সিলেট ০৯:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
News Title :
‎বিয়ানীবাজারে দেনাদার-পাওনাদার পাল্টাপাল্টি মামলা ‎বিশ্বনাথে সাবেক স্বামীর বিরুদ্ধে‎ধর্ষণের অভিযোগ সাবেক স্ত্রীর! ‎টাঙ্গাইলে এসএসসি ভুয়া প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের সক্রিয় সদস্য গ্রেফতার ‎হবিগঞ্জে কালী মন্দিরে চুরি:প্রতিমার স্বর্ণালংকার ও দানবাক্সের টাকা লুট ৩০ অক্টোবর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কেন্দ্রীয় ইজতেমা সফলের লক্ষ্যে আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলামের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত নবীগঞ্জে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে ৬ আসামি গ্রেপ্তার‎ ‎সিলেটে বিজিবি সদস্য মাসুম বিল্লাহ হত্যা মামলার পলাতক আসামি গ্রেফতার ‎এম.এ. মান্নান প্রাথমিক মেধা বৃত্তি পরীক্ষার বৃত্তি ও সনদ প্রদান অনুষ্ঠান সম্পন্ন‎ ‎গোয়াইনঘাটে চাঞ্চল্যকর ইয়াহিয়া হত্যা মামলা: মানিকগঞ্জ থেকে পলাতক আসামি গ্রেফতার ‎গোলাপগঞ্জে র‍্যাবের অভিযান: ৩৮ লক্ষ টাকার ভারতীয় জিরা ও কসমেটিক্স সহ গ্রেফতার ২
‎১০ কোটি টাকা নিয়ে উধাও আদম ব্যাবসায়ী ..

‎বিয়ানীবাজারে দেনাদার-পাওনাদার পাল্টাপাল্টি মামলা






‎সিলেটের বিয়ানীবাজার থেকে ইতালী যেতে ইচ্ছুক শতাধিক ভূক্তভোগীর মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে আত্মগোপনে থাকা আদম ব্যবসায়ীর পক্ষে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আবার পাওনাদারদের পক্ষে এক ব্যক্তি পৃথক আরেকটি মামলা দায়ের করেছেন। পাল্টাপাল্টি মামলার তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় থানা পুলিশ। বিষয়টি এখন উপজেলার সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা।

‎জানা যায়, গত ২০ এপ্রিল সিলেটের জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ১ম ও দ্রুত বিচার আদালতে আদম ব্যবসায়ী দেলওয়ার হোসেনের স্ত্রী নাদিয়া আক্তার বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। এতে মাথিউরা খলাগ্রামের রহিম উদ্দিনের ছেলে শিপলু আহমদ (৪০), আলম আহমদ (৩৫) ও ইমন আহমদ (৩০), কান্দিগ্রামের রফিক উদ্দিনের ছেলে সাহেদ আহমদ (২৫), খলাগ্রামের মরম উদ্দিনের ছেলে আমজাদ হোসেন (৩০), গোলাপগঞ্জের বাগলা গ্রামের কবির আহমদ পিরেরচক গ্রামের সাইব উদ্দিনের ছেলে ইকবাল আহমদ (৪০) সহ অজ্ঞাতনামা ২০-২৫ জনকে আসামী করা হয়। মামলার এজাহারে গত ১৭ এপ্রিল আসামীগণ কর্তৃক বসতবাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে শক্তি প্রদর্শন পরবর্তী ধনসম্পত্তি লুটপাট করার চেষ্টা, সিসি ক্যামেরা ভাংচুর, মব সৃষ্টি করে হত্যার চেষ্টা করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

‎আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। বিয়ানীবাজার থানার এসআই আক্তারুজ্জামান এটি তদন্ত করছেন। অপরদিকে গত ২৪ এপ্রিল পাওনাদারদের পক্ষে মাথিউরার দুধবকশি গ্রামের বাহা উদ্দিনের ছেলে আজিম উদ্দিন বিয়ানীবাজার থানায় একটি প্রতারণা মামলা দায়ের করেন। এতে জলঢুপ পাড়িয়াবহর গ্রামের সফাত আলীর ছেলে দেলওয়ার হোসেন (৪৫), আরকান আলীর ছেলে সফাত আলী (৬০), সফাত আলীর ছেলে ইকবাল হোসেন (৩৭), তারেক হোসেন (৩০), তাহের হোসেন (২৭), কাওসার আহমদ (৩০) কে আসামী করা হয়েছে।

