
মৌলভীবাজারের নবাগত জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল বলেছেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যতিক্রমধর্মী।
তিনি বলেন, এ নির্বাচন বিগত ৮–১০টি নির্বাচনের মতো নয়। প্রধান উপদেষ্টা মহোদয়ও এটিকে শত বছরের মধ্যে সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং নির্বাচন হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
রবিবার (৭ ডিসেম্বর) বিকেলে কুলাউড়া উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও সুধীসমাজের প্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল আরও বলেন, আমরা যদি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে এই নির্বাচন সম্পন্ন করতে না পারি, তাহলে জুলাই আন্দোলনে যারা দেশের জন্য আত্মত্যাগ করেছেন তাদের আত্মা শান্তি পাবে না। এই নির্বাচনে গণভোটের বিষয়ও রয়েছে। আগামী ১০০ বছরের বাংলাদেশ কোন দিকে যাবে, এ ভোটই সেই গতিপথ নির্ধারণ করবে।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে পারলে তরুণ সমাজের ইচ্ছা, পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ ভাবনা বাস্তবায়নের পথ সুগম হবে। এ জন্য জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা শতভাগ সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন বলেও তিনি অঙ্গীকার করেন।
মতবিনিময় সভায় মৌলভীবাজারকে ঘিরে পর্যটন সম্ভাবনার দিকটি তুলে ধরে জেলা প্রশাসক বলেন, হাকালুকি হাওর, কালাপাহাড়সহ জেলার গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। প্রয়োজনীয় আবাসন, ওয়াচ টাওয়ারসহ পর্যটন-বান্ধব নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। কুলাউড়া শহরের যানজট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশনাও দেন তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জাকির হোসেন, কুলাউড়া থানার ওসি মো. ওমর ফারুক মোড়ল, উপজেলা বিএনপির সভাপতি জয়নাল আবেদীন বাচ্চু, সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সজল, উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর জাকির হোসেন, সেক্রেটারি বেলাল আহমদ চৌধুরী, ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান মনির ও জিমিউর রহমান চৌধুরী, ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান আখই, সাংবাদিক এম শাকিল রশীদ চৌধুরী, আবু সাঈদ ফুয়াদ, মোক্তাদির হোসেন, নাজমুল বারী সোহেল, মাহফুজ শাকিলসহ বিভিন্ন পেশাজীবী নেতা।
এছাড়া ওয়ারিয়ার্স অব জুলাই মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সদস্য সচিব জাহিদুল ইসলাম, সদস্য আল আদনান চৌধুরী এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধি নাহিদুর রহমান ও শামীম আহমদও বক্তব্য রাখেন।
সভায় কুলাউড়ার উন্নয়নকেন্দ্রিক বিভিন্ন সমস্যা ও সমাধান প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে ছিল, কুলাউড়া শহরের যানজট নিরসনে দ্রুত চার লেন সড়ক নির্মাণ কুলাউড়া হাসপাতালের চিকিৎসক সংকট দূর করা ও এক্স-রে মেশিন চালু, কুলাউড়া জংশন স্টেশনসহ সিলেট রেললাইনে আসন সংখ্যা বৃদ্ধি ও নতুন ট্রেন চালু,হাকালুকি হাওর উন্নয়ন ও পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তোলা পৌর শহরে বিনোদনকেন্দ্র নির্মাণ, মনু নদীর তীর রক্ষা প্রকল্পের ধীরগতি নিরসন,রাজাপুর সেতুর সংযোগ সড়ক দ্রুত সম্পন্ন,ফানাই নদীর ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজগুলোর দ্রুত নির্মাণ,রবিরবাজারে ড্রেনেজ ব্যবস্থা স্থাপন,সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজে ধীরগতি কাটিয়ে ওঠা।
জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল সভায় উত্থাপিত প্রতিটি সমস্যা ও দাবি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন,
এসব প্রস্তাবনা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরকারের উচ্চপর্যায়ে প্রেরণ করা হবে। কুলাউড়াকে আরও উন্নত,আধুনিক ও পর্যটনবান্ধব করতে আমরা সমন্বিতভাবে কাজ করব।
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি 


















