সিলেট ০৬:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
News Title :
‎আফগানিস্তানে জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি হলেন মাধবপুরের রাবাব ফাতিমা ‎হবিগঞ্জে বন্যাদুর্গত চার শতাধিক মানুষের পাশে জেলা পুলিশ মেডিকেল ক্যাম্পে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা‎ রুস্তম হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল, ১২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম ‎লাখাইয়ে কৃষক স্মার্ট কার্ড বিতরণ শুরু ‎টাকার অভাবে থমকে গেছে উস্তার মিয়ার চিকিৎসা, পরিবার নিয়ে মানবতর জীবন যাপন হবিগঞ্জে ঘাস কাটতে গিয়ে সাপের কামড়ে যুবকের মৃত্যু সাবেক প্রয়াত মন্ত্রী সিরাজুল হোসেন খান শততম বর্ষে পদার্পণ আজ‎‎। জামালপুর অর্থনৈতিক অঞ্চলে বন্দি ‘পশ্চিমপাড়া গ্রাম’: পুনর্বাসনের জোর দাবি সচেতন মহলের ‎শান্তিগঞ্জে উচ্চ ফলনশীল আগাম জাতের আমন ধান চাষে কৃষকদের মৌলিক প্রশিক্ষণ সমাপ্ত শান্তিগঞ্জে জুলাই শহিদ দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা

সিলেটের ঐতিহ্যবাহী কীন ব্রীজ হকারদেরদখলে, জনদুর্ভোগ চরমে।

সিলেট কীন ব্রীজের দুইপাশে হকারেরা দোকান বসিয়ে পথচারীদের বিড়ম্বনা সৃষ্টি করেছে।

ছবি- সাদেক আলী খান।

সিলেটের প্রবেশদ্বার এবং ঐতিহ্যবাহী কীন ব্রীজ এখন অবৈধ হকারদের দখলে চলে গেছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ব্রীজের দু’পাশে পসরা সাজিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে এসব হকার, যার ফলে পথচারী এবং বাইক চালকদের চরম বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে। এই সুযোগে পকেটমারদের দৌরাত্ম্যও বৃদ্ধি পেয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ব্রীজটির দু’পাশে সারিবদ্ধভাবে বিভিন্ন ধরনের তরিতরকারি, মাছ, শুটকি, ফল, জুতা-মোজা সহ নানান পণ্যের দোকান বসিয়েছে হকাররা। দেখে মনে হচ্ছে যেন কোনো মেলা বসেছে। এর ফলে ঐতিহ্যবাহী কীন ব্রীজটি মারাত্মক পরিবেশ দূষণ ও ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। বিশেষ করে মাছ ও শুটকির তীব্র গন্ধে ব্রীজের পরিবেশ দিন দিন দূষিত হচ্ছে, যার কারণে পথচারীদের নাক চেপে হাঁটতে দেখা যায়।
ব্রীজের দু’পাশে দোকান বসার কারণে পথচারীদের গাদাগাদি করে হাঁটতে হচ্ছে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এবং মহিলাদের চলাচলে প্রচণ্ড সমস্যা লক্ষ্য করা গেছে। এই ভিড়ের সুযোগে পকেটমাররা হরহামেশাই মানুষের পকেট কেটে নিচ্ছে, যার ফলে পথচারীরা চরম ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

পথচারীগণ চরম বিড়ম্বনা শিকার হচ্ছে প্রতিনিয়ত ।

ছবি- সাদেক আলী খান।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারের পট পরিবর্তনের পর থেকে হকাররা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। বিগত দিনে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে লালদিঘির পাড়ে স্থায়ী হকার সেড তৈরি করে দেওয়া হলেও তারা সেখানে না বসে রাস্তার দু’পাশ এবং ব্রীজ দখল করে অবাধে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের দাবি, লালদিঘীর পাড়ে লোকজন কেনাকাটা করতে যায় না এবং সেখানে ব্যবসা করে পোষায় না।
শুধু কীন ব্রীজ নয়, বন্দর, জিন্দাবাজার, লালদিঘিরপাড় এবং নগরীর প্রতিটি এলাকায় একই চিত্র দেখা গেছে। কীন ব্রীজ থেকে চৌহাট্টা পর্যন্ত রাস্তার দু’পাশ হকারদের দখলে থাকার কারণে প্রতিদিন মারাত্মক যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
মাঝে মাঝে সিটি কর্পোরেশন ও পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযান পরিচালনা করা হলেও অভিযানের খবর আগে থেকে পেয়ে হকাররা পালিয়ে যায়। পুলিশ চলে গেলে তারা পুনরায় সড়ক ও ব্রীজ নিজেদের দখলে নিয়ে নেয়।


