
সম্প্রতি টাঙ্গাইল জেলাকে ময়মনসিংহ বিভাগের অন্তর্ভুক্ত করার পাঁয়তারা চলছে বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি আলোচনা/গুজব ছড়িয়ে পড়েছে।
যদিও এই খবরটি জাতীয় গণমাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায়নি এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কথিত প্রস্তাবনার সত্যতাও নির্ণয় করা যায়নি, তবুও এই খবরে জেলার বিভিন্ন উপজেলার জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
ফেসবুক পেজ এবং ব্যক্তিগত আইডি থেকে টাঙ্গাইলবাসী তাদের অসন্তোষ ও দৃঢ় অবস্থান প্রকাশ করছেন।
টাঙ্গাইলবাসী অত্যন্ত স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, এই ধরণের দাবি বা উদ্যোগ তাদের মনোভাবের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
টাঙ্গাইলবাসী তাদের জেলার মর্যাদা এবং অবস্থান নিয়ে কোনো আপস করবে না। এই প্রসঙ্গে জেলার মানুষ ঐতিহাসিক গণদাবিকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে, ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে ২০১৫ সালে যখন প্রথম টাঙ্গাইলকে অন্য বিভাগে অন্তর্ভুক্ত করার জল্পনা শুরু হয়েছিল, তখন টাঙ্গাইলের মানুষ তাদের ঐক্যবদ্ধ শক্তি প্রদর্শন করেছিল।

২০১৫ সালের ২৮ জানুয়ারি থেকে ১১ মার্চ পর্যন্ত মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ১০ লক্ষাধিক মানুষ টাঙ্গাইল জেলাকে ঢাকা বিভাগেই রাখার দাবিতে গণস্বাক্ষর করে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে প্রেরণ করেছিলেন।
এই গণস্বাক্ষর ছিল টাঙ্গাইলবাসীর ঐক্যবদ্ধ ইচ্ছার প্রতিচ্ছবি, যার ফলশ্রুতিতে টাঙ্গাইল ঢাকা বিভাগেই থেকে যায়।
টাঙ্গাইলবাসী হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে আজকের দিনে সেই ইতিহাসকে পুনরায় সৃষ্টি করতে যেন বাধ্য করা না হয়। গত এক দশকে টাঙ্গাইলের জনসংখ্যা কেবল বেড়েছে, কমেনি।
যদি টাঙ্গাইলকে ময়মনসিংহ বিভাগে অন্তর্ভুক্ত করার কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পেশ করা হয়, তবে এর পরিণতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
টাঙ্গাইলবাসীর বার্তা স্পষ্ট: “খেলা শুরু কইরেন না!” টাঙ্গাইলবাসী আবারও ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে নামতে প্রস্তুত। প্রয়োজনে পুনরায় গণস্বাক্ষরের ডাক দেওয়া হবে, এবং এবারের সংখ্যা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে।
সভা-সমাবেশসহ সকল প্রকার গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের জন্য তারা প্রস্তুত আছেন বলেও হুশিয়ার উচ্চারণ করেন। সবার দাবী ‘সোজা কথায় কাজ হয় না’—এই প্রবাদকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে টাঙ্গাইলবাসী জোর দিয়ে বলছে, তাদের এই গণদাবিকে হালকাভাবে নেওয়া বা উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই।
ঐক্যবদ্ধ টাঙ্গাইল জেলাকে ঢাকা বিভাগে রাখার দাবিতে একতাবদ্ধ এবং অবিচল।
হ্যাপি আক্তার, টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি। 


















