
হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে বসবাসকারী আয়নাল মিয়া এক বিস্ময়কর মানুষ, যিনি দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর ধরে খালি হাতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার মতো বিপজ্জনক কাজ করে আসছেন।
স্থানীয়ভাবে তিনি ‘বিদ্যুৎ মানব’ নামেই বেশ পরিচিত। তার এই দুঃসাহসিক কাজ দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও প্রশংসিত হয়েছে।

বিদ্যুৎ নিয়ে ছেলেখেলা
একজন সাধারণ মানুষের জন্য খালি হাতে ২২০ ভোল্টের বৈদ্যুতিক তার স্পর্শ করা মানে নিশ্চিত মৃত্যু! অথচ আয়নাল মিয়া কোনো রকম নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই মেইন লাইনে হাত দিয়ে বাতি জ্বালান। তার কাছে বিদ্যুতের এই বিপজ্জনক কাজ যেন এক ছেলেখেলা! তিনি যখন তারে হাত দেন, তখন তার পুরো শরীরে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়। এই সময় তিনি অন্যদের তার থেকে দূরে থাকতে বলেন। তার গায়ে তখন হাত দিলে নির্ঘাত দূর্ঘটনা ঘটবে। তাই সে সময় দূরে দাঁড়িয়ে থাকার জন্য সবাইকে সর্তক করেন।
এই বিপজ্জনক কাজের কারণ জানতে চাইলে আয়নাল মিয়া জানান, বিদ্যুৎ নিয়েই তার ধ্যান-ধারণা। তার এই বিশেষ ক্ষমতা ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে মানুষকে বিস্মিত করে আসছে। দেশের বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল ও প্রিন্ট মিডিয়া তার এই ব্যতিক্রমী প্রতিভা নিয়ে প্রতিবেদন নিয়মিত প্রকাশ করেছে। তিনি ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি টিভি চ্যানেলে সরাসরি স্টুডিওতে উপস্থিত থেকে কথা বলেছেন। তাঁকে নিয়ে বিশেষ পর্ব প্রচারিত হয়েছে। এসব কাজে আয়নাল মিয়া কোনো পূর্বপ্রস্তুতি ছাড়াই তাৎক্ষণিকভাবে ক্যামেরার সামনে নিজের দক্ষতা প্রমাণ করতে পারেন তিনি।
সবাইকে সতর্ক থাকার অনুরোধ
যদিও আয়নাল মিয়া এই কাজ অনায়াসে করতে পারেন, তিনি সবাইকে কঠোরভাবে সতর্ক করেন। তিনি বলেন, “আমি সবাইকে অনুরোধ করব কেউ খালি হাতে বিদ্যুৎতে তারে হাত দিবেন না। এটা কেউ নিজ হাতে চেষ্টা করবেন না। সেফটি নিয়ে প্রয়োজন হলে হাত দিবেন।”
আয়নাল মিয়ার চাওয়া
আয়নাল মিয়া বর্তমানে তার ছেলেদের সঙ্গে অবসর জীবন কাটাচ্ছেন। তিনি এখন আর নিয়মিত কাজ করেন না, তবে শখের বশে মানুষকে জরুরি সেবা দেন। তার কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই, শুধু সরকারের পক্ষ থেকে একটু স্বীকৃতি পেলে তার আশা পূরণ হবে বলে তিনি জানান।
আয়নাল মিয়ার এই ব্যতিক্রমী ক্ষমতা বিজ্ঞানসম্মতভাবে ব্যাখ্যা করা কঠিন হলেও তার এই দুঃসাহসিক কাজ তাকে এক রহস্যময় ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে।
আতাউর রহমান মিলন। 



