দুইপাশে মালামাল সাজিয়ে এভাবে বসে আছে হকাররা।

ছবি- সাদেক আলী খান।


সিলেট নগরীর আধ্যাত্মিক ও পরিচ্ছন্ন নগরীর জৌলুস দিন দিন হারাচ্ছে, যার প্রধান কারণ হিসেবে হকারদের এই বেপরোয়া দখলদারিত্বকে দায়ী করছেন সাধারণ নাগরিকরা। তাই নগরীর সৌন্দর্য ও ঐতিহ্য ধরে রাখতে হলে হকারমুক্ত কীন ব্রীজ এবং রাস্তার দু’পাশে উন্মুক্ত দোকানপাট বসতে না দেওয়ার ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি সিটি কর্পোরেশন ও পুলিশের তৎপরতা বাড়ানোর উপর জোর দিতে হবে এবং নিয়মিত তদারকি করার দাবি জানিয়েছেন সাধারণ নাগরিকরা।
হকারদের দখলে থাকা কীন ব্রীজ নিয়ে স্থানীয় পত্রিকা ও জাতীয় দৈনিকে একাধিকবার সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পরও নিয়মিত দোকানপাট বসিয়ে পরিবেশ নষ্ট করছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তেমন কোন জোড়ালো প্রদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‎আফগানিস্তানে জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি হলেন মাধবপুরের রাবাব ফাতিমা

সিলেটের ঐতিহ্যবাহী কীন ব্রীজ হকারদেরদখলে, জনদুর্ভোগ চরমে।

সময় ১১:১৮:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ জুন ২০২৫

সিলেট কীন ব্রীজের দুইপাশে হকারেরা দোকান বসিয়ে পথচারীদের বিড়ম্বনা সৃষ্টি করেছে।

ছবি- সাদেক আলী খান।

সিলেটের প্রবেশদ্বার এবং ঐতিহ্যবাহী কীন ব্রীজ এখন অবৈধ হকারদের দখলে চলে গেছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ব্রীজের দু’পাশে পসরা সাজিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে এসব হকার, যার ফলে পথচারী এবং বাইক চালকদের চরম বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে। এই সুযোগে পকেটমারদের দৌরাত্ম্যও বৃদ্ধি পেয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ব্রীজটির দু’পাশে সারিবদ্ধভাবে বিভিন্ন ধরনের তরিতরকারি, মাছ, শুটকি, ফল, জুতা-মোজা সহ নানান পণ্যের দোকান বসিয়েছে হকাররা। দেখে মনে হচ্ছে যেন কোনো মেলা বসেছে। এর ফলে ঐতিহ্যবাহী কীন ব্রীজটি মারাত্মক পরিবেশ দূষণ ও ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। বিশেষ করে মাছ ও শুটকির তীব্র গন্ধে ব্রীজের পরিবেশ দিন দিন দূষিত হচ্ছে, যার কারণে পথচারীদের নাক চেপে হাঁটতে দেখা যায়।
ব্রীজের দু’পাশে দোকান বসার কারণে পথচারীদের গাদাগাদি করে হাঁটতে হচ্ছে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এবং মহিলাদের চলাচলে প্রচণ্ড সমস্যা লক্ষ্য করা গেছে। এই ভিড়ের সুযোগে পকেটমাররা হরহামেশাই মানুষের পকেট কেটে নিচ্ছে, যার ফলে পথচারীরা চরম ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

পথচারীগণ চরম বিড়ম্বনা শিকার হচ্ছে প্রতিনিয়ত ।

ছবি- সাদেক আলী খান।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারের পট পরিবর্তনের পর থেকে হকাররা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। বিগত দিনে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে লালদিঘির পাড়ে স্থায়ী হকার সেড তৈরি করে দেওয়া হলেও তারা সেখানে না বসে রাস্তার দু’পাশ এবং ব্রীজ দখল করে অবাধে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের দাবি, লালদিঘীর পাড়ে লোকজন কেনাকাটা করতে যায় না এবং সেখানে ব্যবসা করে পোষায় না।
শুধু কীন ব্রীজ নয়, বন্দর, জিন্দাবাজার, লালদিঘিরপাড় এবং নগরীর প্রতিটি এলাকায় একই চিত্র দেখা গেছে। কীন ব্রীজ থেকে চৌহাট্টা পর্যন্ত রাস্তার দু’পাশ হকারদের দখলে থাকার কারণে প্রতিদিন মারাত্মক যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
মাঝে মাঝে সিটি কর্পোরেশন ও পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযান পরিচালনা করা হলেও অভিযানের খবর আগে থেকে পেয়ে হকাররা পালিয়ে যায়। পুলিশ চলে গেলে তারা পুনরায় সড়ক ও ব্রীজ নিজেদের দখলে নিয়ে নেয়।


দুইপাশে মালামাল সাজিয়ে এভাবে বসে আছে হকাররা।

ছবি- সাদেক আলী খান।


সিলেট নগরীর আধ্যাত্মিক ও পরিচ্ছন্ন নগরীর জৌলুস দিন দিন হারাচ্ছে, যার প্রধান কারণ হিসেবে হকারদের এই বেপরোয়া দখলদারিত্বকে দায়ী করছেন সাধারণ নাগরিকরা। তাই নগরীর সৌন্দর্য ও ঐতিহ্য ধরে রাখতে হলে হকারমুক্ত কীন ব্রীজ এবং রাস্তার দু’পাশে উন্মুক্ত দোকানপাট বসতে না দেওয়ার ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি সিটি কর্পোরেশন ও পুলিশের তৎপরতা বাড়ানোর উপর জোর দিতে হবে এবং নিয়মিত তদারকি করার দাবি জানিয়েছেন সাধারণ নাগরিকরা।
হকারদের দখলে থাকা কীন ব্রীজ নিয়ে স্থানীয় পত্রিকা ও জাতীয় দৈনিকে একাধিকবার সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পরও নিয়মিত দোকানপাট বসিয়ে পরিবেশ নষ্ট করছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তেমন কোন জোড়ালো প্রদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি।