সিলেট ০১:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
News Title :
‎সিলেট ওসমানী মেডিকেলে বানিয়াচংয়ের কুখ্যাত দালাল চক্রের মুলহোতা আটক। ‎বানিয়াচংয়ে জমি নিয়ে বিরোধ: ভাইদের আহত প্রবাসীর মৃত্যু, ভাই ও ভাবি গ্রেপ্তার‎ ‎বানিয়াচংয়ে অকাল বন্যায় ডুবছে কৃষকের স্বপ্ন: ফসল রক্ষায় লড়ছেন দিশেহারা কৃষক ‎সিলেটে ও সুনামগঞ্জে র‍্যাব-বিআরটিএ’র যৌথ অভিযান: ১১ চালককে জরিমানা, ৭টি সিএনজি জব্দ‎ ‎বাডসের বৈশাখী উৎসবে ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হকঃ‎আলোকিত সমাজ গঠনে শুদ্ধ সংস্কৃতি চর্চা অপরিহার্য জামালপুরে গ্রিন বিজনেস মডেলে ভুট্টা চাষের ফসল চাষ প্রদর্শনী ও কৃষক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত প্রতিটি উপজেলায় হবে ‘মাল্টিপারপাস পরীক্ষা কেন্দ্র’: শিক্ষামন্ত্রী ‎ছাতকে বিজ্ঞান মেলা উদ্বোধন,ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবনে মুখর মেলা প্রাঙ্গণ।‎ সিলেটে অশ্লীল ভিডিও ধারণ করে মুক্তিপণ আদায়কারী ‘হানিট্র্যাপ’ চক্রের সদস্য গ্রেফতার জুড়ীতে পহেলা বৈশাখ ও বাংলা নববর্ষ উদযাপিত

বানিয়াচংয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত, ৫৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের

হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার কাগাপাশা ইউনিয়নের বাতাকান্দি গ্রামে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে হযরত আলী (৫৫) নামে একজন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় ৫৭ জনকে আসামি করে বানিয়াচং থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। সংঘর্ষের পর প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে।
রবিবার (৮ জুন) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বাতাকান্দি গ্রামের উসমান মিয়া ও হারুন মিয়ার লোকজনের মধ্যে পূর্ববিরোধের জেরে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী চলা এই সংঘর্ষে হারুন মিয়ার পক্ষের হযরত আলী গুরুতর আহত হন। তাকে হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
নিহতের ভাই মস্ত মিয়া জানান, বিকেলে নতুন হাটিতে উসমান মিয়ার চাচা রহিম মিয়া ও হযরত আলীর মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। তিনি আরও জানান, তাদের পক্ষের অন্তত ৩০-৪০ জন আহত হয়েছেন এবং তাদেরকে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ঘটনার পর কাগাপাশা ইউনিয়নের বিট পুলিশ কর্মকর্তা এসআই রূপক দাসের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এসআই রূপক দাস জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে উসমান মিয়াকে তার নানার বাড়ি কাগাপাশা ইউনিয়নের বগী গ্রাম থেকে আটক করা হয়েছে।
১০ জুন মঙ্গলবার নিহত হযরত আলীর ছেলে হোসেন মিয়া বাদী হয়ে বানিয়াচং থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় উসমান মিয়াকে প্রধান আসামি করে আরও ৫৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অন্য আসামিরা হলেন: মোঃ রফিক মিয়া, আব্দুর রহিম মিয়া, আব্দুল মতিন, মোঃ হাফিজুর রহমান, মোঃ আনোয়ার হোসেন, মোঃ ধন মিয়া, মোঃ খোকন মিয়া, মোঃ ফাইজুল হক, মোঃ লেছু মিয়া, মোঃ লিটন মিয়া, মোঃ কাউছার মিয়া, মোঃ মামুন মিয়া, মোঃ হারুন মিয়া, মোঃ ইমন মিয়া, মোঃ মালেক মিয়া, মোঃ রফিজ মিয়া, মোঃ সাইফুর রহমান, ফারুক মিয়া, মোঃ সিজিল মিয়া, নুরচান মিয়া, মোঃ লালচান মিয়া, মোঃ এমরান মিয়া, মোঃ নয়ন মিয়া, মোঃ হাবিবুর রহমান, ইজাজুল মিয়া, মোঃ জাবেদ মিয়া, মোঃ সাইকুল মিয়া, মোঃ রায়হান মিয়া, মোঃ আলফু মিয়া, মোঃ সাহিদুল ইসলাম, মোঃ মনির মিয়া, মোঃ জিবন মিয়া, মোঃ মিলন মিয়া, আঃ হেকিম, মোঃ মিজান মিয়া, সোহাগ মিয়া, হাদিছ মিয়া, মোঃ তহিদুল ইসলাম, মোঃ ইদু মিয়া, মোঃ নজরুল ইসলাম, মোঃ আবু তাহের, আব্দুর রেজাক, মোঃ লাল মিয়া, মোঃ নানদু মিয়া, মোঃ আমির হোসেন, আবু কালাম, মোঃ রুবেল মিয়া, মোঃ মাহমুদুল হক, মোঃ রশিদ মিয়া, মোঃ ছানা মিয়া, মোঃ আলামিন, মোঃ জাহাঙ্গীর মিয়া, ফুল মিয়া, হুমায়ুন মিয়া এবং মোঃ মহসিন মিয়া ও মাস্টার মিয়া।
এদিকে, হযরত আলীর মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও জিনিসপত্র লুটপাট করা হয়। এই ঘটনায় বানিয়াচংসহ বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা হযরত আলী হত্যার পাশাপাশি ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনারও সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‎সিলেট ওসমানী মেডিকেলে বানিয়াচংয়ের কুখ্যাত দালাল চক্রের মুলহোতা আটক।

