সিলেট ০৩:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
News Title :
‎জুড়ীতে দুদকের দুর্নীতি বিরোধী স্কুল বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত বই পাঠে বিমূখতা তরুণদের চিন্তাশক্তি ও সৃজনশীলতা নষ্ট করে দিচ্ছেঃ প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক ভাতকুড়া-নলুয়া ফোরলেন প্রকল্পের ঘোষণা দিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী- আযম খান তেলিয়াপাড়া চা বাগানে শ্রমিক দ্বন্দ্বের অবসান, সমঝোতায় ফিরলো স্বাভাবিক উৎপাদন বানিয়াচংয়ে আজমান লস্কর হত্যা মামলা: র‍্যাবের হাতে আরও ২ ভাই গ্রেফতার, মোট আটক ৪ ‎দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই: এমপি কয়ছর আহমদ ‎বিয়ানীবাজার থেকে উৎপাদিত হচ্ছে ১শ’ ব্যারেল কনডেনসেট পেট্রোল-অকটেন!‎ ‎ওসমানীনগরে পর্নোগ্রাফি মামলার প্রধান আসামি সাকিব গ্রেফতার; র‍্যাবের ঝটিকা অভিযান ‎সিলেটের গোয়াইনঘাটে ২৬ বোতল ইসকফসহ ২ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার‎ ‎মাধবপুরের শাহপুরে রাস্তা দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আহত ৪

‎বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী মমিন: বানিয়াচংয়ের নিবেদিত প্রাণ

বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী মমিন (ফাইল ছবি)


মোহাম্মদ আলী মমিন শুধু একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাই নন, তিনি একজন জনপ্রতিনিধি এবং শিক্ষাবিদ হিসেবে বানিয়াচংয়ের মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। হবিগঞ্জ শহরে বসবাস করলেও তিনি প্রতিদিন বানিয়াচংয়ে আসা-যাওয়া করতেন, যা তাঁর নিজ ভূমির প্রতি অসামান্য ভালোবাসারই প্রতিফলন। বানিয়াচংয়ের শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে তাঁর সরব উপস্থিতি সবসময়ই লক্ষ্যণীয়।
নির্মোহ ব্যক্তিত্ব ও আপসহীনতা
‎মোহাম্মদ আলী মমিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো তাঁর সত্যবাদীতা। তিনি ‘সাদাকে সাদা’ এবং ‘কালোকে কালো’ বলতে দ্বিধা করতেন না, যা তাঁর সহজাত অভ্যাস। এই অকপট স্বভাবের কারণেই তিনি বানিয়াচংয়ের মানুষের কাছে একজন নির্ভরযোগ্য এবং স্পষ্টভাষী নেতা হিসেবে পরিচিত।
জনসেবায় অনন্য দৃষ্টান্ত
‎তিনি ছিলেন এক ব্যতিক্রমী জনপ্রতিনিধি, যিনি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কোনো অর্থ খরচ না করেই বারবার ৪নং দক্ষিণ পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। এটি বানিয়াচংয়ের জনগণের কাছে তাঁর জনপ্রিয়তা এবং আস্থার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। যদিও সর্বশেষ নির্বাচনে তিনি দলীয় প্রার্থীর কাছে অপ্রত্যাশিতভাবে পরাজিত হন, যা সে সময়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। অনেকেই এটিকে ‘পাতানো ফলাফল’ হিসেবেই মনে করেন। এই ঘটনার পর তিনি কিছুটা লোকচক্ষুর আড়ালে চলে গেলেও, বানিয়াচংয়ের প্রতিটি সংগঠনের অনুষ্ঠানে তাঁর স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি সবসময়ই ছিল।
শিক্ষার প্রসারে নিরন্তর প্রচেষ্টা
‎মোহাম্মদ আলী মমিন সবসময় গর্ব করে বলেন যে, পৃথিবীর বৃহত্তম গ্রাম বানিয়াচংয়ে তাঁর জন্ম ও উত্থান। এই দায়বদ্ধতা থেকেই তিনি বানিয়াচংয়ের হাইস্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে কাজ করে চলেছেন। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মনোবল বৃদ্ধি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানমুখী করার লক্ষ্যে তিনি যুগোপযোগী কর্মসূচি গ্রহণ করছেন। সম্প্রতি তিনি বানিয়াচংয়ের মহারত্নপাড়া হাইস্কুল, বি.এস.ডি বালিকা আলিম মাদ্রাসা, এবং আমবাগান উচ্চ বিদ্যালয়-এর ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকদের সাথে মতবিনিময় করেছেন। এর আগেও তিনি বানিয়াচং মেধাবিকাশ হাইস্কুল, এরশাদ হাইস্কুল, ডা. ইলিয়াস হাইস্কুল, বানিয়াচং সরকারি গার্লস স্কুল, এল. আর. সরকারি হাইস্কুল, বানিয়াচং আদর্শ কলেজ, টেকনিক্যাল কলেজ, সুফিয়া মতিন মহিলা কলেজ, এবং আলিয়া মাদ্রাসা পরিদর্শন করেছেন এবং আগামী সপ্তাহে আরও কিছু প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।
‎মানবিক গুণাবলী
‎পরিচিতজনদের সাথে কুশল বিনিময় এবং তাদের পরিবারের খোঁজখবর নেওয়া মোহাম্মদ আলী মমিনের একটি অনন্য গুণ। এছাড়াও, তিনি ৭১-এর রণাঙ্গনের সহযোদ্ধাদের খুঁজে বের করে তাদের বাড়িতে গিয়ে খোঁজখবর নেন, যা তাঁর মহানুভবতার পরিচায়ক। এই মহান মানুষটির প্রতি রইলো সবসময় শুভকামনা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‎জুড়ীতে দুদকের দুর্নীতি বিরোধী স্কুল বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

