সিলেট ১০:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
News Title :
‎সিলেটে কোতোয়ালী থানা পুলিশের অভিযানে আন্তঃজেলা ডাকাত ও সুইচ গিয়ারসহ গ্রেফতার ২ ‎কোম্পানীগঞ্জে ৬৮ বোতল বিদেশী মদ ও এসকাফ সিরাপ সহ গ্রেফতার ২ ‎টাঙ্গাইলের মধুপুরে বসতঘর থেকে প্রায় ৪ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার ‎সুন্দর, মানবিক ও আলোকিত সমাজ গঠনে সাহিত্যের কোনো বিকল্প নেইঃ ভিসি প্রফেসর ড. জহিরুল হক‎ মাধবপুরে বাস-পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৫‎ ‘বীরাঙ্গনা মা’ ও ‘যুদ্ধ শিশু’ মেয়ের বাড়িঘর দখল চেষ্টার অভিযোগ চুনারুঘাটে মদ্যপান করে মাকে মারধর করার অভিযোগ যুবকের ৬ মাসের কারাদণ্ড ‎ড. মুমিনুল হক অ্যাওয়ার্ড ২০২৬ প্রদান উপলক্ষে আলোচনা সভা‎ সিলেটে উদ্ধার হওয়া ৫২টি হারানো মোবাইল গ্রাহকদের বুঝিয়ে দিল এসএমপি ‎সাতছড়ি চাকলাপুঞ্জিতে সিএনজি দুর্ঘটনা, প্রাণ গেল ব্যবসায়ীর

‎শারীরিক প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট, মৈত্রী শিল্পে নির্বাহী পরিচালক (উপসচিব) কাজী মাহবুবুর রহমান বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে।


‎গাজীপুরের টঙ্গীতে অবস্থিত শারীরিক প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট, মৈত্রী শিল্পে নির্বাহী পরিচালক (উপসচিব) কাজী মাহবুবুর রহমান বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে।


‎গত ১ ডিসেম্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে তাকে বদলি করা হয়।

‎রাষ্ট্রপতি আদেশ ক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব জেতী প্রু সাক্ষরিত এক আদেশে তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ন্যাস্ত করা হয়। আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যোগদান না করলে তার বদলি স্ট্যান্ডরিলিজ হিসেবে গণ্য করা হবে।


‎উল্লেখ্য- কাজী মাহবুব উর রহমানের বিরুদ্ধে নারী কর্মচারীদের অশোভন প্রস্তাব, যৌন হয়রানির চেষ্টা, এবং প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা- কর্মচারী ও শ্রমিকরা তাঁর অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন ও কর্মবিরতি সহ লাগাতার কর্মসূচি পালন করছিল।


‎শ্রমিকদের অভিযোগ ছিল, কাজী মাহবুবুর রহমান প্রতিষ্ঠানে যোগদানের পর থেকেই কর্মচারীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও নারী কর্মচারীদের প্রতি অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। নারী কর্মচারীদের রুমে ডেকে নিয়ে অশোভন আচরণ ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।



‎এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন তারা। তারা অভিযোগে লিখেন, নির্বাহী পরিচালক তাঁর কুপ্রস্তাবে অস্বীকৃতি জানানো নারী কর্মচারীদের বিভিন্ন শাখায় বদলি করতেন বলেও অভিযোগ তাদের। অপরদিকে, তাঁর প্রস্তাব মেনে নেওয়া এক নারী কর্মীকে বিশেষ সুযোগ-সুবিধা প্রদান করেন এবং অফিসে দীর্ঘসময় ধরে নিজের রুমে রাখেন বলে অভিযোগ ছিল তাদের।


‎শ্রমিকদের দাবি, বিষয়টি অফিসের সবার নজরে আসায় কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। এছাড়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, নির্বাহী পরিচালক ব্যক্তিগত খরচ, পার্সেনাল ও সৌন্দর্য চর্চার বিল অফিসের কোষাগার থেকে পরিশোধ করানোর নির্দেশ দেন। এমনকি প্রতিবন্ধীদের তৈরি পণ্য ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। কর্মচারীরা জানান, তিনি প্রায়ই রাত ১২টা পর্যন্ত অফিসে অবস্থান করেন এবং অন্যদেরও বাধ্য করেন দেরি করে থাকতে। কেউ আগেই অফিস ত্যাগ করলে পরে ফোন করে ফের ডেকে আনেন।



‎প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অভিযোগ করেন, কাজী মাহবুবুর রহমানের এমন আচরণে অফিসে কর্মপরিবেশ নষ্ট হয়েছে এবং উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এতে প্রতিষ্ঠানটি আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে বলে তাঁরা দাবি করেন। অভিযোগে বলা হয়, নির্বাহী পরিচালক যোগদানের পর থেকে প্রায় ৬ লাখ টাকার পণ্য বিল বা চালান ছাড়াই ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করেছেন।


‎তাছাড়া যন্ত্রপাতিতে সমস্যা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বিনা কারণে বদলি বা নোটিশ দেওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অভিযোগের বিষয়ে শ্রমিকরা সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা, শারীরিক প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্টের চেয়ারম্যান, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, গাজীপুর জেলা প্রশাসক, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।


