সিলেট।

‎

‎মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুরে কুশিয়ারা নদীর তীরে অনুষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলায় এবার নতুন এক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে নিষিদ্ধ বাঘাড় (বাঘ) মাছের প্রকাশ্য বেচাকেনা। আয়তন ও দামে ৫০ বছরের রেকর্ড ছাড়ানো এই মাছ যেমন দর্শনার্থীদের কৌতূহল বাড়িয়েছে, তেমনি পরিবেশবিদ ও সচেতন মহলে সৃষ্টি করেছে তীব্র উদ্বেগ।


‎সরেজমিনে দেখা যায়, মেলায় খুচরা মাছ বিক্রেতা ও আড়ৎদাররা অন্যান্য দেশি ও ফিসারির মাছের পাশাপাশি বিশাল আকৃতির বাঘাড় মাছ প্রদর্শন করে বিক্রি করছেন। ক্রেতাদের সামনে প্রকাশ্যেই দরদাম হচ্ছে,কোনো ধরনের গোপনীয়তা বা ভয়ভীতি ছাড়াই।

‎

‎শেরপুর মাছের মেলায় আড়ৎদার জিতু আহমদের আড়তে একটি ৮০ কেজি ওজনের বাঘাড় মাছের দাম হাঁকা হয় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। অন্যদিকে খুচরা মাছ ব্যবসায়ী আসবার আলী প্রায় ১০০ কেজি ওজনের একটি বাঘাড় মাছের দাম হাঁকেন ৩ লাখ টাকা—যা স্থানীয়দের ভাষায় ‘মেলার ইতিহাসে নজিরবিহীন’।

‎

‎মৎস্য সংরক্ষণ ও মৎস্য আইন অনুযায়ী বাঘাড় মাছ একটি সংরক্ষিত প্রজাতি। প্রজননক্ষম বড় বাঘাড় ধরা ও বিক্রি নিষিদ্ধ, কারণ এই মাছের সংখ্যা দিন দিন আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় আকারের একটি বাঘাড় ধরা মানেই ভবিষ্যতের হাজারো বাঘাড় মাছের সম্ভাবনা শেষ হয়ে যাওয়া।

‎

‎সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—এত বড় বাঘাড় মাছ এলো কোথা থেকে? স্থানীয় জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কুশিয়ারা নদীসহ আশপাশের নদীতে আগের মতো বড় বাঘাড় মাছ আর দেখা যায় না। ধারণা করা হচ্ছে, গভীর নদী অঞ্চল অথবা সীমান্তবর্তী জলাশয় থেকে অবৈধভাবে এই মাছ ধরা হয়েছে।

এক জেলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,

‎এই সাইজের বাঘ মাছ ধরতে হলে জাল,মৌসুম—সবই আইন ভেঙে করতে হয়। কিন্তু বড় টাকা থাকলে সব সম্ভব!

‎সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো,নিষিদ্ধ মাছ প্রকাশ্যে বিক্রি হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান অভিযান বা পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। মৎস্য বিভাগ, উপজেলা প্রশাসন কিংবা ভ্রাম্যমাণ আদালতের কোনো উপস্থিতি মেলায় দেখা যায়নি। দর্শনার্থীদের প্রশ্ন, যেখানে ছোট জেলেদের জালে মাছ ধরা পড়লে জরিমানা করা হয়, সেখানে এত বড় অপরাধ কীভাবে উপেক্ষিত থাকে?

‎পরিবেশবিদদের মতে, বাঘাড় মাছ নদীর বাস্তুতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ ধরনের শিকার অব্যাহত থাকলে শুধু একটি প্রজাতিই নয়, পুরো নদী ব্যবস্থাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

‎এক পরিবেশ সংগঠনের প্রতিনিধি বলেন, মেলার ঐতিহ্যের নামে যদি আমরা নিষিদ্ধ মাছ বিক্রিকে বৈধ করে দিই, তাহলে কয়েক বছরের মধ্যেই দেশি বড় মাছ শুধু গল্পে থাকবে।

‎শেরপুরের মাছের মেলা শুধু একটি উৎসব নয়, এটি একটি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। কিন্তু সেই ঐতিহ্যের আড়ালে যদি আইন লঙ্ঘন ও পরিবেশ ধ্বংস হয়, তাহলে দায় এড়াতে পারে না প্রশাসন, ব্যবসায়ী কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ—কেউই।

‎এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।