‎বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী মমিন: বানিয়াচংয়ের নিবেদিত প্রাণ

সময় ০২:০৯:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ জুলাই ২০২৫

বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী মমিন (ফাইল ছবি)


মোহাম্মদ আলী মমিন শুধু একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাই নন, তিনি একজন জনপ্রতিনিধি এবং শিক্ষাবিদ হিসেবে বানিয়াচংয়ের মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। হবিগঞ্জ শহরে বসবাস করলেও তিনি প্রতিদিন বানিয়াচংয়ে আসা-যাওয়া করতেন, যা তাঁর নিজ ভূমির প্রতি অসামান্য ভালোবাসারই প্রতিফলন। বানিয়াচংয়ের শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে তাঁর সরব উপস্থিতি সবসময়ই লক্ষ্যণীয়।
নির্মোহ ব্যক্তিত্ব ও আপসহীনতা
‎মোহাম্মদ আলী মমিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো তাঁর সত্যবাদীতা। তিনি ‘সাদাকে সাদা’ এবং ‘কালোকে কালো’ বলতে দ্বিধা করতেন না, যা তাঁর সহজাত অভ্যাস। এই অকপট স্বভাবের কারণেই তিনি বানিয়াচংয়ের মানুষের কাছে একজন নির্ভরযোগ্য এবং স্পষ্টভাষী নেতা হিসেবে পরিচিত।
জনসেবায় অনন্য দৃষ্টান্ত
‎তিনি ছিলেন এক ব্যতিক্রমী জনপ্রতিনিধি, যিনি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কোনো অর্থ খরচ না করেই বারবার ৪নং দক্ষিণ পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। এটি বানিয়াচংয়ের জনগণের কাছে তাঁর জনপ্রিয়তা এবং আস্থার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। যদিও সর্বশেষ নির্বাচনে তিনি দলীয় প্রার্থীর কাছে অপ্রত্যাশিতভাবে পরাজিত হন, যা সে সময়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। অনেকেই এটিকে ‘পাতানো ফলাফল’ হিসেবেই মনে করেন। এই ঘটনার পর তিনি কিছুটা লোকচক্ষুর আড়ালে চলে গেলেও, বানিয়াচংয়ের প্রতিটি সংগঠনের অনুষ্ঠানে তাঁর স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি সবসময়ই ছিল।
শিক্ষার প্রসারে নিরন্তর প্রচেষ্টা
‎মোহাম্মদ আলী মমিন সবসময় গর্ব করে বলেন যে, পৃথিবীর বৃহত্তম গ্রাম বানিয়াচংয়ে তাঁর জন্ম ও উত্থান। এই দায়বদ্ধতা থেকেই তিনি বানিয়াচংয়ের হাইস্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে কাজ করে চলেছেন। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মনোবল বৃদ্ধি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানমুখী করার লক্ষ্যে তিনি যুগোপযোগী কর্মসূচি গ্রহণ করছেন। সম্প্রতি তিনি বানিয়াচংয়ের মহারত্নপাড়া হাইস্কুল, বি.এস.ডি বালিকা আলিম মাদ্রাসা, এবং আমবাগান উচ্চ বিদ্যালয়-এর ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকদের সাথে মতবিনিময় করেছেন। এর আগেও তিনি বানিয়াচং মেধাবিকাশ হাইস্কুল, এরশাদ হাইস্কুল, ডা. ইলিয়াস হাইস্কুল, বানিয়াচং সরকারি গার্লস স্কুল, এল. আর. সরকারি হাইস্কুল, বানিয়াচং আদর্শ কলেজ, টেকনিক্যাল কলেজ, সুফিয়া মতিন মহিলা কলেজ, এবং আলিয়া মাদ্রাসা পরিদর্শন করেছেন এবং আগামী সপ্তাহে আরও কিছু প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।
‎মানবিক গুণাবলী
‎পরিচিতজনদের সাথে কুশল বিনিময় এবং তাদের পরিবারের খোঁজখবর নেওয়া মোহাম্মদ আলী মমিনের একটি অনন্য গুণ। এছাড়াও, তিনি ৭১-এর রণাঙ্গনের সহযোদ্ধাদের খুঁজে বের করে তাদের বাড়িতে গিয়ে খোঁজখবর নেন, যা তাঁর মহানুভবতার পরিচায়ক। এই মহান মানুষটির প্রতি রইলো সবসময় শুভকামনা।