
বানিয়াচং প্রেসক্লাব সভাপতি ও সাংবাদিক ইমদাদুল হোসেন খানঁ’র ছেলে শাহরিয়ার খান নাফিজ এর উপর অর্তকিত হামলা চালিয়ে রক্তান্ত জখম করেছে ছাত্র শিবিরের নেতাকর্মীরা।
ঘটনাটি ঘটেছে আজ ৮ ডিসেম্বর সোমবার দুপুর ১২টায় ১নং বানিয়াচং উত্তর পূর্ব ইউনিয়নের অর্ন্তগত নন্দীপাড়া গ্রামস্থ পুরাতন পশু হাসপাতালের সামনের সড়কে। এ ঘটনায় আহত শাহরিয়ার খান নাফিজের পিতা ইমদাদুল হোসেন খান বাদী হয়ে উপজেলা ছাত্রশিবির এর সভাপতি আহমেদ আলীকে প্রধান আসামী করে আরও ২জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ৮ থেকে ১০জনকে অভিযুক্ত করে বানিয়াচং থানায় একট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগের বিবরণে জানা যায়, বেশ কিছুদিন পূর্বে হবিগঞ্জ ২ আসনের বাংলাদেশ জামাতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী এডভোকেট জিল্লুর রহমান আযমী তাহার দলের নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে ক্লাশ চলাকালীন সময়ে মেধাবিকাশ উচ্চ বিদ্যালয়ের শ্রেণী কক্ষে প্রবেশ করে নির্বাচনী প্রচারণা চালান। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
ওই বিদ্যালয়ের একজন প্রাক্তন ছাত্র হিসেবে শাহরিয়ার খান নাফিজও শ্রেণীকক্ষে প্রবেশ করে ছাত্রছাত্রীদের লেখাপড়ার বিঘ্ন ঘটনায় ফেইসবুকের লাইভে এসে প্রতিবাদ জানায়।
এতে শিবিরের নেতাকর্মীরা তার উপর চরমভাবে ক্ষুব্ধ হয়ে গত ৬ ডিসেম্বর বানিয়াচং ৪নং দক্ষিণ পশ্চিম ইউনিয়নের অর্ন্তগত পূর্ব আদমখানী খেলার মাঠে আক্রমের চেষ্টা চালায় বলে তার পিতা লিখিত অভিযোগ জানান।
এসময় নাফিজ দৌড়ে এসে নিরাদপদ স্থানে এসে আত্মরক্ষা করে। আজ সোমবার স্থানীয় বিবির দরগাহ জামে মসজিদের পুকুরঘাট থেকে গোসল শেষ করে বাড়ী ফেরার পথে দ্বিতীয় দফায় নাফিজ এর উপর দারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায় উপজেলা ছাত্রশিবির সভাপতি আহমদ আলী, দত্তপাড়া এলাকার উমেদ আলীর ছেলে ইশতিয়াক হাসান সাইমুম, ইনাতখানী এলাকার মোঃ আলকাছ মিয়ার ছেলে সাব্বির আহমেদসহ অজ্ঞাতনামা আরো ১০ থেকে ১২ জন হামলা করে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এসময় শাহরিয়ার খান নাফিজ এর আত্মচিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে বানিয়াচং হাসপাতালে নিয়ে যায়। নাফিজ বর্তমানে বানিয়াচং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছে।
সাংবাদিক ইমদাদুল হোসেন খানের ছেলের ওপর হামলার ঘটনায় বানিয়াচংয়ের সাংবাদিক সমাজ ও সুশীল সমাজে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। সাংবাদিক নেতারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
অনলাইন সিলেট নিউজ পোর্টাল থেকে, বানিয়াচং ছাত্রশিবির সভাপতি আহমদ আলী সাথে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এবং আমার সংগঠন এই ঘটনার সাথে জড়িত নই। কিছুদিন আগে দত্তপাড়া এলাকার উমেদ আলী উনার ছেলে ইশতিয়াক হাসান সাইমুম এর সাথে ঝগড়া হয় নাফিজের। সেটা মিটমাট ও হয়ে যায় বলে শুনেছি । কিন্তু আজ কার সাথে ঝগড়া হয়েছে সেটা আমার জানা নেই। তিনি বলেন, আমি এই ঘটনায় আমাকে এবং ছাত্র শিবিরের নেতাকর্মীদের জড়িয়ে থানায় অভিযোগ দেয়া হয়েছে। আমি এটার তীব্র প্রতিবাদ জানাই। তিনি বলেন,আমি মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগের ব্যাপারে আইনি প্রদক্ষেপ নিব বলে আলী আহমদ জানান।
বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানিয়েছেন, অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত চলছে এবং আসামীদের গ্রেপ্তারের জন্য প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
বানিয়াচং প্রতিনিধি। 


