‎নির্বাহী পরিচালকের কর্মকাণ্ডে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে গত ২০ অক্টোবর সকাল ৯টা থেকে ট্রাস্টের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এক দফা দাবিতে কাজী মাহবুবুর রহমানের অবিলম্বে অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন ও কর্মবিরতি শুরু করেন। তাঁদের দাবি, অত্যাচারী ও নারী লোভী এই কর্মকর্তাকে অপসারণ না করা পর্যন্ত তাঁদের কর্মবিরতি চালিয়েছিলেন।


‎এছাড়াও কাজী মাহবুব উর রহমান সিলেট জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার থাকাকালীন সময়ে তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। সে সময়ও তাকে সিলেট থেকে স্ট্যান্ডরিলিজ করা হয়েছিল।


ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‎সিলেটে কোতোয়ালী থানা পুলিশের অভিযানে আন্তঃজেলা ডাকাত ও সুইচ গিয়ারসহ গ্রেফতার ২

‎শারীরিক প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট, মৈত্রী শিল্পে নির্বাহী পরিচালক (উপসচিব) কাজী মাহবুবুর রহমান বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে।

সময় ১০:১২:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৫


‎গাজীপুরের টঙ্গীতে অবস্থিত শারীরিক প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট, মৈত্রী শিল্পে নির্বাহী পরিচালক (উপসচিব) কাজী মাহবুবুর রহমান বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে।


‎গত ১ ডিসেম্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে তাকে বদলি করা হয়।

‎রাষ্ট্রপতি আদেশ ক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব জেতী প্রু সাক্ষরিত এক আদেশে তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ন্যাস্ত করা হয়। আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যোগদান না করলে তার বদলি স্ট্যান্ডরিলিজ হিসেবে গণ্য করা হবে।


‎উল্লেখ্য- কাজী মাহবুব উর রহমানের বিরুদ্ধে নারী কর্মচারীদের অশোভন প্রস্তাব, যৌন হয়রানির চেষ্টা, এবং প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা- কর্মচারী ও শ্রমিকরা তাঁর অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন ও কর্মবিরতি সহ লাগাতার কর্মসূচি পালন করছিল।


‎শ্রমিকদের অভিযোগ ছিল, কাজী মাহবুবুর রহমান প্রতিষ্ঠানে যোগদানের পর থেকেই কর্মচারীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও নারী কর্মচারীদের প্রতি অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। নারী কর্মচারীদের রুমে ডেকে নিয়ে অশোভন আচরণ ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।



‎এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন তারা। তারা অভিযোগে লিখেন, নির্বাহী পরিচালক তাঁর কুপ্রস্তাবে অস্বীকৃতি জানানো নারী কর্মচারীদের বিভিন্ন শাখায় বদলি করতেন বলেও অভিযোগ তাদের। অপরদিকে, তাঁর প্রস্তাব মেনে নেওয়া এক নারী কর্মীকে বিশেষ সুযোগ-সুবিধা প্রদান করেন এবং অফিসে দীর্ঘসময় ধরে নিজের রুমে রাখেন বলে অভিযোগ ছিল তাদের।


‎শ্রমিকদের দাবি, বিষয়টি অফিসের সবার নজরে আসায় কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। এছাড়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, নির্বাহী পরিচালক ব্যক্তিগত খরচ, পার্সেনাল ও সৌন্দর্য চর্চার বিল অফিসের কোষাগার থেকে পরিশোধ করানোর নির্দেশ দেন। এমনকি প্রতিবন্ধীদের তৈরি পণ্য ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। কর্মচারীরা জানান, তিনি প্রায়ই রাত ১২টা পর্যন্ত অফিসে অবস্থান করেন এবং অন্যদেরও বাধ্য করেন দেরি করে থাকতে। কেউ আগেই অফিস ত্যাগ করলে পরে ফোন করে ফের ডেকে আনেন।



‎প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অভিযোগ করেন, কাজী মাহবুবুর রহমানের এমন আচরণে অফিসে কর্মপরিবেশ নষ্ট হয়েছে এবং উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এতে প্রতিষ্ঠানটি আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে বলে তাঁরা দাবি করেন। অভিযোগে বলা হয়, নির্বাহী পরিচালক যোগদানের পর থেকে প্রায় ৬ লাখ টাকার পণ্য বিল বা চালান ছাড়াই ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করেছেন।


‎তাছাড়া যন্ত্রপাতিতে সমস্যা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বিনা কারণে বদলি বা নোটিশ দেওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অভিযোগের বিষয়ে শ্রমিকরা সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা, শারীরিক প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্টের চেয়ারম্যান, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, গাজীপুর জেলা প্রশাসক, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।


‎নির্বাহী পরিচালকের কর্মকাণ্ডে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে গত ২০ অক্টোবর সকাল ৯টা থেকে ট্রাস্টের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এক দফা দাবিতে কাজী মাহবুবুর রহমানের অবিলম্বে অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন ও কর্মবিরতি শুরু করেন। তাঁদের দাবি, অত্যাচারী ও নারী লোভী এই কর্মকর্তাকে অপসারণ না করা পর্যন্ত তাঁদের কর্মবিরতি চালিয়েছিলেন।


‎এছাড়াও কাজী মাহবুব উর রহমান সিলেট জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার থাকাকালীন সময়ে তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। সে সময়ও তাকে সিলেট থেকে স্ট্যান্ডরিলিজ করা হয়েছিল।