‎অপরাধমুলক বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে বাদীর ১৩ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এই মামলা দায়ের করা হয়। বিয়ানীবাজার থানার এসআই রফিকুল ইসলাম মামলাটি তদন্ত করছেন।

‎ভূক্তভোগীরা জানান, আদম ব্যবসায়ী কাওছার হোসেন ইতালীতে বসবাস করেন। সে সুযোগ নিয়ে তিনি প্রথমদিকে ১০-১২জন লোককে কৃষি ভিসায় ইতালী নিয়ে যান। এমন খবর সর্বত্র জানাজানি হলে ইউরোপগামী মানুষের লাইন পড়ে কাওছারের বাড়িতে। একপর্যায়ে জনপ্রতি ১৪-১৫ লক্ষ টাকা নির্ধারণ করে ইতালী যেতে রাজি হন স্থানীয়রা। এদের মধ্যে কেউ নির্ধারিত টাকার পুরোটা আবার কেউ আংশিক কাওছারের দেশে থাকা ভাই দেলোওয়ার হোসেনের কাছে তুলে দেন। যার পরিমাণ ১০ কোটি টাকার উপরে হবে বলে জানান তারা। অপরদিকে প্রায় ৪-৫ বছর ধরে ইতালী যেতে না পারা লোকজন টাকার জন্য চাপ দেন দেলোওয়ার-কাওছারকে। উপায় না পেয়ে কাওছার ইতালী থেকে অন্যত্র গিয়ে আত্মগোপন করেন। আর দেলোওয়ার হয়ে যান লাপাত্তা। এমন অবস্থায় ১৭ এপ্রিল ভুক্তভোগীরা অভিযুক্তদের বাড়ি ঘেরাও করেন। মধ্যরাতে প্রশাসন গিয়ে তাদের ফিরিয়ে নিয়ে আসে।

‎দেলওয়ার-কাওছারের পিতা সফাত আলী অজ্ঞাতস্থান থেকে টেলিফোনে জানান, ইতালী দূতাবাস বাংলাদেশীদের জন্য ভিসা প্রদান বন্ধ করে দেয়ায় আমার ছেলেরা বিপাকে পড়েছে।

‎বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ মো: ওমর ফারুক বলেন, সার্বিক দিক বিবেচনায় নিয়ে আমরা মামলা দু’টি তদন্ত করছি। বিশেষ করে দেলওয়ারকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‎বিয়ানীবাজারে দেনাদার-পাওনাদার পাল্টাপাল্টি মামলা

‎১০ কোটি টাকা নিয়ে উধাও আদম ব্যাবসায়ী ..

‎বিয়ানীবাজারে দেনাদার-পাওনাদার পাল্টাপাল্টি মামলা

সময় ০৬:০১:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬






‎সিলেটের বিয়ানীবাজার থেকে ইতালী যেতে ইচ্ছুক শতাধিক ভূক্তভোগীর মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে আত্মগোপনে থাকা আদম ব্যবসায়ীর পক্ষে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আবার পাওনাদারদের পক্ষে এক ব্যক্তি পৃথক আরেকটি মামলা দায়ের করেছেন। পাল্টাপাল্টি মামলার তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় থানা পুলিশ। বিষয়টি এখন উপজেলার সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা।

