সিলেট ১০:৪২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬
News Title :
নবীগঞ্জ-বানিয়াচং সড়কে মাইক্রোর ধাক্কায় সিএনজি চূর্ণ-বিচূর্ণ: চিকিৎসাধীন অবস্থায় বানিয়াচংয়ের আব্দুল খালিকের মৃত্যু, আহত ২‎ ‎সিলেটে সিএনজি-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে শিশু নিহত: ঘাতক চালক রুমেল গ্রেপ্তার ‎৩৭ বছরে চুনারুঘাট সাহিত্য-সংস্কৃতি পরিষদ, ‘বৈচিত্র্যের উৎসব ‎সিলেটে শব্দ ও পরিবেশ দূষণের দায়ে ১৪ ট্রাকচালককে জরিমানা ‎লাউয়াছড়ায় পাহাড়িকা এক্সপ্রেসের বগির হুক ছিঁড়ে রেল যোগাযোগ বন্ধ‎ ১৪৯ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বায়োমেট্রিক হাজিরা চালুর উদ্যোগ মাধবপুরে ‎গোয়াইনঘাট প্রেসক্লাবে টানা দ্বিতীয়বার সাধারণ সম্পাদক হচ্ছেন কে এম লিমন জামালপুরে ট্রেনের ধাক্কায় বয়োবৃদ্ধ জেলের মর্মান্তিক মৃত্যু জামালপুরে ৫ম উপজেলা কাব ক্যাম্পুরী উদ্বোধনে আদর্শিক চর্চা বাড়ানোর আহ্বান এমপি মামুনের কুলাউড়ায় ৮ হাজারের বেশি পানগাছ রাতে আঁধারে কেটে ফেলেছে দূর্বৃত্তরা!

‎বানিয়াচংয়ে অকাল বন্যায় ডুবছে কৃষকের স্বপ্ন: ফসল রক্ষায় লড়ছেন দিশেহারা কৃষক


ফসল বাঁচাতে কৃষকদের বাঁধ দিতে প্রাণপনে চেষ্টা

‎

হাওরজুড়ে এখন থাকার কথা ছিল সোনালি ধানের সুবাস। আর মাত্র কয়েকদিন পরই গোলায় ধান তোলার উৎসবে মাততেন কৃষকরা। কিন্তু প্রকৃতির নিষ্ঠুরতায় সেই স্বপ্ন এখন ফিকে হয়ে আসছে। চৈত্রের অতিবৃষ্টি আর উজানের ঢলে বানিয়াচং ও আজমিরীগঞ্জ উপজেলার বিস্তীর্ণ হাওরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় পাকার আগেই তলিয়ে যাচ্ছে বোরো ধান। বছরের একমাত্র জীবিকার সম্বল হারিয়ে পথে বসার উপক্রম হয়েছে হাজারো কৃষকের।

‎সরেজমিনে দেখা গেছে, বানিয়াচং ও আজমিরীগঞ্জ উপজেলার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত ঘাগড়া কুনা, কর্ণপুর, নাইসরিয়া, জিলুয়া, আরিয়ামুগুর ও নোয়াগড়সহ বেশ কয়েকটি হাওরের ফসলি জমি এখন পানির নিচে। পানি নিষ্কাশনের বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানি জমে ধান পচতে শুরু করেছে। কৃষকদের অভিযোগ, এলাকায় স্থায়ী ফসল রক্ষা বাঁধ না থাকায় সামান্য ঢলে বা বৃষ্টিতেই পানি সরাসরি জমিতে ঢুকে পড়ছে।

‎ফসলি জমি রক্ষায় প্রশাসনের অপেক্ষায় না থেকে নিজেরাই কোমর বেঁধে নেমেছেন কৃষকরা। বানিয়াচংয়ের সৈদ্দারঠুলা, মাতাপুর, তকবাজখানী, আমীর খানী, চানপাড়া ও আজমিরীগঞ্জের কয়েক শ’ কৃষক সম্মিলিতভাবে শিংঘুয়ার হাওরসহ বিভিন্ন স্থানে বাঁধ দিয়ে পানি আটকানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। কাদা-মাটি আর পানির সাথে যুদ্ধ করে সারা বছরের খোরাকি বাঁচানোর এই লড়াইয়ে কৃষকদের চোখে-মুখে এখন কেবলই অনিশ্চয়তা।

‎অনেক কৃষক চড়া সুদে ঋণ নিয়ে বোরো আবাদ করেছিলেন। ধান ঘরে তুলতে না পারলে ঋণের টাকা পরিশোধ করা তো দূরের কথা, পরিবারের সারা বছরের ভরণপোষণ জোগানোই অসম্ভব হয়ে পড়বে।

‎হাওরে ফসল রক্ষার কোনো বাঁধ নাই। যদি সময়মতো পানি আটকানো বা বের করার ব্যবস্থা থাকতো, তবে আমাদের আধাপাকা ধানগুলো এভাবে ডুবতো না। এখন আল্লাহ ছাড়া আমাদের আর কেউ নেই। — ক্ষোভ ও দুঃখ নিয়ে জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কৃষক।