বানিয়াচংয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত, ৫৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের

সময় ০৫:১৫:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ জুন ২০২৫

হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার কাগাপাশা ইউনিয়নের বাতাকান্দি গ্রামে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে হযরত আলী (৫৫) নামে একজন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় ৫৭ জনকে আসামি করে বানিয়াচং থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। সংঘর্ষের পর প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে।
রবিবার (৮ জুন) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বাতাকান্দি গ্রামের উসমান মিয়া ও হারুন মিয়ার লোকজনের মধ্যে পূর্ববিরোধের জেরে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী চলা এই সংঘর্ষে হারুন মিয়ার পক্ষের হযরত আলী গুরুতর আহত হন। তাকে হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
নিহতের ভাই মস্ত মিয়া জানান, বিকেলে নতুন হাটিতে উসমান মিয়ার চাচা রহিম মিয়া ও হযরত আলীর মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। তিনি আরও জানান, তাদের পক্ষের অন্তত ৩০-৪০ জন আহত হয়েছেন এবং তাদেরকে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ঘটনার পর কাগাপাশা ইউনিয়নের বিট পুলিশ কর্মকর্তা এসআই রূপক দাসের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এসআই রূপক দাস জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে উসমান মিয়াকে তার নানার বাড়ি কাগাপাশা ইউনিয়নের বগী গ্রাম থেকে আটক করা হয়েছে।
১০ জুন মঙ্গলবার নিহত হযরত আলীর ছেলে হোসেন মিয়া বাদী হয়ে বানিয়াচং থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় উসমান মিয়াকে প্রধান আসামি করে আরও ৫৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অন্য আসামিরা হলেন: মোঃ রফিক মিয়া, আব্দুর রহিম মিয়া, আব্দুল মতিন, মোঃ হাফিজুর রহমান, মোঃ আনোয়ার হোসেন, মোঃ ধন মিয়া, মোঃ খোকন মিয়া, মোঃ ফাইজুল হক, মোঃ লেছু মিয়া, মোঃ লিটন মিয়া, মোঃ কাউছার মিয়া, মোঃ মামুন মিয়া, মোঃ হারুন মিয়া, মোঃ ইমন মিয়া, মোঃ মালেক মিয়া, মোঃ রফিজ মিয়া, মোঃ সাইফুর রহমান, ফারুক মিয়া, মোঃ সিজিল মিয়া, নুরচান মিয়া, মোঃ লালচান মিয়া, মোঃ এমরান মিয়া, মোঃ নয়ন মিয়া, মোঃ হাবিবুর রহমান, ইজাজুল মিয়া, মোঃ জাবেদ মিয়া, মোঃ সাইকুল মিয়া, মোঃ রায়হান মিয়া, মোঃ আলফু মিয়া, মোঃ সাহিদুল ইসলাম, মোঃ মনির মিয়া, মোঃ জিবন মিয়া, মোঃ মিলন মিয়া, আঃ হেকিম, মোঃ মিজান মিয়া, সোহাগ মিয়া, হাদিছ মিয়া, মোঃ তহিদুল ইসলাম, মোঃ ইদু মিয়া, মোঃ নজরুল ইসলাম, মোঃ আবু তাহের, আব্দুর রেজাক, মোঃ লাল মিয়া, মোঃ নানদু মিয়া, মোঃ আমির হোসেন, আবু কালাম, মোঃ রুবেল মিয়া, মোঃ মাহমুদুল হক, মোঃ রশিদ মিয়া, মোঃ ছানা মিয়া, মোঃ আলামিন, মোঃ জাহাঙ্গীর মিয়া, ফুল মিয়া, হুমায়ুন মিয়া এবং মোঃ মহসিন মিয়া ও মাস্টার মিয়া।
এদিকে, হযরত আলীর মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও জিনিসপত্র লুটপাট করা হয়। এই ঘটনায় বানিয়াচংসহ বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা হযরত আলী হত্যার পাশাপাশি ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনারও সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।