‎জানা যায়, গত ২০ এপ্রিল সিলেটের জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ১ম ও দ্রুত বিচার আদালতে আদম ব্যবসায়ী দেলওয়ার হোসেনের স্ত্রী নাদিয়া আক্তার বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। এতে মাথিউরা খলাগ্রামের রহিম উদ্দিনের ছেলে শিপলু আহমদ (৪০), আলম আহমদ (৩৫) ও ইমন আহমদ (৩০), কান্দিগ্রামের রফিক উদ্দিনের ছেলে সাহেদ আহমদ (২৫), খলাগ্রামের মরম উদ্দিনের ছেলে আমজাদ হোসেন (৩০), গোলাপগঞ্জের বাগলা গ্রামের কবির আহমদ পিরেরচক গ্রামের সাইব উদ্দিনের ছেলে ইকবাল আহমদ (৪০) সহ অজ্ঞাতনামা ২০-২৫ জনকে আসামী করা হয়। মামলার এজাহারে গত ১৭ এপ্রিল আসামীগণ কর্তৃক বসতবাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে শক্তি প্রদর্শন পরবর্তী ধনসম্পত্তি লুটপাট করার চেষ্টা, সিসি ক্যামেরা ভাংচুর, মব সৃষ্টি করে হত্যার চেষ্টা করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

‎আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। বিয়ানীবাজার থানার এসআই আক্তারুজ্জামান এটি তদন্ত করছেন। অপরদিকে গত ২৪ এপ্রিল পাওনাদারদের পক্ষে মাথিউরার দুধবকশি গ্রামের বাহা উদ্দিনের ছেলে আজিম উদ্দিন বিয়ানীবাজার থানায় একটি প্রতারণা মামলা দায়ের করেন। এতে জলঢুপ পাড়িয়াবহর গ্রামের সফাত আলীর ছেলে দেলওয়ার হোসেন (৪৫), আরকান আলীর ছেলে সফাত আলী (৬০), সফাত আলীর ছেলে ইকবাল হোসেন (৩৭), তারেক হোসেন (৩০), তাহের হোসেন (২৭), কাওসার আহমদ (৩০) কে আসামী করা হয়েছে।

‎অপরাধমুলক বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে বাদীর ১৩ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এই মামলা দায়ের করা হয়। বিয়ানীবাজার থানার এসআই রফিকুল ইসলাম মামলাটি তদন্ত করছেন।

‎ভূক্তভোগীরা জানান, আদম ব্যবসায়ী কাওছার হোসেন ইতালীতে বসবাস করেন। সে সুযোগ নিয়ে তিনি প্রথমদিকে ১০-১২জন লোককে কৃষি ভিসায় ইতালী নিয়ে যান। এমন খবর সর্বত্র জানাজানি হলে ইউরোপগামী মানুষের লাইন পড়ে কাওছারের বাড়িতে। একপর্যায়ে জনপ্রতি ১৪-১৫ লক্ষ টাকা নির্ধারণ করে ইতালী যেতে রাজি হন স্থানীয়রা। এদের মধ্যে কেউ নির্ধারিত টাকার পুরোটা আবার কেউ আংশিক কাওছারের দেশে থাকা ভাই দেলোওয়ার হোসেনের কাছে তুলে দেন। যার পরিমাণ ১০ কোটি টাকার উপরে হবে বলে জানান তারা। অপরদিকে প্রায় ৪-৫ বছর ধরে ইতালী যেতে না পারা লোকজন টাকার জন্য চাপ দেন দেলোওয়ার-কাওছারকে। উপায় না পেয়ে কাওছার ইতালী থেকে অন্যত্র গিয়ে আত্মগোপন করেন। আর দেলোওয়ার হয়ে যান লাপাত্তা। এমন অবস্থায় ১৭ এপ্রিল ভুক্তভোগীরা অভিযুক্তদের বাড়ি ঘেরাও করেন। মধ্যরাতে প্রশাসন গিয়ে তাদের ফিরিয়ে নিয়ে আসে।

‎দেলওয়ার-কাওছারের পিতা সফাত আলী অজ্ঞাতস্থান থেকে টেলিফোনে জানান, ইতালী দূতাবাস বাংলাদেশীদের জন্য ভিসা প্রদান বন্ধ করে দেয়ায় আমার ছেলেরা বিপাকে পড়েছে।

‎বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ মো: ওমর ফারুক বলেন, সার্বিক দিক বিবেচনায় নিয়ে আমরা মামলা দু’টি তদন্ত করছি। বিশেষ করে দেলওয়ারকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।