রুহুল আমীন.

বাংলাদেশের রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্র কোনো নতুন বিষয় নয়। প্রায় সব বড় রাজনৈতিক দলেই দেখা যায়—একই পরিবারের একাধিক সদস্য মনোনয়ন বা গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হন।
ফলে রাজনীতি অনেক সময় হয়ে পড়ে সীমিত পরিসরের, জনগণের অংশগ্রহণও কমে যায়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপি যে পদক্ষেপ নিয়েছে, সেটি এই পুরনো ধারা ভাঙার এক সাহসী উদ্যোগ হিসেবেই দেখা যেতে পারে।
দীর্ঘদিন ধরেই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষণা দিয়ে আসছিলেন—এক পরিবার থেকে একাধিক ব্যক্তি দলীয় মনোনয়ন পাবেন না। এবার সেই ঘোষণার বাস্তব প্রয়োগ দেখা গেল।
মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় বাদ পড়েছেন দলের বহু শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের পরিবারের সদস্যরা।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছোট ভাই মির্জা ফয়সাল আমিন, মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাস, খন্দকার মোশাররফ হোসেনের ছেলে খন্দকার মারুফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের মেয়ে অর্পণা রায়, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর স্ত্রী রুমানা মাহমুদ, সালাউদ্দিন আহমেদের স্ত্রী হাসিনা আহমেদ, নিতাই রায় চৌধুরীর মেয়ে নিপুণ রায় চৌধুরী, আমান উল্লাহ আমানের ছেলে ইরফান ইবনে আমান—সবাই এবার বিএনপির মনোনয়ন তালিকায় স্থান পাননি।
একইভাবে আব্দুস সালাম পিন্টুর ভাই সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ও হারুনুর রশীদের স্ত্রী সৈয়দ আশরাফী পাপিয়াও মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
এই সিদ্ধান্তে বিএনপি প্রমাণ করেছে—দলীয় নীতি ও অঙ্গীকারের ক্ষেত্রে তারা আপস করতে রাজি নয়।
অবশ্য, এ তালিকায় আরও কিছু প্রভাবশালী ও অভিজ্ঞ নেতা রয়েছেন যারা এবার মনোনয়ন পাননি। যেমন—সেলিমা রহমান, শামসুজ্জামান দুদু, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, আসাদুজ্জামান রিপন, আসলাম চৌধুরী, মেসবাহুর রহমান, হোসনেয়া মওদুদ, হাবিব উন নবী খান সোহেল, নাজিম উদ্দিন আলম, ফজলে আজিম, মিজানুর রহমান চৌধুরী ও ফয়ছল আহমদ চৌধুরী।
তবে রাজনীতিতে ‘শেষ’ বলে কিছু নেই—বরং সময় ও পরিস্থিতি অনুযায়ী তাদের জন্য নতুন সুযোগও তৈরি হতে পারে।
বিএনপির এই পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে। দলটি হয়তো বুঝতে পেরেছে—রাজনীতি যদি পরিবারকেন্দ্রিক থাকে, তাহলে নতুন প্রজন্মের মেধাবী ও ত্যাগী কর্মীরা পিছিয়ে পড়বেন।
এই নীতিগত অবস্থান যদি বিএনপি দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখতে পারে, তাহলে তা কেবল দলের ভেতরেই নয়, বরং জাতীয় রাজনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
আজকের রাজনীতিতে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো—যোগ্যতা ও ত্যাগের মূল্যায়ন করা। বিএনপি যে পথে হাঁটছে, তা এই চর্চাকে উৎসাহিত করবে বলে আশা করা যায়।
রাজনীতির মেরুদণ্ড যদি হয় নীতি ও সততা, তবে এই সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে তারেক রহমান ও বিএনপির জন্য এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ।
জয় হোক নীতির, জয় হোক বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের।
লেখক- শিক্ষক ও সমাজকর্মী।
মতামত। 


















