সিলেট ০৮:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
News Title :
কমরেড সুমন ও কমরেড সুইটের ২৪তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত: সমাধিতে বাসদ নেতৃবৃন্দের শ্রদ্ধা‎ এনায়েত উল্লাাহ আব্বাসী’র মানহানিকর বক্তব্য ও সাংবাদিক হত্যার প্রতিবাদে সিসকপ’র মানববন্ধন!  ‎করাব ইউনিয়নে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী যুবদল নেতা মাহবুব আলম মালু বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ৫৫তম শাহাদাত বার্ষিকী আজ মৌলভীবাজারে পিকআপসহ চারজন আটক, চুরি হওয়া দুই গাভী উদ্ধার ‎মিষ্টির আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি হতে যাচ্ছেন এলিজা জামান পদ্ম হাতে “তুমি আসবে বলেই তো অপেক্ষাটা এত সুন্দর” প্রধান শিক্ষক তন্নী রহমানের ফেসবুক পোস্ট ঘিরে আলোচনা-সমালোচনা‎ গোয়াইনঘাট প্রেসক্লাব সম্পাদক কে.এম. লিমনকে গ্রাম পুলিশের সংবর্ধনা ‎সিলেটের গোয়াইনঘাটে যুবদল নেতা বদরুল হত্যা: দিরাই থেকে ২ আসামি গ্রেফতার মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনের রুট কক্সবাজার পর্যন্ত বর্ধিতকরণের শুভ উদ্বোধন
‎হতবাক গ্রামবাসী: নাসির মিয়ার সততা ও মিতব্যয়িতার গল্প

‎হবিগঞ্জে বিস্ময়! ভিক্ষুকের মৃত্যু, এরপর ঘরে মিলল বস্তাভর্তি ২ লাখ ২৪ হাজার টাকা

‎

‎মৃত ভিক্ষুক নাসির মিয়া ঘর থেকে বস্তাবন্দি টাকা উদ্ধার করা হয়।

‎

‎


‎

‎হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বহরা ইউনিয়নের দলাগাঁও গ্রামে এক ভিক্ষুকের মৃত্যুর পর তাঁর জীর্ণ ঘর থেকে উদ্ধার হয়েছে বস্তাভর্তি টাকা, যা নিয়ে গ্রামজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনা।

‎দীর্ঘদিনের ভিক্ষাবৃত্তির সঞ্চয় এই বিপুল পরিমাণ অর্থ—এ যেন এক নীরব চমক!

‎মৃত ভিক্ষুকের নাম নাসির মিয়া (৭০)। তিনি এলাকায় একজন সৎ ও নিরহঙ্কার মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তাঁর মিতব্যয়ী জীবনযাপন গ্রামের সকলের কাছে এক সরলতার উদাহরণ ছিল।

‎

‎গত ৯ অক্টোবর বার্ধক্যজনিত কারণে নাসির মিয়ার মৃত্যু হয়। পরদিন (১০ অক্টোবর) তাঁর পরিবারের সদস্যরা ঘর পরিষ্কার করতে যান। তখনই তাঁদের চোখে পড়ে একটি পুরনো বস্তা।

‎বস্তাটি খুলতেই চোখ কপালে ওঠে—ভেতরে গুচ্ছ গুচ্ছ টাকার নোট! পরে স্থানীয় মুরব্বিদের উপস্থিতিতে টাকা গোনা হলে দেখা যায়, বস্তার ভেতরে রয়েছে মোট ২ লাখ ২৪ হাজার টাকা। ধারণা করা হচ্ছে, নাসির মিয়া বছরের পর বছর ধরে ভিক্ষা ও অনুদানের টাকা অল্প অল্প করে জমিয়ে রেখেছিলেন। সম্ভবত কাউকে বিশ্বাস করতে না পেরে তিনি এই টাকা নিজের ঘরেই লুকিয়ে রেখেছিলেন।

‎


‎নাসির মিয়ার সততার কথা উঠে এসেছে স্থানীয়দের কথায়। তাঁরা জানান, নাসির মিয়া খুবই সরল ও সৎ মানুষ ছিলেন। কারও কাছে হাত পাতলেও তিনি কখনো বাড়তি কিছু চাইতেন না।

‎

‎বহরা ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,ঘটনাটি পুরোপুরি সত্য।

‎নাসির মিয়া অত্যন্ত সরল ও সৎ মানুষ ছিলেন। মৃত্যুর কিছুদিন আগেও তিনি আমার কাছে এসে বয়স্ক ভাতার আবেদন করেছিলেন।

‎তখন আমরা তাঁকে কিছুটা সহযোগিতা করেছিলাম। এখন তাঁর মৃত্যুর পর ঘরে এত টাকা পাওয়া সত্যিই বিস্ময়কর।”

