
হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল চুরির অভিযোগে একজনকে আটক করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। উপজেলার করাব ও লাখাই ১নং ইউনিয়নে খাদ্যবান্ধব ডিলারদের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ১৬ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার বিকেলে করাব গ্রাম থেকে ইজিবাইক (টমটম) যোগে তিন বস্তা চাল হবিগঞ্জ শহরে পাচারের সময় জাকারিয়া চৌধুরী রতনকে হাতেনাতে আটক করে সেনাবাহিনী। আটক রতন করাব গ্রামের মৃত কছির মিয়ার ছেলে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আরও ১৩ বস্তা চাল জব্দ করা হয়। মোট ১৬ বস্তা সরকারি চাল উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযুক্ত জাকারিয়া চৌধুরী রতন জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছিলেন। এই সিন্ডিকেটের অন্য সদস্যরা হলেন লাখাই ১নং ইউনিয়নের খাদ্যবান্ধব ডিলার মোজাম্মিল হক ও তার ভাই তোফাজ্জল হক। ৫ই আগস্টের পটপরিবর্তনের পর এই চক্রটির দৌরাত্ম্য আরও বৃদ্ধি পায় বলে স্থানীয় বিএনপি কর্মীরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেছেন।
লাখাই ১নং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরিফ আহমেদ রোপন জানান, জাকারিয়া চৌধুরী রতন করাব ইউনিয়নের বাসিন্দা হওয়া সত্ত্বেও লাখাই ইউনিয়ন থেকে ট্রেড লাইসেন্স নেওয়ার জন্য ব্যাপক দৌড়ঝাঁপ করেন। চেয়ারম্যান তাকে লাইসেন্স না দিলে তিনি কৌশলে মোজাম্মেল হককে ব্যবহার করে লাইসেন্স সংগ্রহ করেন।
অভিযোগ রয়েছে, মোজাম্মেল হক খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার হওয়া সত্ত্বেও একই ঘরে টিসিবি ডিলারশিপের জন্য আবেদন করেছেন, যা সরকারি নীতিমালার পরিপন্থী। এছাড়া একই পরিবারের সদস্য মোজাম্মেল ও তার ভাই তোফাজ্জল উভয়েই টিসিবির ডিলারশিপ পাওয়ার জন্য তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন।
কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, কার্ডধারী অনেক সুবিধাভোগী চাল নিতে না আসলেও তাদের নামে ভুয়া মাস্টাররোল তৈরি করে চাল আত্মসাৎ করা হতো। প্রতিবাদ করলে লাঞ্ছিত হওয়ার ভয়ে সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে সাহস পেত না। দীর্ঘদিনের এই অনিয়মের অবসান ঘটিয়ে সুস্থ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
এ বিষয়ে লাখাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুরাদ ইসলাম বলেন,চালসহ একজনকে আটক করা হয়েছে এবং মোট ১৬ বস্তা চাল জব্দ করা হয়েছে। আরও কোথাও চাল মজুত আছে কি না তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্ত ডিলারের লাইসেন্স বাতিলের জন্য আমরা ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠিয়েছি।
উল্লেখ্য, জাকারিয়া চৌধুরী রতন আটক হওয়ার পর থেকে সিন্ডিকেটের অন্য সদস্যরা পলাতক রয়েছেন। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।
বিল্লাল আহমেদ, লাখাই (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি 