‎আবহাওয়া বর্তমানে চরম প্রতিকূল অবস্থায় রয়েছে। কখনও কড়া রোদ, আবার পরক্ষণেই নামছে মুষলধারে বৃষ্টি। প্রায় প্রতিদিনই ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় পানি দ্রুত বাড়ছে। যদি বৃষ্টি না কমে, তবে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

‎বানিয়াচং ও আজমিরীগঞ্জের প্রান্তিক কৃষকদের এই সংকটময় মুহূর্তে সরকারি সহযোগিতা এবং দ্রুত পানি নিষ্কাশন ও টেকসই বাঁধ নির্মাণের দাবি এখন এ অঞ্চলের মানুষের মুখে মুখে।

‎

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নবীগঞ্জ-বানিয়াচং সড়কে মাইক্রোর ধাক্কায় সিএনজি চূর্ণ-বিচূর্ণ: চিকিৎসাধীন অবস্থায় বানিয়াচংয়ের আব্দুল খালিকের মৃত্যু, আহত ২‎

‎বানিয়াচংয়ে অকাল বন্যায় ডুবছে কৃষকের স্বপ্ন: ফসল রক্ষায় লড়ছেন দিশেহারা কৃষক

সময় ১১:৩২:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬


ফসল বাঁচাতে কৃষকদের বাঁধ দিতে প্রাণপনে চেষ্টা

‎

হাওরজুড়ে এখন থাকার কথা ছিল সোনালি ধানের সুবাস। আর মাত্র কয়েকদিন পরই গোলায় ধান তোলার উৎসবে মাততেন কৃষকরা। কিন্তু প্রকৃতির নিষ্ঠুরতায় সেই স্বপ্ন এখন ফিকে হয়ে আসছে। চৈত্রের অতিবৃষ্টি আর উজানের ঢলে বানিয়াচং ও আজমিরীগঞ্জ উপজেলার বিস্তীর্ণ হাওরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় পাকার আগেই তলিয়ে যাচ্ছে বোরো ধান। বছরের একমাত্র জীবিকার সম্বল হারিয়ে পথে বসার উপক্রম হয়েছে হাজারো কৃষকের।

‎সরেজমিনে দেখা গেছে, বানিয়াচং ও আজমিরীগঞ্জ উপজেলার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত ঘাগড়া কুনা, কর্ণপুর, নাইসরিয়া, জিলুয়া, আরিয়ামুগুর ও নোয়াগড়সহ বেশ কয়েকটি হাওরের ফসলি জমি এখন পানির নিচে। পানি নিষ্কাশনের বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানি জমে ধান পচতে শুরু করেছে। কৃষকদের অভিযোগ, এলাকায় স্থায়ী ফসল রক্ষা বাঁধ না থাকায় সামান্য ঢলে বা বৃষ্টিতেই পানি সরাসরি জমিতে ঢুকে পড়ছে।

‎ফসলি জমি রক্ষায় প্রশাসনের অপেক্ষায় না থেকে নিজেরাই কোমর বেঁধে নেমেছেন কৃষকরা। বানিয়াচংয়ের সৈদ্দারঠুলা, মাতাপুর, তকবাজখানী, আমীর খানী, চানপাড়া ও আজমিরীগঞ্জের কয়েক শ’ কৃষক সম্মিলিতভাবে শিংঘুয়ার হাওরসহ বিভিন্ন স্থানে বাঁধ দিয়ে পানি আটকানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। কাদা-মাটি আর পানির সাথে যুদ্ধ করে সারা বছরের খোরাকি বাঁচানোর এই লড়াইয়ে কৃষকদের চোখে-মুখে এখন কেবলই অনিশ্চয়তা।

‎অনেক কৃষক চড়া সুদে ঋণ নিয়ে বোরো আবাদ করেছিলেন। ধান ঘরে তুলতে না পারলে ঋণের টাকা পরিশোধ করা তো দূরের কথা, পরিবারের সারা বছরের ভরণপোষণ জোগানোই অসম্ভব হয়ে পড়বে।

‎হাওরে ফসল রক্ষার কোনো বাঁধ নাই। যদি সময়মতো পানি আটকানো বা বের করার ব্যবস্থা থাকতো, তবে আমাদের আধাপাকা ধানগুলো এভাবে ডুবতো না। এখন আল্লাহ ছাড়া আমাদের আর কেউ নেই। — ক্ষোভ ও দুঃখ নিয়ে জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কৃষক।

‎আবহাওয়া বর্তমানে চরম প্রতিকূল অবস্থায় রয়েছে। কখনও কড়া রোদ, আবার পরক্ষণেই নামছে মুষলধারে বৃষ্টি। প্রায় প্রতিদিনই ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় পানি দ্রুত বাড়ছে। যদি বৃষ্টি না কমে, তবে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

‎বানিয়াচং ও আজমিরীগঞ্জের প্রান্তিক কৃষকদের এই সংকটময় মুহূর্তে সরকারি সহযোগিতা এবং দ্রুত পানি নিষ্কাশন ও টেকসই বাঁধ নির্মাণের দাবি এখন এ অঞ্চলের মানুষের মুখে মুখে।

‎