‎বর্তমানে উদ্ধার হওয়া টাকাগুলো নাসির মিয়ার পরিবারের হেফাজতেই আছে বলে জানা গেছে।

‎

‎স্থানীয়রা বলছেন, নাসির মিয়ার এই ঘটনা শুধু কৌতূহল নয়, এটি সমাজের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও বহন করছে। দরিদ্র হওয়া সত্ত্বেও সততা ও মিতব্যয়ী জীবনযাপন কেমন হতে পারে, তার এক নিদর্শন রেখে গেলেন এই নিরহঙ্কার ভিক্ষুক নাসির মিয়া।

‎

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কমরেড সুমন ও কমরেড সুইটের ২৪তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত: সমাধিতে বাসদ নেতৃবৃন্দের শ্রদ্ধা‎

‎হতবাক গ্রামবাসী: নাসির মিয়ার সততা ও মিতব্যয়িতার গল্প

‎হবিগঞ্জে বিস্ময়! ভিক্ষুকের মৃত্যু, এরপর ঘরে মিলল বস্তাভর্তি ২ লাখ ২৪ হাজার টাকা

সময় ০২:৪৩:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৫

‎

‎মৃত ভিক্ষুক নাসির মিয়া ঘর থেকে বস্তাবন্দি টাকা উদ্ধার করা হয়।

‎

‎


‎

‎হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বহরা ইউনিয়নের দলাগাঁও গ্রামে এক ভিক্ষুকের মৃত্যুর পর তাঁর জীর্ণ ঘর থেকে উদ্ধার হয়েছে বস্তাভর্তি টাকা, যা নিয়ে গ্রামজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনা।

‎দীর্ঘদিনের ভিক্ষাবৃত্তির সঞ্চয় এই বিপুল পরিমাণ অর্থ—এ যেন এক নীরব চমক!

‎মৃত ভিক্ষুকের নাম নাসির মিয়া (৭০)। তিনি এলাকায় একজন সৎ ও নিরহঙ্কার মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তাঁর মিতব্যয়ী জীবনযাপন গ্রামের সকলের কাছে এক সরলতার উদাহরণ ছিল।

‎

‎গত ৯ অক্টোবর বার্ধক্যজনিত কারণে নাসির মিয়ার মৃত্যু হয়। পরদিন (১০ অক্টোবর) তাঁর পরিবারের সদস্যরা ঘর পরিষ্কার করতে যান। তখনই তাঁদের চোখে পড়ে একটি পুরনো বস্তা।

‎বস্তাটি খুলতেই চোখ কপালে ওঠে—ভেতরে গুচ্ছ গুচ্ছ টাকার নোট! পরে স্থানীয় মুরব্বিদের উপস্থিতিতে টাকা গোনা হলে দেখা যায়, বস্তার ভেতরে রয়েছে মোট ২ লাখ ২৪ হাজার টাকা। ধারণা করা হচ্ছে, নাসির মিয়া বছরের পর বছর ধরে ভিক্ষা ও অনুদানের টাকা অল্প অল্প করে জমিয়ে রেখেছিলেন। সম্ভবত কাউকে বিশ্বাস করতে না পেরে তিনি এই টাকা নিজের ঘরেই লুকিয়ে রেখেছিলেন।

‎


‎নাসির মিয়ার সততার কথা উঠে এসেছে স্থানীয়দের কথায়। তাঁরা জানান, নাসির মিয়া খুবই সরল ও সৎ মানুষ ছিলেন। কারও কাছে হাত পাতলেও তিনি কখনো বাড়তি কিছু চাইতেন না।

‎

‎বহরা ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,ঘটনাটি পুরোপুরি সত্য।

‎নাসির মিয়া অত্যন্ত সরল ও সৎ মানুষ ছিলেন। মৃত্যুর কিছুদিন আগেও তিনি আমার কাছে এসে বয়স্ক ভাতার আবেদন করেছিলেন।

‎তখন আমরা তাঁকে কিছুটা সহযোগিতা করেছিলাম। এখন তাঁর মৃত্যুর পর ঘরে এত টাকা পাওয়া সত্যিই বিস্ময়কর।”

‎বর্তমানে উদ্ধার হওয়া টাকাগুলো নাসির মিয়ার পরিবারের হেফাজতেই আছে বলে জানা গেছে।

‎

‎স্থানীয়রা বলছেন, নাসির মিয়ার এই ঘটনা শুধু কৌতূহল নয়, এটি সমাজের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও বহন করছে। দরিদ্র হওয়া সত্ত্বেও সততা ও মিতব্যয়ী জীবনযাপন কেমন হতে পারে, তার এক নিদর্শন রেখে গেলেন এই নিরহঙ্কার ভিক্ষুক নাসির মিয়া।

‎